শৈশবের স্মৃতি

 

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেই সোনালী দিনগুলো: একদল সহপাঠীর একসাথে ফ্রেমবন্দী কিছু স্মৃতি।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেই সোনালী দিনগুলো: একদল সহপাঠীর একসাথে ফ্রেমবন্দী কিছু স্মৃতি।

​চলো অতিতে

সময় পেছনে ফেলে আসার মতো কোনো শক্ত রশি আমাদের হাতে থাকে না। নদী যেমন তার উৎসভূমিকে ভুলে সামনের সমুদ্রে ধাবিত হয়, মানুষও তেমনি বয়সের ধারালো স্রোতে ভেসে গিয়ে একদিন কোনো অপরিচিত শহরের চার দেয়ালে থিতু হয়। কিন্তু রাতের কোলাহল যখন স্তব্ধ হয়ে আসে, যখন গাজীপুরের মাওনার কারখানার সাইরেন কিংবা যান্ত্রিক গুঞ্জন থেমে চারপাশ নিথর হয়ে পড়ে, তখন স্মৃতির আলপথ ধরে মন ছুটে যায় বহুদূরে।

​পিছনে ফিরে যাওয়ার এই তীব্র ব্যাকুলতা, অতীতের চেনা মাটিকে স্পর্শ করার এই যে অবুঝ তৃষ্ণা—একে হয়তো এক শব্দে বলা যায়: Go Back।

​পেছনে ফিরে যাওয়ার এই যাত্রায় কোনো টিকিট লাগে না, বাস কিংবা ট্রেনের সময়সূচির ওপর নির্ভর করতে হয় না। শুধু চোখ দুটি বুজলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার সেই ছোট্ট সবুজ গ্রাম—তামাই। যে গ্রামে ধুলোবালি মেখে আমার শৈশব ডানা মেলেছিল, যেখানে প্রতিটি ধানের শীষে, প্রতিটি গলিতে এবং ক্ষয়ে যাওয়া মেঠো পথে লেখা আছে আমার বেড়ে ওঠার গল্প।

​আমি আজ যেখানেই থাকি না কেন, আমার হৃদয়ের একটা বিশাল অংশ চিরকালের জন্য আটকে আছে সেই প্রাথমিক বিদ্যাপীঠের প্রাঙ্গণে, মাধ্যমিকের পুরনো শ্রেণীকক্ষে, বিকেলবেলার ফুটবল মাঠে এবং শৈশবের সেই বন্ধুদের আড্ডায়।

​ধুলোমাখা শৈশব ও তামাই যুক্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

​আমার জীবনের প্রথম অধ্যায়টি রচিত হয়েছিল তামাই যুক্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেই ২০১৩ সালের আগের দিনগুলোর কথা মনে পড়লে আজও বুকের ভেতরটা কেমন যেন হু হু করে ওঠে।

​তখন সকালের সূর্যটা উঠত অন্যরকম এক আলো নিয়ে। পায়ে জুতো থাক বা না থাক, পিঠে বইয়ের ব্যাগ ঝুলিয়ে মেঠো পথ ধরে দৌড়ে স্কুলে যাওয়ার মধ্যে যে অনাবিল আনন্দ ছিল, তা আজকের এই যান্ত্রিক জীবনের কোনো সুখের সঙ্গেই মেলানো যায় না। স্কুলের বারান্দা, লাল ইটের গাঁথুনি, আর প্রাঙ্গণের পুরনো গাছটি—সবই যেন ছিল আমাদের শৈশবের নীরব সাক্ষী।

​স্কুলের সেই দিনগুলোতে আমার চারপাশে ছিল একঝাঁক প্রাণোচ্ছ্বল মুখ—তারেক, বেদারুল, মোহাম্মদ আলী, জাকারিয়া, ইয়াকুব আর সিজান। আমরা শুধু একই শ্রেণীকক্ষের সহপাঠী ছিলাম না, ছিলাম এক একটা অবিচ্ছেদ্য সত্তা। টিফিনের ঘণ্টা বাজলেই শুরু হতো আমাদের আসল রাজ্য। পকেট থেকে ছোট কাঠের লাটিম, মার্বেল কিংবা কাগজের প্লেন বের করার প্রতিযোগিতা চলত।

​গ্রীষ্মের প্রখর দুপুরে স্কুলের পাশের কোনো আমগাছের ছায়ায় বসে আম কুড়ানোর আনন্দ কিংবা সামান্য তেঁতুলের আচার ভাগ করে খাওয়ার যে অনুভূতি—তা পৃথিবীর সেরা কোনো রেস্তোরাঁর খাবারের চেয়েও দামী ছিল।

​পড়াশোনা শেষ করে যখন ছুটির ঘণ্টা বাজত, ঢং ঢং শব্দটা কানে পৌঁছানো মাত্রই এক লাফ দিয়ে আমরা বের হয়ে যেতাম স্কুলের গেট দিয়ে। কেউ কারও ব্যাগ টেনে ধরত, কেউ ধুলো উড়িয়ে দৌড় লাগাত। তখন আমাদের কোনো ভবিষ্যৎ চিন্তার বোঝা ছিল না, ছিল না জীবনযুদ্ধের কোনো ক্লান্তি। আমাদের একমাত্র ভাবনা ছিল—আজ বিকেলে খেলাটা কোথায় হবে?

​ বিকেলের মাঠ, ফুটবল আর ধূলোবালি

বিকেলের মাঠ, ফুটবল আর ধূলোবালি
আমাদের ছোট্ট সেই ফুটবল টিম


​বাঙালি শৈশবের প্রাণ থাকে বিকেলের খেলার মাঠে। আমাদেরও তার ব্যতিয়ক্রম ছিল না। সূর্য যখন পশ্চিম আকাশে হেলতে শুরু করত, তখন তামাইয়ের চেনা মাঠগুলো আমাদের কোলাহলে মুখরিত হয়ে উঠত।

​ফুটবল ছিল আমাদের রক্তে। একটা সামান্য প্লাস্টিকের বল কিংবা কোনোমতে জমানো টাকায় কেনা একটি চামড়ার ফুটবলই আমাদের জন্য ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ধন। আমাদের কোনো চকচকে স্পোর্টস শু ছিল না, পায়ে দামি বুট ছিল না; খালি পায়ে ঘাস আর ধুলোর ওপর দৌড়ানোর মধ্যেই ছিল আসল উত্তেজনা।

​খেলার মাঠে কোনো বাঁধাধরা নিয়ম ছিল না। গোলপোস্ট বলতে ছিল দুটো ইট কিংবা দুটো কাঠের খুঁটি। কখনো কখনো মাঠের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে প্রচণ্ড তর্ক হতো। তারেক, বেদারুল, মোহাম্মদ আলীদের নিয়ে দল ভাগ হতো। যে দল জিতত, তাদের উল্লাস যেন আকাশ ছুঁতো; আর যে দল হারত, তাদের মুখ থাকত মলিন, তবে সেই মলিনতা মুছে যেত পরদিনই আবার মাঠে নামার শর্তে।

​বর্ষাকালের ফুটবল খেলার স্মৃতিগুলো আরও বেশি জীবন্ত। তাছাড়া নিয়মিত আয়োজন হতো বিবাহিত ও অবিবাহিত ফুটবল ম্যাচ।আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামলে মাঠ যখন কাদায় থইথই করত, আমরা তখন ঘরে বন্দি থাকতে পারতাম না। কাদা মাখা গায়ে ফুটবলে লাথি মারা, পিছলে পড়ে যাওয়া, আর গোল দেওয়ার পর কাদাতেই গড়াঘড়ি দেওয়া—সেই উন্মাদনা আজও আমার মনে এক পরম শিহরণ জাগায়। বাড়ি ফেরার পর মায়ের বকুনি কিংবা শাসন—সবই যেন ছিল সেই শৈশবের মধুর উপজাত।

​সেই দিনগুলোতে কোনো ডিজিটাল স্ক্রিন ছিল না, মনের ওপর কোনো মানসিক চাপ ছিল না। আমাদের সমস্ত দুঃখ মুছে যেত বিকেলের এক চিলতে রোদ আর একটা ফুটবলের স্পর্শে।

​ কৈশোরের বারান্দা ও তামাই বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়

তামাই বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় ব্যাচ ২০১৯
তামাই বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় ব্যাচ ২০১৯


প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়ে যখন তামাই বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ে পা রাখলাম, তখন শৈশব ধীরে ধীরে ডানা গুটিয়ে কৈশোরে রূপ নিচ্ছিল। মাধ্যমিকের সেই বছরগুলো ছিল আমাদের জীবনের সবচেয়ে রঙিন এবং রূপান্তরের অধ্যায়।

​স্কুলের পোশাকটা বদলে গেল, বইয়ের সংখ্যা বাড়ল, আর সেই সঙ্গে বাড়ল বন্ধুদের সঙ্গে বন্ধনের গভীরতা। তামাই বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রতিটি করিডোর, ক্লাসরুমের কাঠের বেঞ্চগুলো আমাদের কত শত গল্পের নীরব সাক্ষী।

​বেঞ্চের কোণায় কম্পাস দিয়ে নাম খোদাই করা, স্যারদের চোখ এড়িয়ে পেছনের বেঞ্চে বসে ফিসফিস করে কথা বলা, কিংবা টিফিনের সময় ক্লাসরুম আটকে আড্ডা দেওয়ার স্মৃতিগুলো আজ বড্ড বেশি কাঁদায়।

​উচ্চবিদ্যালয়ে পড়ার সময় জীবনের গভীরতা একটু একটু করে বুঝতে শুরু করেছিলাম। শুধু খেলাধুলা নয়, তখন যুক্ত হয়েছিল নানা স্বপ্নের বীজ। পরীক্ষার ফলাফলের ভয়, নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ের শিক্ষকের পড়া না পারার তাড়া, আর ক্লাসের ফাঁকে জানলা দিয়ে বাইরের আকাশ দেখার মায়াবী মুহূর্তগুলো আমাদের দিনগুলোকে ভরিয়ে রাখত।

​২০২১ সালে যখন আমাদের এইচএসসি (HSC) পরীক্ষা শেষ হলো, আমরা তখন আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানালাম আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক ছাত্রজীবনকে। কিন্তু বিদায় কি সত্যিই জানানো যায়? যে ইটের দেওয়ালে আমাদের হাসিকান্নার প্রতিধ্বনি জমা হয়ে আছে, সেখান থেকে কি কোনোদিন পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়া সম্ভব?

​পাঁচ: নদীর তীর, জোছনা রাত আর আদাচাকীর সেই চায়ের দোকান

​গ্রামের স্মৃতি শুধু স্কুলের চারদেওয়ালে সীমাবদ্ধ থাকে না। গ্রামের বাতাস, নদী আর মেঠো পথের মোড়ে মোড়ে ছড়িয়ে থাকে অজস্র গল্প।

​তামাই গ্রামের সেই বিকেল আর সন্ধ্যাগুলোর কথা মনে পড়লে মন উদাস হয়ে যায়। আজও মনে পড়ে আদাচাকীর চায়ের দোকানের কথা। একটা ছোট টিনের চালের দোকান, যার বেঞ্চিতে বসে কেটেছে কত কত ঘণ্টা। বন্ধুরা—বিশেষ করে সিয়াম, মোহাম্মদ আলীদের সঙ্গে সেই দোকানের কাঠের বেঞ্চে বসে ফুটবলের তর্ক, রোনালদো-মেসির শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে বাহাস কিংবা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা-কল্পনা করার স্মৃতি আজও জীবন্ত। এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চা আর বন্ধুদের হা-হা হাসির শব্দে সন্ধ্যার বাতাস ভারী হয়ে উঠত।

​আর যখন গ্রামে ফিরি, কিংবা অতীতে যখন পূর্ণিমার রাতে কাজীপুরা ব্রিজে গিয়ে বসতাম—সেই মুহূর্তগুলোর কোনো তুলনা হয় না। নিচে নদীর শান্ত জল, ওপরে চাঁদের রূপালী আলো, আর চারপাশে রাতের নিস্তব্ধতা। নদীর ঠাণ্ডা বাতাস যখন মুখ ছুঁয়ে যেত, আমরা বন্ধুরা চুপচাপ বসে থাকতুম। কোনো কথার প্রয়োজন হতো না, শুধু একসঙ্গে বসে থাকাটাই ছিল এক পরম অনুভূতি।

​গ্রামের নদীর পাড়, এই ব্রিজ, আর চায়ের দোকানগুলো যেন আমাদের শৈশব আর কৈশোরের সুখ-দুঃখের বিশ্বস্ত আমানতদার।

​স্মৃতির মোড় ও গাজীপুরের ব্যস্ত জীবন

​সময় কখনো এক জায়গায় থেমে থাকে না। জীবনের নির্মম বাস্তবতা আমাদের টেনে নিয়ে যায় নিজ নীড় থেকে বহু দূরে। পড়াশোনার পাট চুকিয়ে আজ আমি গাজীপুরের শ্রীপুরের মাওনা এলাকায় এক তৈরি পোশাক কারখানায় (গার্মেন্টস) কর্মরত।

আমি ও আমার কলিগ
আমি ও আমার কলিগ


​কোথায় সেই তামাই গ্রামের মেঠো পথ, আর কোথায় এই ইট-কাঠ-পাথরের ব্যস্ত শিল্পাঞ্চল!

​আজকের দিনগুলো কাটে কাজের তাগিদে, ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে তাল মিলিয়ে। এখানে বিকেলের কোনো ফুটবল মাঠ নেই, নেই আদাচাকীর চায়ের দোকানের সেই বাঁধভাঙা আড্ডা। এখানে প্রতিদিন সকালে ঘুম ভাঙার পর শুরু হয় বেঁচে থাকার লড়াই, দায়িত্ব পালনের প্রতিযোগিতা।

​কিন্তু এই ব্যস্ত জীবনের মধ্যেও স্মৃতির জানালাটা কখনো পুরোপুরি বন্ধ হয় না। রুমে যখন আবির ভাই বা সজিব মোল্লার সঙ্গে বসি, যখন রাতের কাজ শেষে নদীর পাড়ে গিয়ে একটু নিভৃতে সময় কাটাই, তখন মনটা আবার ফিরে যায় সেই অতীতে।

​মাঝে মাঝে ভাগ্যের চাকা আমাদের পুরনো স্মৃতিকে নতুন করে ছুঁয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়। এই যেমন কিছুদিন আগে—২০২৬ সালের আগস্টে—মাওনা থেকে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে যখন গাজীপুর চৌরাস্তায় পৌঁছালাম, ভিড়ের মধ্যে হঠাৎ দেখা হয়ে গেল আমার প্রাথমিকে পড়ার সেই পুরনো বন্ধু সিজানের সঙ্গে।

​কত বছর পর দেখা! মুহূর্তের মধ্যে যেন সময়ের দূরত্বটা মুছে গেল। চৌরাস্তার সেই কোলাহলের মাঝে দাঁড়িয়ে মনে হলো, আমরা আবার সেই ২০১৩ সালের তামাই যুক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছোট দুটো বাচ্চা হয়ে গেছি। সিজন যখন আমাকে উপহার হিসেবে একটি বই দিল, সেই উপহারটি কেবল একটি বই ছিল না—তা ছিল আমাদের শৈশবের ভালোবাসার এক অমূল্য স্মারক।

​অনুরূপভাবে, সজিবের সঙ্গে মাওনা থেকে গাজীপুরের ভাওয়াল রাজবাড়ীতে ঘুরতে যাওয়া কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের সাফিনা পার্কে আড্ডা দেওয়া—এসব নতুন স্মৃতি তৈরি হলেও, ভেতরের সেই পুরনো তৃষ্ণাটা মেটে না। মন চিরকাল সেই প্রথম স্পর্শ করা মাটিকেই ফিরে পেতে চায়।

​ Go Back—এক অবুঝ আকুতি

জীবনের সেরা ছবিগুলো ক্যামেরায় নয়, বন্ধুদের সাথে তৈরি হয়। 📸
এক ফ্রেমে অনেক গল্প, অনেক হাসি, অনেক আপন মানুষ। 🫶


​যদি সত্যিই কখনো কোনো জাদুর মাধ্যমে অতীতকে ফিরিয়ে আনা যেত! যদি সময়কে বলা যেত—"তুমি থামো, আমাকে আবার সেই ছোটবেলায় ফিরিয়ে নিয়ে চলো!"

​আমি আবার ফিরে যেতে চাই সেই ২০১৩ সালের আগের দিনগুলোতে। আবার সেই তামাই যুক্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ইউনিফর্ম পরে ধুলো উড়িয়ে দৌড়াতে চাই।

​আমি আবার তামাই বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের সেই কাঠের বেঞ্চিতে বসতে চাই, যেখানে পরীক্ষার কোনো ভয় ছিল না, ছিল না জীবনের কঠিন বাস্তবতার সম্মুখীন হওয়ার চিন্তা।

​আমি আবার খালি পায়ে বৃষ্টিতে ভিজে কাদা মাখা মাঠে ফুটবল খেলতে চাই। খেলা শেষে আদাচাকীর চায়ের দোকানে বন্ধুদের সঙ্গে বসে হো হো করে হাসতে চাই, আর জোছনা রাতে কাজীপুরা ব্রিজের ওপর পা ঝুলিয়ে বসে নদী আর চাঁদের আলো দেখতে চাই।

​আমি ফিরে পেতে চাই তারেক, বেদারুল, মোহাম্মদ আলী, জাকারিয়া, ইয়াকুব, সিজান আর সিয়ামদের সেই অবিচ্ছেদ্য দিনগুলো—যেখানে বন্ধুত্বের মাঝে কোনো স্বার্থ ছিল না, ছিল শুধু খাঁটি ভালোবাসা।

​কিন্তু বাস্তবতা বড় নির্মম। সময় কেবল সামনের দিকেই হাঁটে। আমরা বড় হয়ে যাই, দায়িত্বের বোঝা কাঁধে নিই, কাজের সন্ধানে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ি। কিন্তু আমাদের ভেতরের সেই ছোট মানুষটি কখনোই বড় হয় না। সে আজও আমার বুকের ভেতর লুকিয়ে আছে, আর নিশুতি রাতে ফিসফিস করে বলে—"Go Back... একবার অন্তত সেই দিনগুলোতে ফিরে চলো।"

​অতীতে হয়তো সশরীরে আর কোনোদিন ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়। তবে স্মৃতির এই মায়াবী ক্যানভাসে তামাই গ্রাম, আমার স্কুল, আমার খেলাধুলার মাঠ আর আমার প্রাণের বন্ধুরা চিরকাল বাঁচবে—একদম অমলিন, একদম জীবন্ত হয়ে।

               লেখক:জাহিদুল ইসলাম জাহিদ 

                             জাহিদ নোটস 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন