না বলা গল্প
পাভেল দুরভের অজানা গল্প
একজন সিইও যিনি না পাবলিসিটিতে থাকেন, না ইন্টারভিউ দেন। কিন্তু তবুও বিশ্বের সেরা লিডারদের সবচেয়ে বেশি চিন্তায় ফেলে রাখেন—পাভেল দুরভ।
রাশিয়ার এক ছেলে, যিনি ২০০৬ সালে একটি সোশ্যাল নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিলেন—VK। এই অ্যাপটি এতটাই জনপ্রিয় হয়েছিল যে দেখতে দেখতে এটি রাশিয়ার সবচেয়ে বড় সোশ্যাল নেটওয়ার্ক হয়ে ওঠে। কিন্তু যখন রাশিয়ান কর্তৃপক্ষ VK-এর কিছু পলিটিশিয়ান ইউজারদের ডেটা চাইলো, তখন পাভেল দুরভ সেই ডেটা দিতে পরিষ্কার না করে দেন।
যখন সরকারের চাপ বাড়তে শুরু করলো, তখন ২০১৪ সালে তাকে VK বন্ধ করে দিতে হলো। সেই সাথে তাকে রাশিয়া থেকেও বের করে দেওয়া হলো। যে দেশে তিনি জন্মেছিলেন, সেই দেশই তাকে ঘরছাড়া করে দিলো।
কিন্তু পাভেল ভেঙে পড়েননি। তিনি ভাবলেন, সরকার যদি এভাবে ডেটা নিতে পারে, তবে ইউজাররা কখনোই নিরাপদ থাকবে না। এই চিন্তা থেকেই তিনি একটি নতুন অ্যাপ তৈরি করেন—Telegram।
২০১৩ সালে শুরু হওয়া টেলিগ্রাম কেবল একটি মেসেজিং অ্যাপ ছিল না; এটি ছিল প্রাইভেসির হাতিয়ার। কোনো অ্যাড নেই, কোনো ডেটা বিক্রি নেই। ধীরে ধীরে টেলিগ্রাম পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়লো এবং ২০২৫ সালের মধ্যে টেলিগ্রামের ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) একটিভ ইউজার হয়ে যায়। আজ পাভেল দুরভের মোট সম্পদের পরিমাণ ১৫.৫ বিলিয়ন ডলার।
পাভেল দুরভ ও টেলিগ্রামের এই গল্পটি সত্যিই অনুপ্রেরণামূলক!
ফেসবুকের সবচেয়ে বড় ভুল
একটি মাত্র প্রত্যাখ্যান যেমন আপনার জীবন ধ্বংস করে দিতে পারে, তেমনি এটি আপনাকে বিলিয়নেয়ারও বানিয়ে দিতে পারে। আজ শুনুন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিজনেস কামব্যাকের কাহিনী, যা ফেসবুককেও হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করেছিল।
২০০৯ সালে এক ৩৭ বছর বয়সী বেকার সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার টুইটারে লিখেছিলেন, "ফেসবুক আমাকে রিজেক্ট করে দিয়েছে।" সেই সময়ে তার মনে হয়েছিল যে তার ক্যারিয়ার বোধহয় একটি সমাপ্তির পথে এসে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রত্যাখ্যানই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট।
সেই ব্যক্তির নাম ছিল ব্রায়ান অ্যাক্টন। ইয়াহু-তে ১১ বছর কাজ করার পরেও যখন ফেসবুক এবং টুইটারের মতো বড় বড় কোম্পানিগুলো তাকে চাকরি দিতে অস্বীকার করল, তখন তিনি হতাশ হয়ে ঘরে বসে থাকেননি। তিনি এই রিজেকশনকে নিজের দুর্বলতা নয় বরং জীবনের সবচেয়ে বড় মোটিভেশন হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।
তিনি তার বন্ধু জ্যান কোম-এর সাথে মিলে এমন একটি অ্যাপ ডিজাইন করার সিদ্ধান্ত নেন যা পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থা বদলে দেবে। তাদের লক্ষ্য ছিল একদম পরিষ্কার—জিরো অ্যাডস, জিরো ডিস্ট্রাকশন এবং কেবল পিউর মেসেজিং। আর এভাবেই জন্ম হলো WhatsApp-এর।
এরপর যা ঘটল তা ছিল এক ভয়ংকর পর্যায়ের কামব্যাক। ঠিক ৫ বছর পর অর্থাৎ ২০১৪ সালে যে ফেসবুক ব্রায়ান অ্যাক্টনকে সাধারণ একটি চাকরির যোগ্য মনে করেনি, সেই ফেসবুককেই ১৯ বিলিয়ন ডলার (অর্থাৎ প্রায় দেড় লক্ষ কোটি টাকা) দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ কিনতে হয়েছিল।
শিক্ষা: প্রত্যাখ্যানের অর্থ ব্যর্থতা নয়। রিজেকশন আসলে একটি সংকেত যে আপনি এর চেয়ে বড় কোনো কাজের জন্য তৈরি হয়েছেন। যখন কোনো কোম্পানি, কোনো মানুষ বা কোনো সুযোগ আপনার মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দেয়, তখন সেই বন্ধ দরজার সামনে দাঁড়িয়ে অভিযোগ করে কোনো লাভ নেই। নিজের রাস্তা নিজে তৈরি করুন। নিজের দক্ষতা (Skills) এতটাই উন্নত করুন এবং নিজের লক্ষ্য (Vision) এতটাই বড় রাখুন যে একদিন তারাই আপনার ক্লায়েন্ট হওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে।
মনে রাখবেন: প্রতিশোধ কখনো চিৎকার চেঁচামেচি করে নেওয়া হয় না, বরং বিপুল সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে নেওয়া হয়।
এই গল্পটি সত্যিই অসাধারণ! এটি আমাদের শেখায় যে কোনো রিজেকশনই শেষ নয় বরং এটি নতুন এক সম্ভাবনার শুরু। আপনার কি এমন কোনো অভিজ্ঞতার কথা মনে পড়ছে যখন কোনো প্রত্যাখ্যান আপনাকে আরও বড় কিছুর দিকে নিয়ে গেছে?
বিজয়ী হার
"ভাবুন তো, আপনি যদি অলিম্পিক্সে স্বর্ণপদক জিতেন, কিন্তু তবুও আপনার দেশের পতাকা না ওড়ানো হয়, তবে সেই মুহূর্তটি কতটা বেদনাদায়ক হবে!
এটি হলো ইভান লিটভিনোভিচ-এর গল্প। রাশিয়ার একজন অ্যাথলেট, যার ছোটবেলা থেকেই একটাই স্বপ্ন ছিল—নিজের দেশের জন্য স্বর্ণপদক জেতা। কিন্তু ভাগ্য তার সঙ্গে এমন এক খেলা খেলল যা সে কখনো কল্পনাও করেনি।
যুদ্ধের কারণে তার দেশ আন্তর্জাতিক খেলাধুলা থেকে নিষিদ্ধ হয়ে যায়। অর্থাৎ, সে এখন আর নিজের দেশের নামে অলিম্পিক্সে অংশ নিতে পারবে না। কিন্তু তার কাছে একটি শেষ সুযোগ ছিল—'ইন্ডিভিজুয়াল নিউট্রাল অ্যাথলেট' (AIN) হিসেবে খেলার। যেখানে না আছে দেশের নাম, না আছে দেশের পতাকা, আর না আছে দেশের জাতীয় সংগীত; শুধু আছে তার নিজের নাম।
ইভানের সামনে দুটি পথ ছিল—হয় হার মেনে নেওয়া, অথবা একা লড়াই করে জয়ী হওয়া। সে দ্বিতীয় পথটিই বেছে নিল এবং একাই অলিম্পিক্সে চলে গেল। সেখানে সে শুরু থেকেই অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখাল। সে একের পর এক সবাইকে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে গেল।
অবশেষে ফাইনালের দিন ইভান তার পারফরম্যান্স শুরু করল। তার প্রতিটি লাফ ছিল নিখুঁত, প্রতিটি ল্যান্ডিং ছিল একদম স্থির। বিচারকরাও অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত ইভান স্বর্ণপদক জিতে নিল এবং তার ইভেন্টের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন হলো।
কিন্তু সে যখন পডিয়ামে দাঁড়িয়ে ছিল, তখন না তার দেশের পতাকা ওপরে উঠছিল, আর না তার দেশের জাতীয় সংগীত বাজছিল। ভাবুন তো, যে স্বপ্নের জন্য সে সারা জীবন কঠোর পরিশ্রম করেছে, যুদ্ধের কারণে সেটি কীভাবে অসম্পূর্ণ থেকে গেল!"
বেতন দিয়ে দিতে চেয়েছিলেন রোনালদো! কেন জানেন?"
"কল্পনা করুন, আপনি রিয়াল মাদ্রিদকে আপনার জীবনের ১০টি বছর দিয়েছেন। আর যখন আপনি রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন, তখন বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো আপনাকে থামিয়ে বলছেন যে— যদি বেতনের কারণে আপনি চলে যান, তবে প্লিজ থামুন এবং আমার বেতন আপনি নিয়ে নিন।শাকারি রিচার্ডসনের অনুপ্রেরণামূলক গল্প
"প্রতিটি মানুষ যারা সফল হতে চায়, তাদের অন্তত একবার শাকারি রিচার্ডসনের গল্প শোনা উচিত। আমেরিকার একটি মেয়ে যার ছোটবেলা থেকে একটাই স্বপ্ন ছিল—ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণপদক জেতা।"
"নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে সে প্রায় পুরো ছোটবেলাটাই উৎসর্গ করে দিয়েছিল। যখন অন্য বাচ্চারা তাদের জীবন উপভোগ করছিল, সে তখন ট্র্যাকে প্র্যাকটিস করছিল। তাকে সাপোর্ট করার মতো কেউ ছিল না, সে সবকিছু একাই করেছে।"
"এখানেই একটি বিষয় বোঝা যায় যে, মানুষ কেবল ফলাফল দেখে, বছরের পরিশ্রম নয়। তারা চোখের জল দেখে না, ব্যর্থতা দেখে না, সেই রাতগুলো দেখে না যখন একজন মানুষ একা ভেঙে পড়ছিল। শুরুতে শাকারির খুব সমালোচনা করা হয়েছিল। মানুষ তাকে বিচার করেছিল, তার সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে শাকারি আরও শক্তিশালী হতে থাকল।"
"অবশেষে এল ২০২৩ সাল, ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপ। এখন তার স্বপ্ন তার সামনে দাঁড়িয়ে—১০০ মিটার দৌড় আর স্বর্ণপদক। রেস শুরু হতেই শাকারি তার বছরের পরিশ্রম ট্র্যাকে ঢেলে দিল এবং মাত্র ১০.৬৭ সেকেন্ডে রেস শেষ করে গোল্ড মেডেল জিতে নিল।"
"সে সারা বিশ্বকে দেখিয়ে দিল যে স্বপ্ন কেবল দেখাই হয় না, তা পূরণও করা যায়।"
মূল শিক্ষা
মাইকেল বি জর্ডান-এর না বলা গল্প
"এক এমন ছেলে, যার স্বপ্ন ছিল একদিন হলিউডের সুপারস্টার হওয়ার। কিন্তু মানুষ তাকে এই বলে নিয়ে মজা উড়াতো যে— তোমার গায়ের রঙ কালো, তুমি কখনো হিরো হতে পারবে না। কিন্তু আজ সেই ছেলেই হলিউডের অন্যতম বড় এবং সফল সুপারস্টারদের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।"
"এই কাহিনী হলো মাইকেল বি জর্ডান-এর। আমেরিকার এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া সেই ছেলেটি ছোটবেলা থেকেই মনে করত যে তার মধ্যে বিশেষ কিছু আছে এবং সে একদিন বড় কিছু করে দেখাবে।"
"স্কুলে অনেকেই তাকে নিয়ে মজা করত এবং বারবার তাকে এটা অনুভব করাত যে তার মধ্যে স্পেশাল কিছু নেই। কিন্তু মাইকেল এই সব মানুষের কথায় কান দেয়নি। সে ছোট ছোট রোল বা চরিত্র দিয়ে তার ক্যারিয়ার শুরু করে।"
"সে টিভি শো-তে এমন সব ছোট চরিত্রে অভিনয় করত যেখানে অধিকাংশ মানুষ তাকে লক্ষ্যই করত না। কিন্তু একদিন সে একটি ছোট সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পায়।"
"এই চরিত্রের জন্য সে তার শরীরকে পুরোপুরি বদলে ফেলে। সে দিনরাত ট্রেনিং করেছে, নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে এবং নিজের শতভাগ উজাড় করে দিয়েছে। যখন সেই সিনেমাটি মুক্তি পেল, পুরো পৃথিবী মাইকেলের অভিনয় এবং তার পরিশ্রমের ভক্ত হয়ে গেল।"
"কিন্তু মাইকেল এখানেই থেমে থাকেনি। এরপর সে 'ব্ল্যাক প্যান্থার'-এর মতো বড় বড় সিনেমায় কাজ করেছে এবং ধীরে ধীরে হলিউডের প্রভাবশালী তারকাদের একজন হয়ে উঠেছে।"
মূল শিক্ষা
গায়ের রঙ বা সামাজিক বাধা যে স্বপ্নের পথে অন্তরায় হতে পারে না, মাইকেল বি জর্ডান তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
লেডি গাগা-র না বলা গল্প
"এক এমন মেয়ে, যাকে বলা হয়েছিল তুমি কখনোই তারকা হতে পারবে না। কিন্তু আজ সেই মেয়েটিই বিশ্বের অন্যতম বড় মিউজিক আইকনদের একজন। এটি হলো লেডি গাগা-র কাহিনী।"
"নিউইয়র্কের একটি মেয়ে যার আসল নাম ছিল স্টেফানি জারমানোটা। ছোটবেলা থেকেই তার সংগীতের প্রতি গভীর ভালোবাসা ছিল। সে পিয়ানো বাজাত, গান লিখত এবং বড় কোনো স্টেজে পারফর্ম করার স্বপ্ন দেখত। কিন্তু যখন সে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখল, তাকে বারবার রিজেক্ট করা হলো।"
"একটি মিউজিক লেবেল তাকে সাইন করেছিল, কিন্তু কিছু সময় পর তাকে বের করে দেওয়া হয়। লোকজন বলত— তুমি অদ্ভূত, তোমার চেহারা ও স্টাইল আলাদা, তুমি এখানে খাপ খাও না। দীর্ঘ সময় পর্যন্ত তার হাতে কোনো কাজ ছিল না। এটি ছিল এমন এক মুহূর্ত যেখানে অধিকাংশ মানুষ হার মেনে নেয়।"
"কিন্তু গাগা নিজেকে বদলানোর পরিবর্তে বিশ্বের চিন্তাধারা বদলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। সে নিজস্ব স্টাইল তৈরি করল, নিজের আলাদা পরিচয় গড়ল এবং নিজের কণ্ঠস্বর বিশ্বের কাছে পৌঁছে দিল।"
"দীর্ঘ সংগ্রামের পর সে একটি গান লিখেছিল— 'জাস্ট ড্যান্স' (Just Dance), আর এই একটি গানই সবকিছু বদলে দিল। তার একের পর এক গান হিট হতে শুরু করল। তার অদ্ভূত স্টাইল এবং স্টেজে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স গাগাকে পুরো বিশ্বে জনপ্রিয় করে তুলল।"
"কিন্তু এই সাফল্যের পেছনে অনেক কষ্টও ছিল। তাকে মেন্টাল হেলথ ইস্যুর সাথে লড়াই করতে হয়েছে, ক্রনিক পেইন বা দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। কিন্তু সে হার মানেনি।"
মূল শিক্ষা
রজার গুয়েদেসের ঐতিহাসিক প্রতিশোধের গল্প
"এই ফুটবলার কাঁদছিলেন কারণ তার দলের সতীর্থরা তাকে উত্যক্ত (Bully) করছিল। কিন্তু এরপর যা হলো, তা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রতিশোধ হয়ে দাঁড়িয়েছে।"
"ঘটনাটি ২০১৭ সালের। রজার গুয়েদেস নামের একজন ফুটবলারের সাথে প্রতি ম্যাচে খুব খারাপ আচরণ করা হতো। মাঠের মধ্যে তার নিজের দলের সতীর্থরাই তাকে উত্যক্ত করত, লাথি মারত এবং তাকে নিয়ে হাসাহাসি করত। এমনকি তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে তার ওপর ময়লা পর্যন্ত ছুড়ে মারা হতো। তারা বলত— 'এই সবকিছু তোমাকে শক্তিশালী করার জন্য করা হচ্ছে'। কিন্তু সত্য ছিল এই যে, এই সবকিছুই রজারের জন্য অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক ও লজ্জাজনক ছিল।"
"সে এই অপমান আর সহ্য করতে পারছিল না। তার মনে এখন কেবল একটিই ইচ্ছা ছিল— প্রতিশোধ! এই কারণেই সে তার দল ছেড়ে দেয় এবং তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দলে যোগ দেয়। সেখানে সে এমন কিছু পেল যা সে আগে কখনও পায়নি। মানুষ তাকে বুঝতে পারল, তার প্রশংসা করল এবং তাকে পূর্ণ সমর্থন দিল।"
"এরপর প্রায় ৬ মাস পর রজারের মুখোমুখি হলো তার পুরনো দলের। সে যখন মাঠে নামল, তার পুরনো দল আবারও তাকে টার্গেট করল এবং তাকে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করল। কিন্তু এবার সবকিছুই ছিল ভিন্ন। রজার বারবার পড়ে যাচ্ছিল কিন্তু প্রতিবারই সে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসছিল।"
"যখন ম্যাচটি ড্র অবস্থায় ছিল, তখন রজার তার ভেতরের সমস্ত ক্ষোভ এবং পরিশ্রম এক মুহূর্তেই উগড়ে দিল। সে একের পর এক গোল লক্ষ্য করে কিক নিল এবং একাই নিজের নতুন দলকে ম্যাচ জেতালো।"
অবশ্যই, আমি আগের গল্পগুলোকে আরও বিস্তারিতভাবে এবং নাটকীয়তার সাথে তুলে ধরছি। এই কাহিনীগুলো কেবল সফলতার নয়, বরং মানুষের সহ্য ক্ষমতা এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক একটি মহাকাব্য।
১. কারালি তাকাকস: এক হাতের অবিশ্বাস্য বিশ্বজয়
১৯৩৮ সাল। হাঙ্গেরির সেনাবাহিনীর এক তরুণ সদস্য কারালি তাকাকস ছিলেন তখন বিশ্বের অন্যতম সেরা পিস্তল শ্যুটার। তার লক্ষ্য ছিল ১৯৪০ সালের টোকিও অলিম্পিকে সোনা জেতা। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে একটি সেন মহড়ার সময় তার ডান হাতে একটি গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয়। যে হাত দিয়ে তিনি বিশ্ব জয়ের স্বপ্ন দেখতেন, সেই ডান হাতটি কবজি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে কারালি যখন যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন, সবাই ভেবেছিল তার ক্যারিয়ার এবং জীবনের সব স্বপ্ন ওখানেই শেষ। কিন্তু কারালি ছিলেন ভিন্ন ধাতুর গড়া। তিনি নিজেকে প্রশ্ন করেছিলেন, "আমি কি যা হারিয়েছি তা নিয়ে কাঁদব, নাকি যা এখনো অবশিষ্ট আছে তা দিয়ে লড়াই করব?"
হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তিনি গোপনে তার বাম হাত দিয়ে শ্যুটিং অনুশীলন শুরু করেন। বাম হাতটি তার জন্য ছিল একদমই নতুন, কারণ তিনি জন্মগতভাবে ডানহাতি ছিলেন। দীর্ঘ এক বছর তিনি কাউকে জানতে দেননি তিনি কী করছেন। ১৯৩৯ সালে হাঙ্গেরির জাতীয় শ্যুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে যখন তিনি উপস্থিত হলেন, তার সতীর্থরা ভেবেছিলেন তিনি হয়তো তাদের উৎসাহ দিতে এসেছেন। কিন্তু যখন কারালি বাম হাতে পিস্তল তুলে নিলেন, পুরো দেশ অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। তিনি কেবল অংশগ্রহণই করেননি, বরং সেখানে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। এরপর ১৯৪৮ এবং ১৯৫২ সালের অলিম্পিকে টানা দুবার স্বর্ণপদক জিতে তিনি প্রমাণ করেন যে, শারীরিক সীমাবদ্ধতা কখনো মনের জোরে বাধা হতে পারে না।
২. লুইসা অলিভেরা: ধুলোবালি থেকে অলিম্পিকের ট্র্যাক
ব্রাজিলের এক বস্তিতে জন্ম নেওয়া লুইসা অলিভেরার জীবন ছিল বেঁচে থাকার এক নিরন্তর সংগ্রাম। সাত বছর বয়স থেকেই তাকে অন্যের বাড়িতে থালাবাসন মাজার কাজে যোগ দিতে হয়। তার পরিবারে দুবেলা ঠিকমতো খাবার জুটত না, তাই অ্যাথলেট হওয়ার স্বপ্ন দেখাটা ছিল অনেকটা বিলাসিতার মতো। লুইসার কাছে কোনো ভালো জুতো ছিল না, ছিল না কোনো প্রশিক্ষক।
কিন্তু লুইসা যখন কাজে যেতেন, তিনি হেঁটে যেতেন না বরং দৌড়ে যেতেন সময় বাঁচানোর জন্য। সেই দৌড়ই তাকে পথ দেখায়। তিনি লক্ষ্য করেন, খালি পায়ে দৌড়ালেও তিনি অনেক দ্রুত গতিতে ছুটতে পারেন। প্রতিদিন ভোর চারটায় উঠে তিনি রাস্তায় প্র্যাকটিস করতেন যখন পুরো শহর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকত। লোকে তাকে পাগল বলত, অনেকে উপহাস করে বলত, "গরিবের মেয়ে হয়ে অলিম্পিকের স্বপ্ন দেখা সাজে না।"
অপুষ্টি আর দারিদ্র্যের সাথে যুদ্ধ করে লুইসা স্থানীয় ছোট ছোট প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে শুরু করেন। তার অদম্য গতি দেখে এক সময় এক কোচের নজরে পড়েন তিনি। সেই কোচ তাকে সঠিক জুতো আর ডায়েটের ব্যবস্থা করে দেন। কয়েক বছরের কঠোর পরিশ্রমের পর, যে মেয়েটি এক সময় অন্যের এঁটো পরিষ্কার করত, সেই লুইসা অলিভেরা যখন অলিম্পিকের ট্র্যাকে নিজের দেশের পতাকা নিয়ে দৌড়াচ্ছিলেন, তখন পুরো বিশ্ব তার জন্য হাততালি দিচ্ছিল। তার জীবনের এই দীর্ঘ পথ আমাদের শেখায় যে, আপনার বর্তমান পরিস্থিতি আপনার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না, বরং আপনার কঠোর পরিশ্রমই তা ঠিক করে।
৩. কর্নেল স্যান্ডার্স: ব্যর্থতার পাহাড় ডিঙিয়ে কেএফসি
সাফল্যের কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই—এই সত্যটি যদি কেউ পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা করে থাকেন, তবে তিনি হারল্যান্ড স্যান্ডার্স, যাকে আমরা 'কর্নেল স্যান্ডার্স' নামে চিনি। তার জীবন ছিল ব্যর্থতার এক দীর্ঘ তালিকা। ৫ বছর বয়সে পিতাকে হারান, ১৬ বছর বয়সে স্কুল থেকে বিতাড়িত হন, একের পর এক চাকরিতে ব্যর্থ হন। এমনকি নিজের ছোট একটি রেস্তোরাঁ খুলেছিলেন, কিন্তু একটি নতুন হাইওয়ে তৈরির কারণে সেই ব্যবসাও পুরোপুরি লাটে ওঠে।
৬৫ বছর বয়সে স্যান্ডার্সের পকেটে ছিল মাত্র ১০৫ ডলারের একটি সরকারি চেক। অনেকে এই বয়সে হাল ছেড়ে দিয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনতেন। কিন্তু স্যান্ডার্স তার একমাত্র সম্পদ—তার নিজস্ব একটি 'ফ্রাইড চিকেন রেসিপি' নিয়ে লড়াইয়ে নামেন। তিনি তার পুরনো গাড়িতে করে আমেরিকার এক শহর থেকে অন্য শহরে ঘুরতে থাকেন। বিভিন্ন রেস্তোরাঁ মালিকদের কাছে গিয়ে অনুরোধ করতেন তার রেসিপিটি একবার পরখ করে দেখার জন্য।
জানলে অবাক হবেন, স্যান্ডার্স মোট ১০০৯ বার প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন। মালিকরা তাকে দরজার বাইরে বের করে দিতেন, তার বয়স নিয়ে উপহাস করতেন। কিন্তু স্যান্ডার্স দমে যাননি। তিনি জানতেন তার রেসিপিতে জাদু আছে। অবশেষে ১০১০ নম্বর চেষ্টায় একজন তার রেসিপিটি গ্রহণ করেন। পরবর্তী কয়েক বছরে সেই রেসিপি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে এবং তৈরি হয় বিশ্বের অন্যতম বড় ফুড চেইন 'KFC'। স্যান্ডার্স প্রমাণ করেছেন, স্বপ্ন দেখার বা নতুন করে শুরু করার কোনো শেষ বয়স নেই।
৪. জেকে রাউলিং: অন্ধকার থেকে জাদুকরী উত্থান
হ্যারি পটার সিরিজের লেখিকা জেকে রাউলিংয়ের গল্পটি রূপকথার চেয়েও বেশি কিছু। এক সময় তিনি ছিলেন একজন ডিভোর্সি মা, যার হাতে কোনো চাকরি ছিল না। তার পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, সরকারি ভাতার টাকায় তাকে আর তার ছোট্ট সন্তানকে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে হতো। সেই সময় তিনি মানসিক অবসাদে (Depression) ভুগছিলেন এবং এমনকি আত্মহত্যার চিন্তাও করেছিলেন।
কিন্তু তার মনের ভেতর একটি জাদুকরী পৃথিবী ডানা মেলছিল। তিনি ক্যাফেতে বসে এক কাপ কফিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে হ্যারি পটারের পাণ্ডুলিপি লিখে যেতেন, কারণ তার ঘরে হিটারের ব্যবস্থা ছিল না। যখন পাণ্ডুলিপি শেষ হলো, তিনি ১২টি বড় প্রকাশনী সংস্থার কাছে গেলেন। সবাই তাকে ফিরিয়ে দিল। তারা বলেছিল, "গল্পটি অনেক বড় এবং জটিল, বাচ্চারা জাদুকর নিয়ে গল্প পড়বে না।"
রাউলিংয়ের হাতে তখন টাইপ করার মতো টাকাও ছিল না, তাই তিনি হাতে লিখে পাণ্ডুলিপিগুলো পাঠাতেন। অবশেষে একটি ছোট প্রকাশনী তার বই ছাপতে রাজি হয়, তবে তারা সতর্ক করে দেয় যে, "বই লিখে আপনি বড়লোক হতে পারবেন না, একটা চাকরি খুঁজে নিন।" আজ হ্যারি পটার বিশ্বের সবথেকে দামী ব্র্যান্ডগুলোর একটি এবং রাউলিং বিশ্বের অন্যতম ধনী নারী। বলা হয়ে থাকে জেকে রাউলিং শুধু মাত্র তার বই বিক্রির টাকা দিয়েই বিলিয়নার হয়ে যায়। তার জীবন শেখায়— অন্ধকার যত গভীর হয়, ভোরের আলো তত কাছে থাকে।
৫. গ্লেন কানিংহাম: পঙ্গুত্ব জয় করে বিশ্বের দ্রুততম মানব
১৯১৬ সাল। আমেরিকার কানসাস অঙ্গরাজ্যের একটি ছোট স্কুলঘরে আগুন লেগে যায়। সেই অগ্নিকাণ্ডে ৮ বছর বয়সী গ্লেন কানিংহামের ছোট ভাই মারা যায় এবং গ্লেন নিজে মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়। তার দুই পা পুড়ে প্রায় কয়লা হয়ে গিয়েছিল। ডাক্তাররা তার জীবন বাঁচাতে পারলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, সে আর কখনোই হাঁটতে পারবে না। এমনকি তার পঙ্গু হয়ে যাওয়া পা দুটি কেটে ফেলার পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু গ্লেনের মা-বাবা এবং গ্লেন নিজে হাল ছাড়েননি। যখন তাকে হাসপাতাল থেকে বাড়ি আনা হয়, সে হুইলচেয়ারে বসে থাকার বদলে হামাগুড়ি দিয়ে ঘাসের ওপর নিজের অবশ পা দুটি টানতে শুরু করে। প্রতিদিন সে লোহার বেড়া ধরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করত এবং যন্ত্রণায় চিৎকার করত। তার একটাই লক্ষ্য ছিল—নিজের পায়ে দাঁড়ানো।
ধীরে ধীরে অলৌকিকভাবে তার পায়ে শক্তি ফিরতে থাকে। সে প্রথমে দাঁড়াতে শিখল, তারপর হাঁটতে এবং একদিন সে দৌড়াতে শুরু করল। যে ছেলেটির পা কেটে ফেলার কথা ছিল, সেই গ্লেন কানিংহাম ১৯৩৪ সালে বিশ্বের দ্রুততম মাইল দৌড়বিদের রেকর্ড গড়েন। তার এই অবিশ্বাস্য যাত্রা আমাদের শেখায় যে, শারীরিক অক্ষমতা কেবল একটি পরিস্থিতি, আপনার মনের জোর থাকলে আপনি অসম্ভবকেও জয় করতে পারেন।
৬. আব্রাহাম লিংকন: ব্যর্থতার এক অবিরাম মহাকাব্য
বিশ্বের ইতিহাসে সফল মানুষের নাম নিতে গেলে আব্রাহাম লিংকনের নাম সবার আগে আসে। কিন্তু তার এই সফলতার পেছনে ছিল পরাজয়ের এক লম্বা মিছিল। ৯ বছর বয়সে তিনি তার মাকে হারান। এরপর নিজের ছোট্ট ব্যবসা শুরু করতে গিয়ে দেউলিয়া হয়ে যান। জীবনের দীর্ঘ সময় তাকে ঋণের বোঝা বইতে হয়েছে।
রাজনীতিতে আসার পর তিনি একের পর এক নির্বাচনে পরাজিত হতে থাকেন। ১৮৩২ সালে চাকরি হারান, ১৮৩৩ সালে ব্যবসায়ে ব্যর্থ হন, ১৮৩৫ সালে তার প্রিয়তমা স্ত্রী মারা যান, ১৮৩৬ সালে তার নার্ভাস ব্রেকডাউন হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে লেজিসলেটিভ ইলেকশন, কংগ্রেস এবং সিনেট নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। হিসাব করলে দেখা যায়, তিনি জীবনে প্রায় ৩০ বারের বেশি বড় ধরণের ব্যর্থতার সম্মুখীন হয়েছিলেন।
যেকোনো সাধারণ মানুষ এই পরিস্থিতিতে রাজনীতি তো বটেই, জীবনের আশাই ছেড়ে দিত। কিন্তু লিংকন বলতেন, "পরাজয় মানে থেমে যাওয়া নয়, বরং পথ পরিবর্তন করা।" অবশেষে ১৮৬০ সালে তিনি আমেরিকার ১৬তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন এবং দাসপ্রথা বিলুপ্ত করে ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে যান। তার জীবন আমাদের শেখায় যে, সাফল্য কেবল তাদের জন্যই যারা বারবার আছাড় খাওয়ার পরেও ধুলো ঝেড়ে উঠে দাঁড়াতে জানে।
মেরি কম: পাহাড় ঘেরা গ্রাম থেকে বিশ্বজয়ী বক্সার
ভারতের মনিপুর রাজ্যের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে জন্ম নেওয়া মেরি কমের জীবন ছিল পাথর ভাঙা পরিশ্রমের। তার বাবা-মা ছিলেন গরিব কৃষক। মেরি ছোটবেলা থেকেই মাঠে কাজ করতেন এবং নিজের ভাই-বোনদের আগলে রাখতেন। মেয়ে হয়ে বক্সিং শিখবেন—এটি তখন সমাজে ছিল এক বড় ট্যাবু। এমনকি তার বাবাও এর ঘোর বিরোধী ছিলেন, কারণ তিনি ভাবতেন বক্সিংয়ে মুখে আঘাত পেলে মেয়ের বিয়ে হবে না।
মেরি লুকিয়ে প্র্যাকটিস শুরু করেন। অনেক সময় তাকে খালি পেটে ট্রেনিং করতে হতো। ২০০২ সালে যখন তিনি প্রথম বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে পদক জেতেন, তখন তার বাবা খবরের কাগজে মেয়ের ছবি দেখে জানতে পারেন মেরি বক্সিং করছেন। এরপর বিয়ে এবং দুই সন্তানের মা হওয়ার পর সবাই ভেবেছিল মেরির ক্যারিয়ার শেষ। কারণ একজন মায়ের পক্ষে বক্সিংয়ের মতো শারীরিক পরিশ্রমের খেলায় ফিরে আসা প্রায় অসম্ভব।
কিন্তু মেরি প্রমাণ করলেন যে মাতৃত্ব কোনো বাধা নয়, বরং শক্তি। তিনি কঠোর পরিশ্রমে আবারও রিংয়ে ফিরলেন এবং একে একে ছয়বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন। তার এই লড়াই আমাদের শেখায় যে, সামাজিক বাধা আর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি কখনোই আপনার স্বপ্নের চেয়ে বড় হতে পারে না।
স্টিফেন কিং: আবর্জনার ঝুড়ি থেকে বেস্টসেলার লেখক
বিশ্বখ্যাত হরর লেখক স্টিফেন কিংয়ের শুরুটা ছিল অত্যন্ত দারিদ্র্যের মধ্যে। তিনি যখন তার প্রথম উপন্যাস 'ক্যারি' (Carrie) লিখছিলেন, তখন তিনি একটি লন্ড্রিতে কাজ করতেন এবং একটি ট্রেইলারে সপরিবারে থাকতেন। তাদের ঘরে ফোন পর্যন্ত ছিল না কারণ বিল দেওয়ার টাকা ছিল না।
'ক্যারি' উপন্যাসটি লেখার সময় তিনি মাঝপথে হতাশ হয়ে পাণ্ডুলিপিটি ছিঁড়ে আবর্জনার ঝুড়িতে ফেলে দিয়েছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন এটি কোনো ভালো গল্প নয় এবং কেউ এটি পড়বে না। কিন্তু তার স্ত্রী তাবিথা সেই ঝুড়ি থেকে পাতাগুলো কুড়িয়ে আনেন এবং তাকে গল্পটি শেষ করার জন্য উৎসাহ দেন।
পরবর্তীতে সেই পাণ্ডুলিপিটি ৩০টি প্রকাশনী সংস্থা প্রত্যাখ্যান করে। একজন প্রকাশক তাকে বিদ্রূপ করে লিখেছিলেন, "আমরা সায়েন্স ফিকশন বা ইউটোপিয়া নিয়ে আগ্রহী নই যা নেতিবাচকতা ছড়ায়।" অবশেষে একটি প্রকাশনী বইটি ছাপতে রাজি হয় এবং এরপরের ইতিহাস সবার জানা। আজ স্টিফেন কিং বিশ্বের অন্যতম সফল লেখক যার বই থেকে শত শত সিনেমা তৈরি হয়েছে। তার গল্প আমাদের শেখায়— অনেক সময় আমাদের সবথেকে বড় সাফল্যটি আমাদের সবথেকে বড় হতাশার ঠিক পরেই লুকিয়ে থাকে।
