বিল গেটস থেকে ইলন মাস্ক: কে কতটা বই পড়েন?

 সাফল্যের গোপন চাবিকাঠি কি কেবলই কঠোর পরিশ্রম?

বিল গেটস থেকে ইলন মাস্ক: কে কতটা বই পড়েন?


​কল্পনা করুন, আপনি একটি অন্ধকার ঘরে বসে আছেন যেখানে পৃথিবীর সবচাইতে ক্ষমতাধর এবং ধনী ব্যক্তিদের মগজের অ্যাক্সেস আপনার কাছে আছে। আপনি কি জানতে চাইতেন তারা কীভাবে চিন্তা করেন? কীভাবে তারা প্রতি মুহূর্তে এমন সব সিদ্ধান্ত নেন যা পুরো পৃথিবীর অর্থনীতি বদলে দেয়?

​অনেকেই মনে করেন, বিলিওনিয়ার হওয়ার পেছনে থাকে শুধুই ভাগ্য কিংবা অমানুষিক পরিশ্রম। কিন্তু যদি আমি বলি, এই সাফল্যের পেছনে একটি অত্যন্ত সাধারণ অথচ শক্তিশালী অভ্যাস লুকিয়ে আছে? আর সেই অভ্যাসটি হলো— বই পড়া। ওয়ারেন বাফেট যখন ক্যারিয়ার শুরু করেন, তিনি দিনে ৬০০ থেকে ১০০০ পৃষ্ঠা পড়তেন। বিল গেটস বছরে গড়ে ৫০টি বই পড়েন। ইলন মাস্ক রকেট সায়েন্স শিখেছেন কোনো প্রথাগত ডিগ্রি থেকে নয়, বরং লাইব্রেরির বই গিলে ফেলে!

​প্রশ্ন জাগতে পারে, যাদের হাতে এক সেকেন্ড সময় মানে কয়েক হাজার ডলারের সমতুল্য, তারা কেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক জায়গায় স্থির হয়ে বইয়ের পাতায় চোখ বুলিয়ে কাটান? উত্তরটা সহজ— তারা তথ্য সংগ্রহ করেন না, তারা 'জ্ঞান' আর 'দৃষ্টিভঙ্গি' কেনেন।

​আজকের এই বিশেষ আর্টিকেলের লক্ষ্য হলো আপনাকে সেই সব সফল মানুষদের লাইব্রেরিতে নিয়ে যাওয়া। আমরা দেখবো, ইতিহাসের পাতায় নাম লেখানো এই মানুষগুলো কী ধরণের বই পড়েন এবং কীভাবে সেই বইগুলো তাদের বর্তমানের "জায়ান্ট" হিসেবে গড়ে তুলেছে। আপনি কি তৈরি নিজের মানসিক জগতকে বিলিওনিয়ারদের মতো রিচার্জ করতে?

​বই প্রেমে পাগল ১০ জন বিশ্বসেরা বিলিওনিয়ার

​নিচে সেই ১০ জন সফল ব্যক্তিত্বের তালিকা দেওয়া হলো যাদের বই পড়ার অভ্যাস সারা বিশ্বে সমাদৃত। আমাদের এই আর্টিকেলের নিচের  দিকে আমরা একে একে এদের প্রত্যেকের জীবনের গোপন লাইব্রেরির গল্প জানবো:

  1. বিল গেটস (Bill Gates): মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা, যাকে বলা হয় বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত 'বুকওয়ার্ম'।
  2. ইলন মাস্ক (Elon Musk): টেসলা এবং স্পেস-এক্স এর কর্ণধার, যিনি বই পড়ে রকেট বানানো শিখেছেন।
  3. ওয়ারেন বাফেট (Warren Buffett): ইতিহাসের সেরা বিনিয়োগকারী, যার দিনের ৮০ শতাংশ সময় কাটে বই পড়ে।
  4. মার্ক জাকারবার্গ (Mark Zuckerberg): মেটা (ফেসবুক) এর প্রতিষ্ঠাতা, যিনি নিয়মিত 'ইয়ার অফ বুকস' চ্যালেঞ্জ পালন করেন।
  5. জেফ বেজোস (Jeff Bezos): অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা; যার ব্যবসায়িক দর্শন গড়ে উঠেছে কিছু কালজয়ী লিটারেচারের ওপর ভিত্তি করে।
  6. অপরাহ উইনফ্রে (Oprah Winfrey): মিডিয়া মোঘল, যার 'বুক ক্লাব' সারা বিশ্বের পাঠকদের অনুপ্রেরণা।
  7. মার্ক কিউবান (Mark Cuban): শার্ক ট্যাংক খ্যাত এই ইনভেস্টর দিনে ৩ ঘণ্টার বেশি সময় বই পড়েন প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার জন্য।
  8. রিচার্ড ব্র্যানসন (Richard Branson): ভার্জিন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা; ডিসলেক্সিয়া থাকা সত্ত্বেও বই যার নিত্যসঙ্গী।
  9. শারিল স্যান্ডবার্গ (Sheryl Sandberg): সাবেক মেটা সিওও এবং লেখক, যিনি নারীদের ক্ষমতায়ন ও নেতৃত্বের বই নিয়ে কাজ করেন।
  10. চার্লি মুঙ্গার (Charlie Munger): বাফেটের সঙ্গী এবং বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের ভাইস চেয়ারম্যান, যাকে বলা হতো 'একটি চলন্ত লাইব্রেরি'।

​কেন এই আর্টিকেল টি আপনার পড়া উচিত?

​আমরা প্রায়ই অজুহাত দেই যে আমাদের সময় নেই। কিন্তু এই আর্টিকেলের  মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন যে পৃথিবীর ব্যস্ততম মানুষগুলোও কীভাবে বই পড়ার সময় বের করেন।

Jahidnote-এর এই ধারাবাহিক আয়োজনে আমরা শুধু তাদের পছন্দের বইয়ের নাম জানবো না, বরং জানবো:

  • ​বই পড়ার মাধ্যমে কীভাবে তারা বড় বড় সমস্যার সমাধান করেন।
  • ​কোন বইগুলো তাদের মানসিকতায় আমূল পরিবর্তন এনেছিল।
  • ​ব্যস্ত শিডিউলের মাঝেও তাদের বই পড়ার কৌশল (Reading Hacks)।

বিল গেটসের লাইব্রেরি: যেখানে চিন্তারা ডানা মেলে
বিল গেটসের লাইব্রেরি: যেখানে চিন্তারা ডানা মেলে

​আপনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন, একজন মানুষ যার সম্পদের পাহাড় আকাশচুম্বী, যিনি চাইলেই পৃথিবীর যেকোনো বিলাসিতা মুহূর্তের মধ্যে হাতের নাগালে পেতে পারেন, তিনি কেন প্রতি বছর নিয়ম করে অন্তত ৫০টি বই পড়েন? বিল গেটসের ক্ষেত্রে বই পড়া কেবল কোনো শখ নয়, এটি তার টিকে থাকার রসদ।

​আজকের গল্পটি শুরু করা যাক বিল গেটসের সেই বিখ্যাত 'থিংক উইক' (Think Week) বা 'চিন্তার সপ্তাহ' দিয়ে। প্রতি বছর বিল গেটস নির্জন কোনো এক জায়গায় নিজেকে বন্দি করে ফেলেন। সাথে থাকে না কোনো পরিবার, কোনো কলিগ কিংবা কোনো স্মার্টফোন। থাকে শুধু স্তূপ করা এক ব্যাগ বই আর গবেষণাপত্র। এক সপ্তাহ ধরে তিনি কেবল পড়েন এবং চিন্তা করেন। মাইক্রোসফটের শুরুর দিকের অনেক বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত এবং ইন্টারনেট জগত নিয়ে তার ভবিষ্যৎবাণীগুলো এসেছিল এই নিভৃত পাঠ থেকেই।

​পড়ার নেশা যখন শৈশবে

​বিলের বই পড়ার নেশা কিন্তু হুট করে আসেনি। ছোটবেলায় তিনি এতটাই বই পড়তেন যে তার বাবা-মাকে একটি অদ্ভুত নিয়ম করতে হয়েছিল— "খাবার টেবিলে কোনো বই পড়া যাবে না!" তিনি এনসাইক্লোপিডিয়া থেকে শুরু করে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী, সব গোগ্রাসে গিলতেন। বড় হওয়ার পর যখন তিনি বিলিওনিয়ার হলেন, তখন তার পড়ার পরিধি আরও বেড়ে গেল।

​বিল গেটস মনে করেন, আপনি যদি অনেক বেশি পড়েন, তবে নতুন কোনো কিছু শেখা আপনার জন্য সহজ হয়ে যায়। তিনি একে বলেন 'মানসিক মডেল' তৈরি করা। যদি আপনার কাছে আগে থেকেই প্রচুর তথ্য থাকে, তবে নতুন তথ্যগুলো সেই পুরনো তথ্যের সাথে জুড়ে গিয়ে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করে।

​গেটসের পড়ার ধরণ: তিনি কেবল পড়েন না, লড়াই করেন!

​আপনি যদি বিল গেটসের কোনো বই দেখেন, দেখবেন বইয়ের মার্জিনে বা পাতার কোণায় প্রচুর কাটাকাটি এবং নোট লেখা। এটি তার এক অনন্য বৈশিষ্ট্য। তিনি যখন কোনো বই পড়েন, তিনি লেখকের সাথে মনে মনে তর্কে লিপ্ত হন।

  • মার্জিন নোট: তিনি যদি লেখকের কোনো তথ্যের সাথে একমত না হন, তবে তিনি সেখানে নিজের মন্তব্য লিখে রাখেন।
  • পুরো বই শেষ করা: বিলের একটি কঠিন নিয়ম আছে— "যদি কোনো বই শুরু করো, তবে তা শেষ করতেই হবে।" এমনকি বইটি যদি খুব বিরক্তিকরও হয়, তবুও তিনি সেটি শেষ করেন যাতে লেখকের পুরো দৃষ্টিভঙ্গিটা তিনি বুঝতে পারেন।
  • সময় ব্যবস্থাপনা: প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে অন্তত এক ঘণ্টা তিনি বই পড়েন, তা যতই ব্যস্ততা থাকুক না কেন।

​কোন ধরণের বই তাকে টানে?

​বিল গেটস কেবল কম্পিউটার বা প্রযুক্তি নিয়ে পড়েন না। তার পাঠ্যতালিকায় থাকে জনস্বাস্থ্য, ইতিহাস, জলবায়ু পরিবর্তন, জীববিজ্ঞান এবং এমনকি কিছু অসাধারণ ফিকশনও। তিনি মনে করেন, একজন নেতার উচিত পৃথিবীর সব বিষয় সম্পর্কে অন্তত মৌলিক জ্ঞান রাখা। ভ্যাকসলাব স্মিল বা স্টিফেন পিঙ্কারের মতো লেখকরা তার প্রিয়, যারা তথ্যের মাধ্যমে পৃথিবীকে ইতিবাচকভাবে দেখতে শেখান।

​তার ব্লগে (GatesNotes) তিনি প্রতি বছর দুইবার তার পছন্দের বইয়ের তালিকা প্রকাশ করেন। লাখ লাখ মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে দেখার জন্য যে— "এবার বিল গেটস কী পড়তে বলছেন?" কারণ তারা জানে, এই বইগুলো কেবল অক্ষর নয়, বরং বিল গেটসের সাফল্যের ম্যাপ।

​গেটসের বার্তা আমাদের জন্য

​বিল গেটসের জীবন থেকে আমরা শিখতে পারি যে, লার্নিং বা শেখার কোনো শেষ নেই। তিনি একবার বলেছিলেন, "আমি এখন বৃদ্ধ হচ্ছি কিন্তু আমি এখনও মনে করি আমি একজন ছাত্র।" তার মতে, আপনি যদি আপনার চারপাশের পৃথিবী সম্পর্কে কৌতূহলী না হন, তবে আপনি কোনোদিন বড় কিছু তৈরি করতে পারবেন না। আর সেই কৌতূহল মেটানোর সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম হলো একটি ভালো বই।

​বইয়ের প্রতিটি পাতা উল্টানোর সাথে সাথে বিল গেটস কেবল নতুন তথ্যই পান না, তিনি পান এক নতুন পৃথিবী গড়ার অনুপ্রেরণা। তার এই দীর্ঘ পাঠাভ্যাসই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে রেখেছে। মাইক্রোসফটের কোড লেখার চেয়েও বইয়ের পাতায় চোখ রাখা তাকে বেশি আনন্দ দেয়।

বিল গেটস আমাদের শিখিয়েছেন, হাজার কোটি ডলার থাকলেও শেখার বিনয় হারানো উচিত নয়। বই হলো সেই মই, যা দিয়ে আপনি আপনার বর্তমান অবস্থানের চেয়ে অনেক উঁচুতে উঠতে পারেন।

​ইলন মাস্ক: যিনি বই পড়ে রকেট সায়েন্স শিখেছেন 
ইলন মাস্ক: যিনি বই পড়ে রকেট সায়েন্স শিখেছেন

​ইলন মাস্কের জীবনটা যেন কোনো কল্পবিজ্ঞানের সিনেমার মতো। কিন্তু এই গল্পের ভিত্তিটা ইটের ওপর নয়, বরং বইয়ের পাতার ওপর দাঁড়িয়ে। যদি আপনাকে প্রশ্ন করা হয়, "কীভাবে রকেট বানাতে হয় তা আপনি কোথায় শিখবেন?" আপনার উত্তর হতে পারে কোনো নামকরা ইউনিভার্সিটি বা নাসা (NASA)। কিন্তু ইলন মাস্কের উত্তর ছিল ভিন্ন। যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল তিনি কীভাবে রকেট বানানো শিখলেন, তিনি খুব সহজভাবে উত্তর দিয়েছিলেন— "আমি প্রচুর বই পড়ি।"

​শৈশবের সেই লাইব্রেরি পোকা

​ইলন মাস্কের শৈশব কেটেছে দক্ষিণ আফ্রিকায়। সেখানে তিনি খুব একটা সামাজিক ছিলেন না, বরং একাকী থাকতেই পছন্দ করতেন। আর এই একাকীত্বের সঙ্গী ছিল বই। জানা যায়, মাত্র ৯ বছর বয়সেই তিনি পুরো 'এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা' পড়ে শেষ করেছিলেন। যেখানে সাধারণ শিশুরা কমিক বুক পড়তে ব্যস্ত থাকে, সেখানে মাস্ক দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বই পড়ে কাটাতেন।

​একবার তার স্কুলের লাইব্রেরির সব বই শেষ হয়ে গিয়েছিল। তখন তিনি লাইব্রেরিয়ানকে অনুরোধ করেছিলেন আরও নতুন বই আনার জন্য। তিনি কেবল ফিকশন পড়তেন না, তার মগজে রাজত্ব করত ফিজিক্স, ইঞ্জিনিয়ারিং আর মহাকাশের জটিল সব তত্ত্ব।

​বই যখন শিক্ষাগুরু: স্পেস-এক্স এর সূচনা

​ইলন মাস্কের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব হলো স্পেস-এক্স। যখন তিনি মহাকাশ গবেষণার কথা ভাবলেন, তখন তার কাছে কোনো অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি ছিল না। তিনি কী করলেন? তিনি তার বন্ধু জিম কান্ট্রেল-এর কাছ থেকে রকেট সায়েন্সের ওপর বেশ কিছু টেক্সটবুক ধার নিলেন।

​তিনি 'রকেট প্রপালশন এলিমেন্টস' এবং 'অ্যারোথার্মোডাইনামিক্স অফ গ্যাস টারবাইন এন্ড রকেট প্রপালশন'-এর মতো কঠিন সব বই গোগ্রাসে গিলতে শুরু করেন। মাস্ক কেবল বই পড়তেন না, তিনি বইয়ের প্রতিটি সমীকরণ নিজের মস্তিস্কে সমাধান করতেন। তার এই গভীর পাঠের কারণেই তিনি আজ একজন ইঞ্জিনিয়ার না হয়েও বিশ্বের সেরা ইঞ্জিনিয়ারদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

​মাস্কের পাঠতালিকায় কী থাকে?

​ইলন মাস্কের চিন্তাধারা গড়ে তোলার পেছনে দুটি বইয়ের অবদান সবচেয়ে বেশি:

  1. দ্য হিচহাইকার্স গাইড টু দ্য গ্যালাক্সি (Douglas Adams): এই বইটি তাকে শিখিয়েছে যে, উত্তরের চেয়ে সঠিক প্রশ্ন করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মাস্ক যখনই হতাশ হন, তিনি এই বইটির দর্শন থেকে শক্তি পান।
  2. ফাউন্ডেশন সিরিজ (Isaac Asimov): আইজ্যাক আসিমভের এই সায়েন্স ফিকশন তাকে শিখিয়েছে যে মানব সভ্যতাকে টিকিয়ে রাখতে হলে আমাদের বহু-গ্রহী জাতি (Multi-planetary species) হতে হবে।

​এছাড়া তিনি লর্ড অফ দ্য রিংস এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিক জীবনী পড়তে ভীষণ পছন্দ করেন। তার মতে, মহৎ ব্যক্তিদের জীবনী পড়লে বোঝা যায় যে ব্যর্থতা কেবল একটি বাধা, গন্তব্য নয়।

​মাস্কের বই পড়ার কৌশল (Strategy)

​বিল গেটস যেখানে খুব শান্তভাবে পড়ে নোট নেন, মাস্কের পড়ার ধরণ হলো অনেকটা 'ডেটা ইনজেকশন'-এর মতো। তিনি বই থেকে মূল তথ্যগুলো খুব দ্রুত সংগ্রহ করেন এবং সেগুলোকে তার ব্যবসায়িক কৌশলের সাথে মিলিয়ে ফেলেন। তিনি মনে করেন, আমাদের মস্তিষ্ক হলো একটি গাছের মতো। আপনি যদি গাছের মূল কাণ্ড (Basic principles) না জানেন, তবে ছোট ছোট ডালপালা (Details) সেখানে টিকবে না। বই পড়ার মাধ্যমে তিনি সেই 'মূল কাণ্ড' বা বেসিক ফিজিক্স শক্ত করেন।

​আজও বিশ্বের ব্যস্ততম মানুষ হওয়া সত্ত্বেও, মাস্ক সময় পেলেই বইয়ের পাতায় ডুব দেন। তার রকেটের প্রতিটি সফল উৎক্ষেপণের পেছনে রয়েছে হাজার হাজার ঘণ্টার সেই নীরব পাঠ।

​মাস্কের দর্শন আমাদের জন্য

​ইলন মাস্ক আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন যে, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াও কেবল ইচ্ছাশক্তি আর বই পড়ার অভ্যাসের মাধ্যমে অসাধ্য সাধন করা সম্ভব। আপনি যদি কোনো বিষয়ে দক্ষ হতে চান, তবে সেই বিষয়ের সেরা বইগুলো খুঁজে বের করুন এবং সেগুলো এমনভাবে পড়ুন যেন আপনার জীবন তার ওপর নির্ভর করছে।

​বই কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি একটি টুলস বা হাতিয়ার। মাস্ক এই হাতিয়ার ব্যবহার করেই পৃথিবীকে বদলে দিচ্ছেন।

ইলন মাস্কের জীবন থেকে বড় শিক্ষা হলো— "আপনার বর্তমান জ্ঞানই আপনার শেষ সীমানা নয়।" বই আপনার সীমানাকে মহাকাশ পর্যন্ত বিস্তৃত করতে পারে। যে মানুষটা বই পড়ে রকেট বানাতে পারে, সেই মানুষটা আমাদের জন্য এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা।

​ওয়ারেন বাফেট: যার জ্ঞান বাড়ে চক্রবৃদ্ধি হারে
ওয়ারেন বাফেট: যার জ্ঞান বাড়ে চক্রবৃদ্ধি হারে

​আপনি কি কখনো এমন কাউকে দেখেছেন যিনি দিনের প্রায় ৮০ শতাংশ সময় কেবল বই আর সংবাদপত্র পড়ে কাটান? একজন বিলিওনিয়ার যার হাতে কয়েক বিলিয়ন ডলারের পোর্টফোলিও, তিনি মিটিং বা ফোন কলের চেয়ে নিজের পড়ার ঘরের সোফায় বসে থাকতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। তিনি হলেন 'ওমাহোর জাদুকর' ওয়ারেন বাফেট।

​একবার কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির এক ছাত্র তাকে জিজ্ঞেস করেছিল, "সাফল্যের গোপন সূত্র কী?" বাফেট এক স্তূপ বইয়ের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছিলেন— "প্রতিদিন ৫০০ পৃষ্ঠা করে পড়ো। জ্ঞান এভাবেই কাজ করে। এটি অনেকটা চক্রবৃদ্ধি সুদের (Compound Interest) মতো জমা হতে থাকে। আপনারা সবাই এটা করতে পারেন, কিন্তু আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি আপনাদের মধ্যে খুব কম মানুষই এটা শেষ পর্যন্ত করবে।"

​লাইব্রেরি যখন অফিস

​বাফেটের কাজের টেবিল বা অফিসের দিকে তাকালে আপনি খুব বেশি প্রযুক্তি দেখতে পাবেন না। সেখানে কোনো কম্পিউটার বা স্মার্টফোন নেই, বরং আছে স্তূপাকার সংবাদপত্র, বার্ষিক প্রতিবেদন (Annual Reports) আর বই। বাফেট যখন তার ক্যারিয়ার শুরু করেন, তখন তিনি দিনে ৬০০ থেকে ১০০০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত পড়তেন। এখন ৯৩ বছর বয়সেও তিনি দিনে অন্তত ৫-৬ ঘণ্টা পড়াশোনা করেন।

​তার এই পড়ার অভ্যাস তাকে ভিড়ের চেয়ে আলাদা করে রাখে। যখন বাকি সব বিনিয়োগকারী বাজারের হুজুগে বা গুজবে কান দিয়ে টাকা ঢালেন, বাফেট তখন শান্তভাবে কোম্পানির ১০ বছরের আর্থিক রিপোর্ট পড়েন। তিনি মনে করেন, বই পড়ার মাধ্যমে তিনি যে তথ্য পান, তা তাকে অন্যের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন এবং ধীরস্থির সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।

​বাফেটের পাঠতালিকায় কী থাকে?

​ওয়ারেন বাফেটের পড়ার তালিকায় কোনো বিশেষ রহস্য নেই, বরং আছে গভীরতা।

  1. দি ইন্টেলিজেন্ট ইনভেস্টর (Benjamin Graham): বাফেট এই বইটিকে তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া বই মনে করেন। তিনি ১৯ বছর বয়সে এটি পড়েছিলেন এবং আজও মনে করেন এটি বিনিয়োগের শ্রেষ্ঠ বই।
  2. বিজনেস অ্যাডভেঞ্চারস (John Brooks): এটি তার বন্ধু বিল গেটসের দেওয়া উপহার। বাফেট মনে করেন ব্যবসার নিয়ম বুঝতে এই বইটির কোনো বিকল্প নেই।
  3. বিভিন্ন কোম্পানির বার্ষিক রিপোর্ট: বাফেট মজার ছলে বলেন, তিনি অন্যদের মতো উপন্যাস পড়েন না, তিনি পড়েন কোম্পানির ব্যালেন্স শিট। এটিই তাকে পৃথিবীর অন্যতম ধনী ব্যক্তিতে পরিণত করেছে।

​'নলেজ কমপাউন্ডিং' বা জ্ঞানের চক্রবৃদ্ধি

​বাফেটের জীবন দর্শন হলো— আপনি যত বেশি জানবেন, ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা তত কমবে। তিনি মনে করেন, আজকের পড়া একটি পৃষ্ঠা হয়তো আজই আপনাকে ধনী বানাবে না, কিন্তু ১০ বছর পর সেই পৃষ্ঠা থেকে পাওয়া তথ্যটি আপনার কোনো বড় লোকসান বাঁচিয়ে দিতে পারে।

​তার পড়ার ধরণ খুবই সাধারণ। তিনি পড়ার সময় পৃথিবীর বাকি সব কিছু ভুলে যান। তিনি কেবল তথ্যের পেছনে দৌড়ান না, বরং সেই তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করেন। তিনি মনে করেন, বর্তমান যুগে মানুষের সমস্যা হলো তারা অনেক বেশি তথ্য পায় কিন্তু খুব কম 'চিন্তা' করে। বাফেট পড়ার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় চিন্তা করার জন্য নিজেকে সময় দেন।

​আমাদের জন্য বাফেটের শিক্ষা

​ওয়ারেন বাফেট আমাদের শিখিয়েছেন যে, বিনিয়োগ কেবল টাকার নয়, বিনিয়োগ করতে হয় নিজের মস্তিষ্কেও। আপনি যদি নিজের বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতা না বাড়ান, তবে আপনার সম্পদ দীর্ঘস্থায়ী হবে না। বাফেটের মতে, "সবচেয়ে ভালো বিনিয়োগ হলো নিজের ওপর বিনিয়োগ।" আর সেই বিনিয়োগের প্রধান মাধ্যম হলো বই পড়া।

​তার এই দীর্ঘ ৯ দশকের জীবনে একটি দিনও বাদ যায়নি যেখানে তিনি নতুন কিছু শেখেননি। বাফেটের জন্য বই পড়া কোনো শখ নয়, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী মিশন।

ওয়ারেন বাফেটের জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আপনি যদি শিখতে বন্ধ করে দেন, তবে আপনি বড় হওয়াও বন্ধ করে দেবেন। আপনি কি প্রস্তুত আপনার জ্ঞানকে চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়াতে?


​মার্ক জাকারবার্গ: যখন একজন টেক-জায়ান্ট বইয়ের মাঝে সমাজকে খোঁজেন
মার্ক জাকারবার্গ: যখন একজন টেক-জায়ান্ট বইয়ের মাঝে সমাজকে খোঁজেন

​২০১৫ সালের শুরুটা মার্ক জাকারবার্গের জন্য ছিল একটু ভিন্ন। আমরা সাধারণত নতুন বছরে ওজন কমানো বা নতুন কোনো কাজের রেজোলিউশন নেই। কিন্তু জাকারবার্গ ঘোষণা করলেন এক বিশেষ চ্যালেঞ্জ— "এ ইয়ার অফ বুকস" (A Year of Books)। তিনি প্রতিজ্ঞা করলেন যে, প্রতি দুই সপ্তাহে তিনি অন্তত একটি করে নতুন বই পড়বেন এবং সেটি নিয়ে তার ফেসবুক পেজে আলোচনা করবেন।

​কিন্তু কেন? যার হাতে ফেসবুকের মতো বিশাল সাম্রাজ্য, যাকে প্রতি মুহূর্তে কোটি কোটি ব্যবহারকারীর ডেটা আর অ্যালগরিদম নিয়ে ভাবতে হয়, তার হঠাৎ বই পড়ার দিকে এত ঝোঁক কেন? জাকারবার্গ নিজেই এর উত্তর দিয়েছিলেন। তিনি মনে করেন, সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের দ্রুত তথ্য দেয় ঠিকই, কিন্তু বই আমাদের দেয় কোনো বিষয়ের গভীরে যাওয়ার সুযোগ।

​জাকারবার্গের পাঠাগার: কেবল কোডিং নয়, বরং সমাজতত্ত্ব

​অনেকেই মনে করেন জাকারবার্গ হয়তো কেবল কম্পিউটার সায়েন্স বা বিজনেস রিলেটেড বই পড়েন। কিন্তু তার "এ ইয়ার অফ বুকস" তালিকায় চোখ বুলালে আপনি অবাক হবেন। সেখানে স্থান পেয়েছে সমাজবিজ্ঞান, ইতিহাস, ধর্মতত্ত্ব এবং বিজ্ঞানের জটিল সব বই।

​তিনি যখন মুকাদ্দিমাহ (ইবনে খালদুন) পড়েন, তখন তিনি বুঝতে চেষ্টা করেন কীভাবে সমাজ গড়ে ওঠে এবং ধ্বংস হয়। তিনি যখন 'দ্য স্ট্রাকচার অফ সায়েন্টিফিক রেভোলিউশন' পড়েন, তখন তিনি বোঝার চেষ্টা করেন কীভাবে পৃথিবী বদলে দেওয়া নতুন নতুন আবিষ্কারগুলো ঘটে। তার এই বৈচিত্র্যময় পাঠ তাকে ফেসবুকের মতো একটি সামাজিক প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করতে সাহায্য করে।

​'ডিপ রিডিং' বা গভীর পাঠের গুরুত্ব

​জাকারবার্গ বিশ্বাস করেন যে, বই পড়ার মাধ্যমে আমরা লেখকের কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা মাত্র কয়েক ঘণ্টায় অর্জন করতে পারি। তিনি মনে করেন, আজকের এই দ্রুতগতির পৃথিবীতে আমরা কেবল শিরোনাম (Headlines) পড়ার অভ্যাস করে ফেলেছি। এতে আমাদের মনোযোগের গভীরতা কমে যাচ্ছে।

​জাকারবার্গের পড়ার কৌশল হলো 'ডিসিপ্লিন'। তিনি যখন কোনো চ্যালেঞ্জ নেন, তা শেষ না করা পর্যন্ত থামেন না। তার মতে, বই পড়া হলো একটি ব্যায়ামের মতো। আপনি যত বেশি পড়বেন, আপনার মস্তিষ্ক তত বেশি জটিল সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হবে।

​জাকারবার্গের প্রিয় কিছু বই:

​তার চ্যালেঞ্জ থেকে উঠে আসা কিছু উল্লেখযোগ্য বই হলো:

  1. দ্য এন্ড অফ পাওয়ার (Moisés Naím): এই বইটি পড়ে তিনি বুঝেছিলেন কীভাবে বর্তমান যুগে বড় বড় শক্তির হাত থেকে ক্ষমতা সাধারণ মানুষের কাছে চলে যাচ্ছে।
  2. স্যাপিয়েন্স (Yuval Noah Harari): মানবজাতির ইতিহাস বোঝার জন্য তিনি এই বইটিকে অন্যতম সেরা মনে করেন।
  3. হোয়াই নেশনস ফেইল (Daron Acemoglu & James Robinson): দেশ কেন ধনী বা দরিদ্র হয়, সেই অর্থনৈতিক দর্শন তিনি এই বই থেকে লাভ করেছেন।

​আমাদের জন্য জাকারবার্গের শিক্ষা

​মার্ক জাকারবার্গ আমাদের দেখিয়েছেন যে, সাফল্য কেবল টেকনিক্যাল স্কিলের ওপর নির্ভর করে না। আপনি যদি মানুষের জন্য কিছু তৈরি করতে চান, তবে আপনাকে মানুষের মনস্তত্ত্ব, ইতিহাস এবং সমাজ সম্পর্কে জানতে হবে। আর এই জ্ঞান অর্জনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য রাস্তা হলো বই।

​ব্যস্ততা সবারই আছে, কিন্তু সেই ব্যস্ততার মাঝেও যদি জাকারবার্গ প্রতি দুই সপ্তাহে একটি বই শেষ করতে পারেন, তবে আমাদের পক্ষে মাসে অন্তত একটি বই পড়া মোটেও অসম্ভব নয়।

জাকারবার্গের বই পড়ার অভ্যাসটি একটি মুভমেন্টে পরিণত হয়েছিল। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, আপনি যত বড়ই লিডার হোন না কেন, নিজেকে আপডেট রাখার সেরা মাধ্যম হলো কালজয়ী সব বই। আপনার মস্তিষ্ককে কি আপনি নিয়মিত খাবার দিচ্ছেন?

​জেফ বেজোস: যখন সাহিত্যের গল্প বদলে দেয় ব্যবসার ব্যাকরণ
জেফ বেজোস: যখন সাহিত্যের গল্প বদলে দেয় ব্যবসার ব্যাকরণ

​আপনি কি জানেন, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অনলাইন বইয়ের দোকান 'অ্যামাজন' শুরু হয়েছিল জেফ বেজোসের বইয়ের প্রতি অগাধ ভালোবাসা থেকে? বেজোস কেবল বই বিক্রি করেই ক্ষান্ত হননি, তিনি নিজে একজন তুখোড় পাঠক। তবে অন্যান্য বিলিওনিয়ারদের সাথে বেজোসের একটি মৌলিক পার্থক্য আছে। যেখানে বিল গেটস বা ওয়ারেন বাফেট নন-ফিকশন (তথ্যমূলক বই) বেশি পড়েন, সেখানে বেজোস মনে করেন 'ফিকশন' বা উপন্যাস একজন মানুষের কল্পনাশক্তি বাড়াতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে।

​লিটারেচার যখন ব্যবসার মেন্টর

​জেফ বেজোস মনে করেন, একটি ভালো উপন্যাস আপনাকে শেখাতে পারে কীভাবে মানুষের মনের গহীনে প্রবেশ করতে হয়। তিনি একবার বলেছিলেন, "আপনি ফিকশন থেকে বাস্তব জীবনের চেয়েও অনেক বেশি শিক্ষা পেতে পারেন।" তার মতে, উপন্যাসের চরিত্রগুলো যখন কোনো সংকটে পড়ে, তখন তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়াটি পাঠকদের অনেক বেশি অভিজ্ঞ করে তোলে।

​বেজোস যখন অ্যামাজন শুরু করেন, তখন তিনি তার কর্মীদের জন্য একটি বিশেষ রিডিং লিস্ট তৈরি করেছিলেন। তিনি মনে করেন, যদি আপনি কোনো ব্যবসার ভবিষ্যৎ দেখতে চান, তবে আপনাকে অবশ্যই লিটারেচার বুঝতে হবে।

​বেজোসের প্রিয় কিছু বই: যা অ্যামাজনকে গড়ে তুলেছে

​বেজোসের চিন্তা জগতকে শাসন করে এমন কিছু বই হলো:

  1. দ্য রিমেইনস অফ দ্য ডে (Kazuo Ishiguro): এটি বেজোসের সবচাইতে প্রিয় উপন্যাস। এই বইটি পড়ার পর তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, মানুষ বৃদ্ধ বয়সে পৌঁছালে কেবল সেই কাজগুলোর জন্যই অনুশোচনা করে যা সে করেনি। এই অনুশোচনা এড়ানোর চিন্তা থেকেই তিনি তার নিরাপদ চাকরি ছেড়ে অ্যামাজন শুরু করার ঝুঁকি নিয়েছিলেন। তিনি একে বলেন "Regret Minimization Framework"
  2. বিল্ট টু লাস্ট (Jim Collins): একটি কোম্পানি কীভাবে যুগের পর যুগ টিকে থাকে, তার কৌশল তিনি এই বই থেকে শিখেছেন।
  3. দ্য ইনোভেটরস ডিলেমা (Clayton Christensen): এই বইটি তাকে শিখিয়েছে কীভাবে বড় কোম্পানিগুলো নতুন প্রযুক্তির কাছে হেরে যায় এবং কীভাবে অ্যামাজনকে সবসময় উদ্ভাবনী রাখতে হয়।

​অ্যামাজনের 'সিক্স পেজার' সংস্কৃতি

​বই পড়ার প্রতি বেজোসের ভালোবাসা এতটাই প্রবল যে, তিনি অ্যামাজনের মিটিং করার পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন এনেছেন। অ্যামাজনে কোনো 'পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন' হয় না। তার পরিবর্তে কোনো আইডিয়া উপস্থাপন করতে হলে ৬ পৃষ্ঠার একটি সুসংগঠিত মেমো বা ন্যারেটিভ লিখতে হয়।

​মিটিংয়ের শুরুতে প্রথম ২০-৩০ মিনিট সবাই পিনপতন নীরবতায় সেই ৬ পৃষ্ঠার লেখাটি পড়ে। বেজোস মনে করেন, স্লাইড শো দেখার চেয়ে লেখা পড়া মস্তিস্ককে বেশি সক্রিয় করে এবং এর ফলে গভীর আলোচনা সম্ভব হয়। এটি মূলত তার পাঠাভ্যাসেরই একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিফলন।

​বেজোসের দর্শন আমাদের জন্য

​জেফ বেজোস আমাদের শিখিয়েছেন যে, তথ্য বা উপাত্তের বাইরেও এক জগত আছে, যা কেবল কল্পনা আর সাহিত্যের মাধ্যমে বোঝা সম্ভব। আপনি যদি বড় কিছু তৈরি করতে চান, তবে আপনাকে কেবল ইঞ্জিনিয়ার হলে চলবে না, আপনাকে হতে হবে একজন স্বপ্নদ্রষ্টা। আর বই হলো সেই মাধ্যম যা আপনার কল্পনার দিগন্তকে প্রসারিত করে।

​আজও জেফ বেজোস যখন ব্লু অরিজিনের রকেট নিয়ে ভাবেন, তখন তার অবচেতন মনে কাজ করে ছোটবেলায় পড়া সেই সায়েন্স ফিকশন বইগুলোর দৃশ্য। বই তার কাছে কেবল জ্ঞান নয়, বরং বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা।


জেফ বেজোসের জীবন থেকে বড় শিক্ষা হলো— আপনি যদি জীবনের বড় ঝুঁকি নিতে ভয় পান, তবে একটি ভালো বই আপনার সেই ভয় দূর করতে পারে। সাহিত্যের শক্তি যে ব্যবসায়িক সাফল্যেও কাজ করে, বেজোস তার জীবন্ত প্রমাণ।

​অপরাহ উইনফ্রে: বই যখন অন্ধকার জীবনের ধ্রুবতারা
অপরাহ উইনফ্রে: বই যখন অন্ধকার জীবনের ধ্রুবতারা


​অপরাহ উইনফ্রে এমন একজন মানুষ যিনি শূন্য থেকে নয়, বরং ঋনাত্মক থেকে নিজের জীবন শুরু করেছিলেন। চরম দারিদ্র্য, লাঞ্ছনা আর অন্ধকারের মাঝে বেড়ে ওঠা একটি ছোট্ট মেয়ে কীভাবে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী নারীতে পরিণত হলেন? অপরাহ নিজেই এর উত্তর দেন এক শব্দে— "বই"

​তিনি একবার বলেছিলেন, "বই ছিল আমার স্বাধীনতার পাসপোর্ট। আমি যখন ছোট ছিলাম এবং আমার চারপাশের জগতটা ছিল খুব ছোট আর দমবন্ধ করা, তখন বই আমাকে দেখাত যে এর বাইরেও একটা পৃথিবী আছে যেখানে আমি যেতে পারি।" অপরাহর জন্য বই পড়া কেবল জ্ঞান অর্জন নয়, এটি ছিল বেঁচে থাকার সংগ্রাম।

​'অপরাহ'স বুক ক্লাব': এক বিশ্বজনীন বিপ্লব

​১৯৯৬ সালে অপরাহ তার টক শোতে একটি বুক ক্লাব শুরু করেন। অনেকেই ভেবেছিলেন একটি টেলিভিশন শোতে বই নিয়ে আলোচনা কে দেখবে? কিন্তু অপরাহ প্রমাণ করেছেন, মানুষ গল্পের কাঙাল। তার বুক ক্লাবে কোনো বইয়ের নাম আসা মানেই সেটি রাতারাতি 'বেস্টসেলার' হয়ে যাওয়া। একে বলা হয় 'অপরাহ ইফেক্ট'

​তিনি কেবল বই পড়েন না, তিনি বইয়ের ভেতর দিয়ে মানুষের আত্মিক পরিবর্তন ঘটাতে চান। তার হাত ধরেই লক্ষ লক্ষ মানুষ যারা আগে কখনও বই পড়ত না, তারা আবার লাইব্রেরিমুখী হয়েছে। অপরাহ মনে করেন, বই পড়া হলো নিজের আত্মার সাথে কথা বলার একটি উপায়।

​অপরাহর পড়ার ধরন: হৃদয়ের গভীর থেকে পাঠ

​বিল গেটস বা মাস্ক যখন বইকে তথ্য বা কৌশলের উৎস হিসেবে দেখেন, অপরাহ তখন বইকে দেখেন 'নিরাময়' (Healing) হিসেবে। তিনি বই পড়ার সময় নিজের অনুভূতিগুলোকে প্রাধান্য দেন। তিনি এমন সব বই পছন্দ করেন যা মানুষের সহমর্মিতা, আধ্যাত্মিকতা এবং মানসিক শক্তি বাড়িয়ে দেয়।

​তার প্রিয় কিছু বইয়ের তালিকা দেখলে আপনি তার চিন্তার গভীরতা বুঝতে পারবেন:

  1. টু কিল এ মকিংবার্ড (Harper Lee): এটি তার সবসময়ের প্রিয় বই। সামাজিক ন্যায়বিচার আর মানবতার এই গল্পটি তার জীবনের ভিত গড়ে দিয়েছিল।
  2. দ্য সিট অফ দ্য সোল (Gary Zukav): অপরাহ মনে করেন এই বইটি তার জীবন দর্শনে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলেছে। তিনি এটি পড়ে বুঝেছিলেন যে, প্রতিটি কাজের পেছনে একটি উদ্দেশ্য (Intention) থাকতে হয়।
  3. দ্য পাওয়ার অফ নাও (Eckhart Tolle): বর্তমান মুহূর্তে বেঁচে থাকার গুরুত্ব তিনি এই বই থেকে শিখেছেন এবং বিশ্বজুড়ে এটি প্রচার করেছেন।

​বই যখন একাকীত্বের সঙ্গী

​অপরাহ আজও তার শোবার ঘরের পাশে একটি ছোট লাইব্রেরি রাখেন। তিনি খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে এক ঘণ্টা পড়ার অভ্যাস করেন। তিনি মনে করেন, দিনের শুরুতে একটি ভালো বইয়ের পাতা উল্টানো মানে হলো নিজের মস্তিষ্ককে পজিটিভ এনার্জি দিয়ে রিচার্জ করা।

​ব্যস্ত শিডিউলের মাঝেও তিনি যখন বিমানে ভ্রমণ করেন বা কোনো শ্যুটিংয়ের বিরতিতে থাকেন, তার হাতে সবসময় একটি হার্ডকপি বই থাকে। তিনি ই-বুকের চেয়ে কাগজের বইয়ের ঘ্রাণ আর ছোঁয়া বেশি পছন্দ করেন।

​অপরাহর শিক্ষা আমাদের জন্য

​অপরাহ উইনফ্রে আমাদের শিখিয়েছেন যে, আপনার অতীত আপনার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না, বরং আপনার জ্ঞান আর আকাঙ্ক্ষা আপনাকে পথ দেখায়। আপনি যদি জীবনের কঠিন সময় পার করেন, তবে একটি ভালো বই হতে পারে আপনার সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু।

​তার মতে, "পড়া হলো একটি জানালা যার মাধ্যমে আপনি অন্য মানুষের জীবনকে অনুভব করতে পারেন।" এই সহমর্মিতা বা এম্প্যাথিই তাকে একজন সফল ব্যবসায়ী এবং অসাধারণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে।

অপরাহর জীবন থেকে আমরা শিখি যে, সম্পদ অর্জনের চেয়েও বড় সাফল্য হলো নিজের মনের জগতকে সমৃদ্ধ করা। বই সেই জাদুকরী চাবিকাঠি যা দিয়ে আপনি আপনার মনের বদ্ধ দুয়ার খুলে ফেলতে পারেন।

মার্ক কিউবান জ্ঞান যখন প্রতিযোগিতায় জেতার প্রধান অস্ত্র
মার্ক কিউবান জ্ঞান যখন প্রতিযোগিতায় জেতার প্রধান অস্ত্র

​আপনার কি মনে হয় যে আপনি আপনার প্রতিযোগী বা কলিগের চেয়ে বেশি জানেন? মার্ক কিউবান মনে করেন, যদি আপনি দিনে অন্তত ৩ ঘণ্টা পড়াশোনা না করেন, তবে আপনি প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন। কিউবানের সাফল্যের দর্শন খুব সহজ কিন্তু কঠোর— "সবাই কঠোর পরিশ্রম করতে চায়, কিন্তু খুব কম মানুষই নিজেকে শিক্ষিত করার জন্য সময় দেয়।"

​মার্ক কিউবান যখন তার প্রথম কোম্পানি 'মাইক্রোসলিউশনস' শুরু করেন, তখন তিনি প্রতিদিন রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফিরে সফটওয়্যার ম্যানুয়াল এবং টেকনিক্যাল বই পড়তেন। তিনি মনে করতেন, যদি তিনি তার প্রতিযোগীদের চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি তথ্য জানেন, তবে ডিল জেতার সম্ভাবনা তার ১০০ শতাংশ বেড়ে যাবে।

​"তথ্যই হলো শক্তি"

​কিউবানের মতে, জ্ঞান হলো এমন একটি সম্পদ যা আপনার কাছ থেকে কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। তিনি একবার বলেছিলেন, "আমি যা পড়ি, তা যে কেউ পড়তে পারে। কিন্তু পার্থক্য হলো, আমি পড়ার জন্য সময় বের করি।" তিনি কেবল বই পড়েন না, তিনি নতুন নতুন প্রযুক্তি, কেস স্টাডি এবং ইন্ডাস্ট্রি রিপোর্ট খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়েন।

​তার মতে, অধিকাংশ মানুষ কেবল উপরের তথ্যগুলো পড়ে ছেড়ে দেয়, কিন্তু সফল হতে হলে আপনাকে কোনো বিষয়ের গভীরে যেতে হবে। তিনি প্রতিদিন গড়ে ৩ ঘণ্টা সময় রাখেন কেবল পড়ার জন্য। এটি তার কাছে কোনো বিলাসিতা নয়, এটি তার ব্যবসার অপরিহার্য অংশ।

​কিউবানের পাঠতালিকায় যা থাকে

​মার্ক কিউবান সাধারণত বাস্তবসম্মত এবং ব্যবসায়িক কৌশলের বই পড়তে পছন্দ করেন। তার প্রিয় কিছু বই হলো:

  1. দ্য অনলি ইনভেস্টমেন্ট গাইড ইউ উইল এভার নিড (Andrew Tobias): এই বইটি কিউবান তার ২০ বছর বয়সে পড়েছিলেন। এটি তাকে শিখিয়েছিল কীভাবে টাকা জমাতে হয় এবং কৌশলী হতে হয়।
  2. সেল অর বি সোল্ড (Grant Cardone): বিক্রয় কৌশল বা সেলস-এর ওপর এই বইটিকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্ব দেন।
  3. র‍্যান্ডম ওয়াক ডাউন ওয়াল স্ট্রিট (Burton Malkiel): শেয়ার বাজার এবং অর্থনীতির জটিলতা বুঝতে তিনি এই বইটির সাহায্য নেন।

​কিউবানের পড়ার কৌশল: নোট এবং প্রয়োগ

​কিউবান কেবল বই পড়ে আনন্দ পান না, তিনি প্রতিটি তথ্য থেকে ব্যবসার সুযোগ খোঁজেন। তিনি পড়ার সময় সাথে একটি কলম বা হাইলাইটার রাখেন। তিনি মনে করেন, বই পড়ার আসল সার্থকতা হলো সেই তথ্যটি বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করা।

​তিনি যখন কোনো নতুন ইন্ডাস্ট্রিতে বিনিয়োগ করতে চান (যেমন: ব্লকচেইন বা এআই), তখন তিনি প্রথমে সেই বিষয়ের ওপর লেখা শ্রেষ্ঠ ৫-১০টি বই পড়ে ফেলেন। এতে করে তিনি যখন সেই খাতের বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলেন, তখন তিনি অন্তত সঠিক প্রশ্নগুলো করতে পারেন।

​আমাদের জন্য কিউবানের শিক্ষা

​মার্ক কিউবান আমাদের শিখিয়েছেন যে, আপনি যদি স্মার্ট হতে চান, তবে আপনাকে অবশ্যই একজন ক্ষুধার্ত পাঠক হতে হবে। তার মতে, আপনার পকেটে টাকা না থাকতে পারে, কিন্তু আপনার মাথায় যদি সঠিক তথ্য থাকে, তবে আপনি যেকোনো সময় সম্পদ গড়ে তুলতে পারেন।

​তিনি বলেন, "সাফল্য কোনো মিরাকল নয়, এটি হলো প্রিপারেশন বা প্রস্তুতির ফসল।" আর বই হলো সেই প্রস্তুতির সবচেয়ে সস্তা কিন্তু শক্তিশালী মাধ্যম।

মার্ক কিউবানের জীবন থেকে বড় শিক্ষা হলো— অলসতার কোনো জায়গা নেই যদি আপনি শীর্ষে থাকতে চান। বই পড়ার মাধ্যমে আপনি অন্যের অভিজ্ঞতায় নিজেকে দক্ষ করে তুলতে পারেন। আপনি কি আজ আপনার সেই ৩ ঘণ্টা সময় বইয়ের পেছনে দিয়েছেন?

​রিচার্ড ব্র্যানসন: ডিসলেক্সিয়া জয় করে বইয়ের পাতায় বিশ্বভ্রমণ
রিচার্ড ব্র্যানসন: ডিসলেক্সিয়া জয় করে বইয়ের পাতায় বিশ্বভ্রমণ

​কল্পনা করুন এমন একজন মানুষের কথা, যার কাছে শব্দেরা ঝাপসা হয়ে আসে, যিনি বর্ণমালা ঠিকমতো মেলাতে পারেন না। রিচার্ড ব্র্যানসন 'ডিসলেক্সিয়া' নামক একটি সমস্যায় আক্রান্ত। ছোটবেলায় তার শিক্ষকরা মনে করতেন তিনি বোধহয় জীবনে কিছুই করতে পারবেন না। কিন্তু সেই মানুষটিই আজ ৪০০-র বেশি কোম্পানির মালিক এবং একজন সফল বিলিওনিয়ার।

​ব্র্যানসন প্রমাণ করেছেন যে, বই পড়ার জন্য কেবল চোখের দৃষ্টি নয়, মনের গভীর তৃষ্ণাও প্রয়োজন। তার পড়ার অক্ষমতা তাকে দমাতে পারেনি, বরং তিনি পড়ার এক ভিন্ন কৌশল আয়ত্ত করেছেন।

​শোনার মাধ্যমে পড়া এবং নোট নেওয়া

​রিচার্ড ব্র্যানসন যেহেতু দ্রুত পড়তে পারেন না, তাই তিনি প্রচুর অডিওবুক শোনেন। এটিও বই পড়ার একটি আধুনিক রূপ। তিনি যখন বিমানে থাকেন বা তার ব্যক্তিগত দ্বীপে (Necker Island) বিশ্রাম নেন, তখন তিনি কান দিয়ে বই শোনেন।

​তবে তার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো তার 'নোটবুক'। তিনি যেখানেই যান, সাথে একটি ছোট ডায়েরি রাখেন। বই পড়ে বা শুনে কোনো ভালো আইডিয়া পেলে তিনি সাথে সাথে তা লিখে ফেলেন। তিনি মনে করেন, যদি আপনি কোনো আইডিয়া না লেখেন, তবে আপনি সেটি হারিয়ে ফেললেন। তার এই নোট নেওয়ার অভ্যাসটিই তাকে শত শত কোম্পানি চালাতে সাহায্য করে।

​ব্র্যানসনের লাইব্রেরিতে কী থাকে?

​ব্র্যানসন কেবল ব্যবসার বই পড়েন না। তিনি মনে করেন জীবনটা উপভোগ করার জন্য এবং অন্যের প্রতি দয়ালু হওয়ার জন্য সাহিত্য আর ইতিহাস পড়া জরুরি। তার প্রিয় কিছু বই হলো:

  1. স্টালিন: দ্য কোর্ট অফ দ্য রেড জার (Simon Sebag Montefiore): ইতিহাস এবং মানুষের চরিত্র বুঝতে তিনি এই বইটি পছন্দ করেন।
  2. হোয়াট ইজ দ্য হোয়াট (Dave Eggers): একজন সুদানিজ শরণার্থীর জীবন নিয়ে লেখা এই বইটি তার হৃদয়ে দাগ কেটেছিল। এটি তাকে মানুষের কষ্ট বুঝতে এবং চ্যারিটির কাজে উদ্বুদ্ধ করেছে।
  3. পিটার প্যান (J.M. Barrie): মজার ব্যাপার হলো, ব্র্যানসন আজও এই বইটি পছন্দ করেন কারণ এটি তাকে কিশোর মনের মতো স্বপ্ন দেখতে শেখায়।

​'অ্যাডভেঞ্চার রিডিং'

​রিচার্ড ব্র্যানসনের কাছে বই পড়া হলো এক ধরণের ভ্রমণ। তিনি যখন কোনো জীবনী পড়েন, তিনি অনুভব করেন তিনি সেই মানুষটির জুতোয় পা দিয়ে হাঁটছেন। তিনি মনে করেন, একজন উদ্যোক্তাকে বহুমুখী জ্ঞানের অধিকারী হতে হবে। আপনি যদি কেবল টাকার হিসাব বোঝেন, তবে আপনি সফল হবেন ঠিকই, কিন্তু আপনি একজন অনুপ্রেরণাদায়ক নেতা হতে পারবেন না।

​ব্র্যানসন প্রায়ই তার ব্লগে পাঠকদের জন্য বইয়ের তালিকা শেয়ার করেন। তিনি মনে করেন, বই হলো সেই সম্পদ যা মানুষকে সংকীর্ণতা থেকে মুক্তি দেয়। তিনি বলেন, "আমি যদি না পড়তাম, তবে আমি কখনোই ভার্জিন সাম্রাজ্য গড়ে তুলতে পারতাম না।"

​আমাদের জন্য ব্র্যানসনের শিক্ষা

​রিচার্ড ব্র্যানসন আমাদের শিখিয়েছেন যে, শারীরিক বা মানসিক সীমাবদ্ধতা কোনো অজুহাত হতে পারে না। যদি আপনার শেখার আগ্রহ থাকে, তবে আপনি অডিওবুক শুনে বা অন্যের পাঠ শুনেও নিজেকে সমৃদ্ধ করতে পারেন। তার জীবনের মূল মন্ত্র হলো— কৌতূহল বজায় রাখা

​তিনি আমাদের মনে করিয়ে দেন যে, বই পড়া মানে কেবল তথ্য সংগ্রহ করা নয়, বরং নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করা। আপনি যদি মনে করেন আপনি পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন না, তবে ব্র্যানসনের ডায়েরি আর অডিওবুকের কথা একবার ভাবুন।


রিচার্ড ব্র্যানসনের গল্প আমাদের মনে সাহস জোগায়। সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বইয়ের সাথে বন্ধুত্ব করলে পৃথিবী জয়ের পথ প্রশস্ত হয়। আপনি কি আপনার সীমাবদ্ধতাগুলোকে জয়ের হাতিয়ার বানাতে প্রস্তুত?

​শারিল স্যান্ডবার্গ: নেতৃত্ব এবং সহমর্মিতার পাঠ যখন বইয়ের পাতায়
শারিল স্যান্ডবার্গ: নেতৃত্ব এবং সহমর্মিতার পাঠ যখন বইয়ের পাতায়

​বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারীদের তালিকায় শারিল স্যান্ডবার্গের নাম সবসময় প্রথম সারিতে থাকে। গুগল এবং ফেসবুকের মতো টেক জায়ান্টদের আজকের অবস্থানে নিয়ে আসার পেছনে তার মস্তিষ্কের অবদান অনস্বীকার্য। কিন্তু শারিল কেবল একজন নিখুঁত এক্সিকিউটিভ নন, তিনি একজন একনিষ্ঠ পাঠক এবং প্রখর চিন্তাবিদ।

​শারিলের জন্য বই পড়া কেবল ব্যক্তিগত উন্নয়ন নয়, বরং এটি তার কাছে সমাজকে বোঝার এবং নেতৃত্ব দেওয়ার একটি কৌশল। তিনি বিশ্বাস করেন, একজন ভালো লিডার হওয়ার প্রথম শর্ত হলো একজন ভালো পাঠক হওয়া।

​বই যখন শোকের সান্ত্বনা এবং শক্তির উৎস

​২০১৫ সালে শারিল তার স্বামী ডেভ গোল্ডবার্গকে হারান। এই আকস্মিক শোক তাকে মানসিকভাবে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছিল। সেই অন্ধকার সময়ে তিনি বইয়ের মাঝেই খুঁজে পেয়েছিলেন নতুন করে বেঁচে থাকার রসদ। তিনি প্রচুর সাইকোলজি এবং রেজিলিয়েন্স (ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা) বিষয়ক বই পড়তে শুরু করেন।

​পরবর্তীতে এই পড়াশোনা এবং নিজের অভিজ্ঞতা মিলিয়ে তিনি নিজেই লিখে ফেলেন 'Option B' নামক একটি কালজয়ী বই। শারিল প্রমাণ করেছেন, বই কেবল জ্ঞান দেয় না, এটি জীবনের কঠিনতম সময়ে মানুষের মানসিক ক্ষত নিরাময়ে ঔষধের মতো কাজ করে।

​শারিলের পাঠতালিকায় কী থাকে?

​শারিল স্যান্ডবার্গ মূলত সেই সব বই পড়তে পছন্দ করেন যা মানুষের ব্যবহারিক জীবন, নেতৃত্ব এবং সামাজিক পরিবর্তন নিয়ে কথা বলে। তার প্রিয় কিছু বই হলো:

  1. আ রিনকল ইন টাইম (Madeleine L'Engle): এটি তার ছোটবেলার প্রিয় বই। তিনি মনে করেন এই বইটি তাকে প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে শিখিয়েছে।
  2. দ্য লিন স্টার্টআপ (Eric Ries): ব্যবসার ক্ষেত্রে কীভাবে দ্রুত পরিবর্তন আনতে হয় এবং ভুল থেকে শিখতে হয়, তার জন্য তিনি এই বইটিকে আদর্শ মনে করেন।
  3. কনশাস লিডারশিপ (John Mackey): একজন নেতা কীভাবে কেবল মুনাফা নয়, বরং উচ্চতর উদ্দেশ্যের দিকে লক্ষ্য রেখে কাজ করতে পারেন, সেই পাঠ তিনি এখান থেকেই নিয়েছেন।

​পড়ার কৌশল: শেখা এবং শিখানো

​শারিলের পড়ার স্টাইলটি একটু ভিন্ন। তিনি যা পড়েন, তা কেবল নিজের মাঝে সীমাবদ্ধ রাখেন না। তিনি তার সহকর্মী এবং বান্ধবীদের সাথে বই নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন। তিনি মনে করেন, কোনো একটি বই পড়ার পর তা নিয়ে অন্যের সাথে কথা বললে সেই জ্ঞানটি মস্তিস্কে স্থায়ী হয়ে যায়।

​তিনি নিয়মিত তার ফেসবুক পেজে এবং বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বইয়ের সুপারিশ করেন। বিশেষ করে নারীদের জন্য তিনি এমন সব বইয়ের কথা বলেন যা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং নেতৃত্বের পথে বাধাগুলো অতিক্রম করতে সাহায্য করে।

​আমাদের জন্য শারিলের শিক্ষা

​শারিল স্যান্ডবার্গ আমাদের শিখিয়েছেন যে, ব্যস্ততা বা বড় পজিশন মানেই শেখার ইতি টানা নয়। তিনি মনে করেন, একজন মানুষ যত বেশি পড়বে, সে তত বেশি 'এম্প্যাথেটিক' বা সহানুভূতিশীল হবে। আর বর্তমান বিশ্বে সহমর্মিতার সাথে নেতৃত্ব দেওয়াটাই সবচেয়ে বেশি জরুরি।

​তার মতে, "বই হলো সেই মাধ্যম যা আমাদের শেখায় যে আমরা পৃথিবীতে একা নই।" আপনি যখন অন্য কারো লেখা পড়েন, তখন আপনি তাদের অভিজ্ঞতা থেকে শক্তি পান। শারিলের এই নিরন্তর শেখার মানসিকতাই তাকে বিশ্বের অন্যতম অনুপ্রেরণাদায়ক নারীতে পরিণত করেছে।

শারিল স্যান্ডবার্গের জীবন থেকে আমরা শিখি যে, জ্ঞান কেবল ব্যবসার জন্য নয়, জ্ঞান প্রয়োজন জীবনের ভারসাম্য রক্ষার জন্য। বইয়ের প্রতিটি পাতা আপনাকে আরও একটু সহনশীল এবং আরও একটু শক্তিশালী করে তোলে।

​চার্লি মুঙ্গার: একটি চলন্ত লাইব্রেরি যার কোনো রিটায়ারমেন্ট নেই
চার্লি মুঙ্গার: একটি চলন্ত লাইব্রেরি যার কোনো রিটায়ারমেন্ট নেই

​২০২৩ সালে ৯৯ বছর বয়সে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত চার্লি মুঙ্গার একটি কথা বারবার বলতেন— "আমি এমন কোনো বুদ্ধিমান মানুষকে দেখিনি যারা প্রতিদিন প্রচুর পড়েন না। কোনো একজনও না।" ওয়ারেন বাফেটকে যদি আপনি চেনেন, তবে আপনাকে অবশ্যই চার্লি মুঙ্গারকে চিনতে হবে। কারণ বাফেটের প্রতিটি সফল বিনিয়োগের পেছনে ছিল মুঙ্গারের তীক্ষ্ণ বুদ্ধির ছাপ। আর এই বুদ্ধির উৎস ছিল হাজার হাজার বই।

​বাফেট নিজে মুঙ্গার সম্পর্কে বলেছিলেন, "চার্লি কেবল একজন পার্টনার নন, তিনি হলেন একটি চলন্ত এনসাইক্লোপিডিয়া।" মুঙ্গারকে তার সন্তানরা রসিকতা করে বলতেন "একটি পা-বিশিষ্ট বই" (A book with a couple of legs sticking out)। কারণ তিনি যখন বই পড়তেন, তখন বাইরের জগতের সাথে তার কোনো সংযোগ থাকত না।

​ল্যাটিসওয়ার্ক অফ মেন্টাল মডেল (Mental Models)

​চার্লি মুঙ্গারের বই পড়ার ধরণ ছিল অন্য সবার চেয়ে আলাদা। তিনি কেবল একটি বিষয়ের ওপর বিশেষজ্ঞ হতে চাইতেন না। তিনি বিশ্বাস করতেন 'মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি লার্নিং'-এ। অর্থাৎ, তিনি একই সাথে মনোবিজ্ঞান, অর্থনীতি, পদার্থবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান এবং ইতিহাস পড়তেন।

​তিনি মনে করতেন, আমাদের মস্তিষ্কে জ্ঞানের একটি জাল বা 'ল্যাটিসওয়ার্ক' থাকতে হবে। আপনি যদি কেবল একটি বিষয়ের বই পড়েন, তবে আপনি সেই মানুষটির মতো হবেন যার হাতে কেবল একটি হাতুড়ি আছে এবং সে পৃথিবীর সব সমস্যাকে একটি 'পেরেক' মনে করবে। মুঙ্গারের মতে, বিভিন্ন বিষয়ের বই পড়লে আপনি প্রতিটি সমস্যাকে ভিন্ন ভিন্ন কোণ থেকে দেখতে পারবেন এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

​মুঙ্গারের প্রিয় কিছু বই: বুদ্ধির ধার বাড়াতে যা তিনি পড়তেন

​চার্লি মুঙ্গার খুব কম বইয়ের প্রশংসা করতেন, কিন্তু যেগুলোর করতেন সেগুলো হতো তথ্যে ঠাসা। তার তালিকায় থাকতো:

  1. সেলফিশ জিন (Richard Dawkins): জীববিজ্ঞান কীভাবে আমাদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে তা বুঝতে তিনি এই বইটি পড়তে বলতেন।
  2. ইনফ্লুয়েন্স (Robert Cialdini): মানুষের মনস্তত্ত্ব এবং প্ররোচনা বোঝার জন্য এটি তার প্রিয় ছিল।
  3. বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিনের জীবনী: ফ্র্যাঙ্কলিন ছিলেন মুঙ্গারের পরম আদর্শ। তার মতো বহুমুখী প্রতিভা হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন মুঙ্গার।

​পড়ার কৌশল: আজীবন ছাত্রত্ব

​মুঙ্গার বিশ্বাস করতেন যে, পৃথিবীতে বেঁচে থাকা মানেই হলো প্রতিনিয়ত শিখতে থাকা। আপনি যদি মনে করেন যে আপনি পড়াশোনা শেষ করে ফেলেছেন, তবে আপনার মৃত্যু সেখানেই শুরু হয়ে গেছে। তিনি তার ৯৯ বছরের জীবনে প্রতিটি দিন অন্তত ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা গভীর পড়াশোনা করেছেন। এমনকি বার্ধক্যের কারণে যখন তার চোখের দৃষ্টি ক্ষীণ হয়ে এসেছিল, তখন তিনি বিশেষ ম্যাগনিফায়িং গ্লাস ব্যবহার করে বই পড়তেন।

​তিনি মনে করতেন, বই পড়া হলো পৃথিবীর সেরা বিনিয়োগ। কারণ বই আপনাকে অন্যের সারা জীবনের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা দেয়, যা আপনাকে নিজের জীবনে সেই একই ভুল করা থেকে বাঁচিয়ে দেয়।

​আমাদের জন্য মুঙ্গারের শিক্ষা

​চার্লি মুঙ্গার আমাদের শিখিয়েছেন যে, আপনি যদি স্মার্ট হতে চান তবে আপনাকে বই পড়ার প্রতি অনুগত হতে হবে। কেবল নিজের পছন্দের বিষয় নয়, বরং জগতের সব মৌলিক বিষয় সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। তিনি বলতেন, "যদি তুমি জানো না এমন কিছু নিয়ে তর্ক করতে চাও, তবে প্রথমে সেই বিষয়ের বিপক্ষের যুক্তিগুলো তোমার চেয়ে ভালো কেউ যাতে দিতে না পারে তা নিশ্চিত করো।" আর এই গভীরতা আসে একমাত্র বই থেকে।

​তিনি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে গেছেন যে, সম্পদ নয় বরং জ্ঞানই হলো মানুষের প্রকৃত আভিজাত্য।

চার্লি মুঙ্গারের জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মানুষের শরীর বুড়িয়ে গেলেও জ্ঞান এবং কৌতূহল কখনো বৃদ্ধ হয় না। বই পড়ার নেশা আপনাকে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তরুণ রাখতে পারে।

উপসংহার: বই কি কেবল সম্পদ তৈরির হাতিয়ার?

​আমরা যারা এই আর্টিকেলটি শুরু থেকে পড়েছি, তারা একটা বিষয় নিশ্চয়ই খেয়াল করেছি—পৃথিবীর এই ১০ জন শ্রেষ্ঠ ধনকুবেরের মধ্যে অমিল অনেক থাকলেও একটি জায়গায় তারা সবাই এক সুতোয় গাঁথা। তা হলো তাদের অদম্য কৌতূহল এবং বইয়ের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা

​অনেকে মনে করেন, তারা ধনী বলেই বই পড়ার সময় পান। কিন্তু বাস্তবতা হলো, তারা বই পড়েন বলেই আজ এই অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছেন। বই তাদের কেবল তথ্য দেয়নি, দিয়েছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস, পৃথিবীকে দেখার নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং কঠিন সময়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ধৈর্য।

​এই আর্টিকেল থেকে আমাদের ৫টি বড় শিক্ষা

​আমরা যদি এই ১০ জন ব্যক্তির অভ্যাসগুলো বিশ্লেষণ করি, তবে পাঁচটি মূল মন্ত্র খুঁজে পাই:

  1. পড়া কেবল শখ নয়, এটি একটি বিনিয়োগ: ওয়ারেন বাফেট যেমনটি বলেছেন, জ্ঞান চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়ে। আজকের একটি পাতা হয়তো আগামী ৫ বছর পর আপনার কোনো বড় ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত সংকটে আলোকবর্তিকা হয়ে দেখা দেবে।
  2. বৈচিত্র্যময় পাঠ (Diversity of Reading): বিল গেটস থেকে শুরু করে চার্লি মুঙ্গার—কেউই কেবল তাদের কাজের বিষয়ের ওপর বই পড়েন না। তারা ইতিহাস, বিজ্ঞান, দর্শন এবং ফিকশন পড়েন। কারণ জগতকে বুঝতে হলে আপনাকে বহুমুখী জ্ঞান অর্জন করতে হবে।
  3. সক্রিয় পাঠ (Active Reading): তারা কেবল চোখ দিয়ে পড়েন না। বিল গেটস নোট নেন, মার্ক কিউবান হাইলাইট করেন, আর জাকারবার্গ অন্যদের সাথে আলোচনা করেন। বই থেকে পাওয়া তথ্যকে মগজে স্থায়ী করার জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি।
  4. সময় নেই—এটি একটি অজুহাত: ইলন মাস্কের মতো ব্যস্ত মানুষ যদি রকেট সায়েন্সের বই পড়ার সময় পান, তবে আমাদের "সময় নেই" বলাটা নেহাতই আলস্য। তারা সময় পান না, বরং তারা সময় তৈরি করেন
  5. কল্পনাশক্তির গুরুত্ব: জেফ বেজোস বা রিচার্ড ব্র্যানসন আমাদের শিখিয়েছেন যে, সায়েন্স ফিকশন বা উপন্যাস পড়া সময় নষ্ট নয়। এটি আপনার সৃজনশীলতা এবং কল্পনাশক্তিকে এমন উচ্চতায় নিয়ে যায়, যা থেকে বড় বড় উদ্ভাবনের জন্ম হয়।

​আপনার যাত্রা শুরু হোক আজ থেকেই

​এই আর্টিকেলে উদ্দেশ্য কেবল এই ১০ জন মানুষের প্রশংসা করা নয়, বরং আপনাকে উদ্বুদ্ধ করা। আপনি হয়তো বিলিওনিয়ার হতে চান না, কিন্তু আপনি নিশ্চয়ই আপনার বর্তমান সংস্করণের চেয়ে আরও উন্নত, আরও বুদ্ধিমান এবং আরও সচেতন হতে চান। আর সেই উন্নতির মই হলো বই।

​একটি বই মানে একজন লেখকের সারা জীবনের অভিজ্ঞতার নির্যাস। মাত্র কয়েকশ টাকায় আপনি সেই অভিজ্ঞতা কিনে নিচ্ছেন—এর চেয়ে বড় ডিল আর কী হতে পারে?

​পাঠকদের জন্য একটি বিশেষ প্রশ্ন

​আমাদের এই দীর্ঘ আর্টিকেল টা এখানে শেষ হচ্ছে। আপনাদের কাছে আমার একটি বিশেষ প্রশ্ন:

"এই ১০ জন ব্যক্তির মধ্যে কার পড়ার অভ্যাস বা জীবন দর্শন আপনাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করেছে এবং কেন? আর আজ থেকে আপনি কোন বইটি পড়ার মাধ্যমে আপনার নতুন যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছেন?"


​আপনার উত্তরটি নিচে কমেন্ট বক্সে লিখুন। আপনার একটি মন্তব্য হয়তো অন্য কাউকে বই পড়তে অনুপ্রাণিত করতে পারে।

Jahidnote-এর সাথে থাকার জন্য আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। আমরা বিশ্বাস করি, একটি শিক্ষিত এবং সচেতন সমাজ গঠনে বইয়ের কোনো বিকল্প নেই। খুব শীঘ্রই আমরা ফিরব অন্য কোনো রোমাঞ্চকর আর্টিকেল নিয়ে। ততক্ষণ পর্যন্ত— পড়তে থাকুন, শিখতে থাকুন এবং নিজেকে ছাড়িয়ে যান।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন