আমরা যখন ইতিহাস পড়ি তখন আমাদের শেখানো হয় রাজা বাদশাহের যুদ্ধ। সিংহাসন দখলের গল্প আর বিজয়ের গৌরব। কিন্তু ইতিহাসের সব গল্প কি সত্য লেখা থাকে?
কিছু জায়গা আছে যে গুলো মানচিত্রে থাকলেও ইতিহাসে নেই।আবার কিছু জায়গা আছে যেগুলো ইতিহাসে থেকেও মুছে ফেলা হয়েছে। আজকের গল্প ঠিক সেই রকমই একটা জায়গা নিয়ে ।
বাংলার দক্ষিণে সুন্দরবনের গভীরে একটা নাম না জানা দ্বীপের। এক সময় যার নাম ছিল মৃত্যুপুরী।লোকেরা বিশ্বাস করত এই দ্বীপে পা রাখলে মানুষ আর মানুষ থাকে না। ফিরে আসে না কোনো নাবিক,কোনো সৈন্য, কোনো লুটেরা। কিন্তু প্রশ্ন হলো এই দ্বীপে এমন কি ঘটে ছিল যা শত শত বছর পরেও জেলেরা নাম উচ্চারণ করতেও ভয় পায়।
সুন্দরবন যেখানে আইন থেমে যায়
সময় টা ষোরশ শতাব্দীর উত্তর দিল্লি থেকে দক্ষিণে দাক্ষিণাত্র।মোগল সমাজ্য তখন শক্তির শিখরে। কিন্তু বাংলার দক্ষিণে সুন্দরবনের জলাভূমিতে মোগল আইনের দেওয়াল ভেঙে যায়।করন এখানে ছিল কুয়াশায় ঢাকা নদী।,দিক বদলানো জোয়ার আর ম্যানগ্রোভ বনের ভয়ংকর নিরবতা। এমন এক জায়গা যেখানে সেনাবাহীনি ডুকতে ভয় পেত।আর এই সুযোগই নিয়েছিল দুইটা ভয়ংকর শক্তি।
মগ জলদস্যু আর পর্তুগীজ দস্যুদের রাজত্ব
মগরা ছিল আরাকান অঞ্চল থেকে আসা যোদ্ধা আর পর্তুগিজ রা এসেছিল সমুদ্র পেরিয়ে ব্যাবসার নামে কিন্তু কাজ ছিল দস্যুতা। এই দুই শক্তি মিলে সুন্দর বনের উপকূল কে বানিয়ে ছিল একটি জীবন্ত নরক।গ্রাম পোড়ানো হতো, নারী শিশু ধরে নেওয়া হতো।
হাজার হাজার মানুষ কে দাস হিসেবে বিক্রি করা হতো পর্তুগিজ বাজারে।তাদের প্রধান ঘাটি ছিল রায় মঙ্গল নদীর পারে একটি নামহীন দ্বীপে। লোকেরা ফিস ফিস করে বলত,"ওটা অভিশপ্ত দ্বীপ।" কিন্তু দস্যুরা বলত," ওটা সোনার দ্বীপ।
লুকানো ধন ও হারিয়ে যাওয়া মানুষ।
কথিত আছে এই দ্বীপের মাটির নিচে লুকিয়ে আছে লুট করা সেনা, রুপা,মুদ্রা গহনা ও হাজার হাজার টনের ধন সম্পত্তি। অনেকেই চেষ্টা করছিল গোপনে সেই ধন লুট করতে কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় কেউই ফিরে আসেনি। না নৌকা, না লাশ, না কোনো চিহ্ন শুধু নদীর বুকে ভেসে উঠত ভাঙা বৈঠা আর পোড়া কাঠ।
মোগল সম্রাটের গোপন মিশন
সময় ঘরাল।মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীর এর দরবারেও এই গল্প পৌছল।তিনি পাঠালেন এক বিশেষ দূত।যা ইতিহাসে নাম ইচ্ছেকৃত ভাবে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। তার হাতে দেওয়া হলো এক প্রাচীন পারস্য পুথি।সেই পুঁথি তে লেখা ছিল এই দ্বীপ অভিশপ্ত। এক তান্ত্রিক সাধকের ক্রোধ এইখান কার মাটি ও বাতাসে বন্ধি।দূত জানত সে হয়ত আর ফিরবে না তবুও সে গেল।
দ্বীপে প্রবেশ
নোকা পৌঁছল দ্বীপে। হাওয়া থেমে গেল, পাখিরা উড়ে গেল। হটাৎ করে কুয়াশা নেমে আসল।দস্যুরা দূত কে বন্দী করল।তারা হাসছিল। অভিশাপ তারা বিশ্বাস করত না।কিন্তু সেই রাতেই সব বদলে গেল।যে রাত ইতিহাসে মুছে ফেলা হয়।মাঝ রাত। হটাৎ দ্বীপের চারপাশ থেকে ভেসে এল কান্নার আওয়াজ। নারী,শিশু, বৃদ্ধ শত শত কন্ঠ। দস্যুরা ছোটাছুটি করল।পর্তুগিজ সর্দার রদ্রিগো দেখল তার সামনে দাড়িয়ে আছে তার নিজেরই ছায়া।
ছায়াটা নড়ছে, হাসছে আর আক্রমণ করতে এগিয়ে আসছে।কেউ কাউকে মারেনি। কোনো অস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি কিন্তু একে একে সবাই মাটিতে লুটিয়ে পড়ল।সময় যেন থেমে গেল।
বিভীষিকাময় ভৌর
দ্বীপ নিঃশব্দ।নদীর ধারে পরে আছে হাজার হাজার মানুষের কংকাল। একটাতেও ছুরির দাগ নেয়,গুলির চিহ্ন নেই বা যুদ্ধের কোনো চিহ্ন নেই।মোগল দূতও নেয়।দ্বীপ টি হয়ে গেল জল শূন।
আধুনিক ব্যাখ্যা বনাম লোককথা
আজকের বিজ্ঞানীরা বলেন বিষাক্ত গ্যাস, মিথেন বিস্ফোরণ, অক্সিজেন ঘাটতি। কিন্তু সুন্দরবনের জেলেরা বলে ওটা ছিল কালভৈরবের স্থান। লোভ নিয়ে গেলে ফেরত দেয়না।আজও অমাবস্যা রাত্রে রায় মঙ্গল নদীর ধারে দেখা যায় অদ্ভুত আলো। শোনা যায় চেনা ভাষায় কান্না। প্রশ্ন থেকে যায় এই দ্বীপ কি সত্যি নেই নাকি ইচ্ছাকৃত ভাবে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। এটা কি শুধু মিথ নাকি প্রকৃতির প্রতিশোধ।
সিদ্ধান্ত আপনার। কমেন্ট আপনার মতামত জানান। আর এমন অজানা ইতিহাস জানতে জাহিদ নোট ওয়েব সাইটটি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন
