পৃথিবীর রহস্যময় স্থান যেখানে বিজ্ঞানী হার মেনেছে || Unsolved Mysterious

 

পৃথিবীর রহস্যময় স্থান যেখানে  বিজ্ঞানী হার মেনেছে || Unsolved Mysterious

পৃথিবীর ৭ টি রহস্যময় স্থান

পৃথিবীতে এমন কিছু স্থান আছে যেগুলো আমাদের যুক্তি ও বিজ্ঞানের সকল ব্যাখ্যাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। এমন এক গ্রাম যেখানে মানুষ দিনের পর দিন ঘুমিয়ে থাকে।এমন এক নদী যেখানে পরলে মানুষ জীবন্ত সেদ্ধ হয়ে যায়।এমন এক ঝরনা যেখান থেকে পানি নয় ঝরে পড়ে রক্ত।

 স্থানগুলোর কথা শুনলে মনে হতে পারে এগুলো কোন ভূতের গল্প বা সিনেমার অংশ। কিন্তু বিশ্বাস করুন বাস্তবে এগুলোর অস্তিত্ব রয়েছে। তো আজকের এই আর্টিকেলে আমরা আবিষ্কার করব পৃথিবর এমনই কিছু রহস্যময় স্থান যেগুলো আজও বিজ্ঞানীদের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন কারণ এখানে অপেক্ষা করছে নতুন এক বিস্ময়। 

মাউন্ট রোরাইমা ভেনিজুয়েলা

পৃথিবীর ৭ টি রহস্যময় স্থান

১.মাউন্ট রোরাইমা ভেনিজুয়েলা 

প্রথম দেখায় মনে হতে পারে মেঘের উপরে ভাসমান কোন দ্বীপ বাস্তবে এটা ভেনিজুয়েলা  এর অবস্থিত একটি পর্বত যেটার উচ্চতা প্রায় ২৮১০ মিটার। আর এই পাহাড়ের উপরের অংশ সম্পূর্ণ ফ্ল্যাট।

 পৃথিবীর সকল পর্বত উপরে দিকে সূচ আকারে হয় কিন্তু মাউন্ট রোরাইমা এমন একটি পর্বত যার উপরী ভাগ ফ্ল্যাট বা সমতল। স্থানীয় ভাষায় মাউন্ট রোরাইমার নাম টিপুই।বলে রাখা ভালো টিপুই শব্দের আঞ্চলিক অর্থ বা পেমন ইন্ডিয়ানদের মতে এর অর্থ "দেবতাদের আবাসস্থল"।“পেমন আদিবাসীদের দেওয়া ‘রোরাইমা’ নামটির ‘রোরাই’ শব্দের অর্থ ‘নীল-সবুজ’ এবং ‘মা’ শব্দের অর্থ ‘মহান’।”মাউন্ট রোরাইমা মূলত স্যান্ডস্টোন বা বালি পাথরে গঠিত। মাউন্ট রোরাইমা  পর্বতটি প্রথম আলোচনায় আসে ১৫৯৬ সালে।

“এবার আসা যাক মাউন্ট রোরাইমা আবিষ্কারের ইতিহাসে। এই বিস্ময়কর পর্বতটির কথা প্রথম উল্লেখ করেন ইংরেজ অভিযাত্রী স্যার ওয়াল্টার র‍্যালে। সে সময় তিনি কিংবদন্তিতুল্য স্বর্ণনগরী ‘এল ডোরাডো’র সন্ধানে দক্ষিণ আমেরিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল চষে বেড়াচ্ছিলেন। সেই অভিযানেরই এক পর্যায়ে গায়ানায় তিনি মেঘে ঘেরা রহস্যময় এই পর্বত—মাউন্ট রোরাইমার সন্ধান পান। 

পরবর্তীতে ১৮৮৪ সালে আরেক ব্রিটিশ অভিযাত্রী স্যার এভেরার্ড ইম থুর্ন সর্বপ্রথম মাউন্ট রোরাইমার চূড়ায় পদার্পণ করতে সক্ষম হন।” মাউন্ট রোরাইমা  তিন দেশের সীমান্তে অংশীদারত্বে রয়েছে  যারা হলো 

১.ভেনিজুয়েলা প্রায় ৮৫%

২.ব্রাজিলে প্রায় ৫%

৩. গায়ানা তে প্রায় ১০% রয়েছে। 

কিন্তু একমাত্র ভেনিজুয়েলা সীমান্ত দিয়েই এই দুর্গম মাউন্ট রোরাইমাতে প্রবেশ করা যায়।

এই পর্বত থেকে গড়িয়ে পড়ে পৃথিবীর অন্যতম বড় জলপ্রপাত। ন্যাশনাল জিওগ্রাফির ডকুমেন্ট অনুযায়ী এ পর্বতের বয়স ২০০ কোটিরও বেশি। একটা সময় ছিল যখন এই পর্বতটি বাইরের পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ছিল। ১৮৮৪ সালে স্যার এভারার্ড এম থার্ন সর্বপ্রথম এই পর্বতের চূরায় ওঠেন। তখনই জানা যায় এর চূরাটি একদম টেবিলের মতো সমতল। গবেষণায় দেখা গেছে এখানে এমন কিছু উদ্ভিদ ও প্রাণী অস্তিত্ব রয়েছে যেগুলো পৃথিবীর অন্য কোথাও দেখা যায় না। 

এই পর্বত আরোহণের অনুমতি আছে। কিন্তু তথাপিও পর্যটকরা হেলিকপ্টারের মাধ্যমে সৌন্দর্য উপভোগ করে। স্যার আর্থার কনান দোয়েলে কে ‘দ্য লস্ট ওয়ার্ল্ড’ (The Lost World) উপন্যাস লিখতে অনুপ্রাণিত করেছিল এই মাউন্ট রোরাইমা  এবং মাউন্ট রোরাইমা জলপ্রপাত নিয়ে ২০০৯ সালে তৈরি হয়েছিলো “Paradise Falls” মুভিটি।

কেলিমুতু ত্রি কালার্ড লেক

পৃথিবীর ৭ টি রহস্যময় স্থান

২. কেলিমুতু ত্রি কালার্ড লেক

ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরিজ (Flores)  দ্বীপে রয়েছে তিনটি রহস্যময় দ্বীপ যেগুলো প্রত্যেকটা দ্বীপের জলের রং আলাদা আলাদা। আর সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হল এই হ্রদ গুলো রং বছরে একাধিকবার পরিবর্তন হয়। তবে এই তিনটি লেক এক সাথে থাকা সত্বেও কখনো এক রংএর হয় না। হৃদ গুলো kelimutu National Park এ অবস্থিত। ধারনা করা হয় এগুলো নিচে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে। সেখান থেকে নির্গত গ্যাস পানির সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে রং বদল ঘটায়। তবে কখনোই তিনটি লেকের পানি এক রঙের হয় না। যা আজও একটি রহস্য।

বয়েলিং রিভার

 পৃথিবীর ৭ টি রহস্যময় স্থান

৩. বয়েলিং রিভার

অ্যামাজন বন যা বিশ্বের বৃহত্তম বন। যদিও এই বন আট টি দেশে বিস্তৃত। তবে মেরু এমন একটা নদী রয়েছে  যেটার পানি সর্বদা ফুটতে থাকে।এই নদীটি "শানায়-টিমপিশকা" নামে পরিচিত। এই নদীর জল সব সময় ফুটতে থাকে। আর এর পানির তাপমাত্রা ৯০ থেকে ১০০ ডিগ্রী সেলসিয়াস। যার স্পষ্ট অর্থ হল যদি কোন প্রাণী বা মানুষ বুল করেও যদি এই নদীতে পরে যায় তাহলে সে জীবন্ত সিদ্ধ হয়ে যাবে। 

এই নদীটাকে দীর্ঘদিন পর্যন্ত একটা মিথ মনে করা হতো। তারপর পেরুর এক বিজ্ঞানী Andres Ruzo এই নদীটি বের করার সিদ্ধান্ত নেন। এবং ২০১১ সালে তিনি এটিকে অ্যামাজন বনে খুঁজে পায়। যখন তিনি এই নদীর তাপমাত্রা নেন তখন তা ৮৬ ডিগ্রি সেলসিয়া পর্যন্ত ছিল। কিন্তু এখন প্রশ্ন হল এই নদীর জল এত উষ্ণ কেন।?

এর একটা সঠিক কারণ হতে পারে এর আশেপাশে সক্রিয় অগ্নিগিরি বিদ্যমান যার কারণে এই নদীর জল এত গরম হয়।কিন্তু অবাক করার বিষয় হল এই নদীর ৪০০ মাইল মধ্যে কোন সক্রিয়

 অভিনয়গিরি বিদ্যমান নেই। স্থানীয় মানুষদের বিশ্বাস করা হয় তাহলে ইয়াকুমামা নামে বিশাল এক সাপের আত্মা এই নদীর জলকে গরম করে। কিন্তু যদি বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস করা হয় পৃথিবীর পৃষ্ঠাে যে ফাটল থাকে তাতে জল নিচে গিয়ে গরম হয় এবং উপরে উঠে আসে।

ক্রুকেড ফরেস্ট

পৃথিবীর ৭ টি রহস্যময় স্থান

৪.ক্রুকেড ফরেস্ট 

প্রাকৃতিকভাবে গাছ একটা সোজা জীবন্ত প্রানী।কিন্তু পোল্যান্ডে ক্রুকেট ফরেস্টে দেখা যায় এক অদ্ভুত দৃশ্য। তার ৪০০ এর বেশি গাছ একদম বাঁকা। প্রতিটি গাছ নিচ থেকে ৯০ ডিগ্রি বেকে গিয়েছে। তারপর আবার সোজা হয়ে বড় হয়েছে। এই অদ্ভুত ঘটনার তিনটি প্রচলিত কাহিনী রয়েছে। 

১. ছোট অবস্থায় তীব্র তুষার ঝড়ের কারণে গাছগুলো বেঁকে গিয়েছে। 

২.এলাকাটিতে কোন অদৃশ্য গ্র্যাভিশনাল পুল কাজ করে। 

৩.সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মত মানুষ মানুষ ইচ্ছে করে কাজগুলো বাকা করে দিয়েছে।যাতে পরবর্তীতে নৌকার আসবাবপত্র তৈরিতে কাজে লাগে। 

দ্যা স্লিপিং সিটি কলাকাশি

পৃথিবীর ৭ টি রহস্যময় স্থান

৫.দ্যা স্লিপিং সিটি কলাকাশি

২০১৩ সালে কাজাকিস্তানে চলে এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। গ্রামের নাম কলাকাশি। সেখানে মানুষ হঠাৎ ঘুমিয়ে পড়ে। কেউ কেউ টানা 6 দিন পর্যন্ত ঘুমিয়ে ছিল। ঘুম থেকে উঠে তারা কিছুই মনে করতে পারত না। শুরুর দিকে ধারণা করা হয়েছিল খাবার বা পানিতে সমস্যা আছে। তো সব রিপোর্ট ছিল একদম স্বাভাবিক। ২০১৫ সালে জানা যায় গ্রামের নিচে একটা পরিত্যক্ত ইউরেনিয়াম খনি রয়েছে। এখান থেকে নির্গত রেডন গ্যাস বাতাসে কার্বন মনোক্সাইডের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছিল। ফলে বাতাসে অক্সিজেনের ঘাটতি কমে যায়। যার ফলে মানুষ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। 

ব্লাড ওয়াটার ফলস

পৃথিবীর ৭ টি রহস্যময় স্থান

৬.ব্লাড ওয়াটার ফলস 

জলপ্রপাত তো অনেক দেখেছেন কিন্তু কখনো কি এমন জলপ্রপাত  দেখেছেন যার জল একদম লাল।এন্টার্টিকা টেইলর গ্লেসিয়ার থেকে প্রবাহিত জলপ্রপাত কে বলা হয় ব্লাড ওয়াটার ফলস।১৯১১ সালে আস্টেলিয়ার ভূতত্ত্ববিদ গ্রিফিথ টেইলর এটি আবিস্কার করেন।মাইনাস ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রেও এই পানি জমে না কারণ এই পানিতে সমুদ্রের পানির তুলনায় তিন গুন বেশি লবন রয়েছে।

 এছাড়া এর মাটির নিচে থাকা লোহার কণা গুলো যখন অক্সিজেনের সংস্পর্শে আসে তখন তা মরিচার মত লাল রং ধারণ করে। ফলে জলপ্রপাত টি রক্ত রঙের দেখায়। যা একদম হাড়হিম করার মতো দৃশ্য।

 

নরকের দরজা তুর্কেমেনিস্তান

পৃথিবীর ৭ টি রহস্যময় স্থান

৭.নরকের দরজা তুর্কেমেনিস্তান

তুর্কেমেনিস্তানে কারাকুম মরুভূমির ভেতর একটা রহস্যময় গর্ত।১০০ ফিট গভীর  আর গত ৫০ বছর ধরে এই গর্তে আগু জ্বলছে অবিরাম ভাবে নাম Darvaza gas crater. যাকে বলা হয় "Dood to Hell" অর্থ্যাৎ নরকের দরজা।১৯৭১ সালে রাশিয়ান বিজ্ঞানীরা গ্যাস অনুসন্ধান করতে গিয়ে এই গর্তটি আবিষ্কার করেন। তখন হঠাৎ জমি দশে এই গর্তে তৈরি হয়। যেখান থেকে বিপদজনক মিথেন গ্যাস নির্গত হচ্ছে। গ্যাস ছড়িয়ে পরা প্রতিরোদ করা যায় কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে সেই গর্তের আগুন আজও জ্বলছে। 

পৃথিবী সত্যিই এক বিস্ময়কর ও রহস্যময়  একটি স্থান। আর এইসব স্থান আমাদের চোখে আনে সেই সব বাস্তবতাকে যা কখনো কখনো কল্পনাকেও হার মানায়। 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন