পোস্টগুলি

সেপ্টেম্বর, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

ভাতের আসল ইতিহাস

ছবি
  ভাতের আবিষ্কার: আদিম অরণ্য থেকে বাঙালির মাটির থালায় অমৃতের মহাকাব্য ​ভাতের আবিষ্কার কেবল একটি খাদ্যের সূচনা নয়। এটি মানব ইতিহাসের গতিপথ চিরতরে বদলে দেওয়া এক বৈপ্লবিক রূপান্তর। হাজার হাজার বছর আগে শিকারি-সংগ্রাহক মানুষ যখন বুনো ঘাসের ক্ষুদ্র বীজ সংগ্রহ করে আগুনে ফুটিয়ে প্রথম নরম শ্বেতশুভ্র দানার স্বাদ গ্রহণ করেছিল, তখন থেকেই উন্মোচিত হয়েছিল মানব সভ্যতার সবচেয়ে স্থায়ী কৃষি বিপ্লব। আজ আমাদের প্রতিদিনের পাতে যে ধোঁয়া ওঠা গরম ভাত শোভা পায়, তার পেছনে লুকিয়ে আছে সহস্রাব্দের জৈবিক বিবর্তন, প্রত্নতাত্ত্বিক সংগ্রাম, নদীবিধৌত পলির উর্বরতা এবং মানবজাতির বেঁচে থাকার আদিমতম আর্তি। ​জাহিদ নোটস (Jahid Notes)-এর পাঠকদের জন্য আজ আমরা যাত্রা করব সময়ের উল্টো স্রোতে। যে রূপালি শস্যদানা আজকের বাংলার প্রতিটি পরিবারের প্রাণস্পন্দন, সেই ভাতের আবিষ্কার কীভাবে ঘটেছিল? কীভাবে এক যাযাবর শিকারি প্রজাতি স্থায়ী কৃষক হয়ে উঠল? চীন দেশের ইয়াংসিকিয়াং উপত্যকার জলাভূমি থেকে শুরু করে বাংলার রূপসী পদ্মা-মেঘনা-যমুনার পলিমাটি পর্যন্ত বিস্তৃত এই মহাকাব্য কেবল খাদ্যের ইতিহাস নয়, এটি মানুষের অস্তিত্বের ইতিহা...

আপনি ফ্রিতে AI চালান, বিল দেয় কে?

ছবি
  রাত দুইটা। ঘুম আসছে না। আপনি ফোনটি তুলে চ্যাটজিপিটিকে একটি প্রশ্ন করলেন। কয়েক সেকেন্ডে উত্তর হাজির। আপনার পকেট থেকে এক টাকাও কিন্তু গেল না। উত্তরটা ফ্রি, তাই তো? আসলে না। কারণ আপনাকে যে উত্তরটি পাঠানো হলো তার পেছনে কাজ করেছে বিশাল একটি মেশিন। ​আপনার প্রশ্ন ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক দিয়ে পৌঁছে যায় কোনো একটি ডাটা সেন্টারে। বাইরে থেকে এসব ডাটা সেন্টার দেখলে বিশাল গুদামঘর, ভেতরে সারি সারি সার্ভার, আর তার ভেতরে অত্যন্ত শক্তিশালী জিপিইউ এবং এআই এক্সিলারেটর। ​এই মেশিনগুলো আপনার প্রশ্নের উত্তর বের করতে হিসাব শুরু করে। আর হিসাব মানেই বিদ্যুৎ। বিদ্যুৎ মানেই তাপ। আর সেই তাপ সরাতে লাগে আরও বিদ্যুৎ। বড় বড় অনেক ডাটা সেন্টার ঠান্ডা রাখতে লাগে বিপুল পরিমাণ পানি। আরও পড়ুন: ​​লবণেরর আসল ইতিহাস ​মোটকথা, আপনার স্ক্রিনের সেই উত্তরটা দেখতে ফ্রি মনে হলেও তার পেছনে চলতেছে সার্ভার, কুলিং সিস্টেম, খরচ হচ্ছে বিদ্যুৎ, ব্যবহার হচ্ছে পানি, আর পুড়তেছে টাকা। কিন্তু কত টাকা? এখান থেকেই গল্পটা কিন্তু একটু অন্যরকম। ​আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা 'ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি'র সর্বশেষ ত...

কলম আবিষ্কারের আসল ইতিহাস

ছবি
কলম আবিষ্কারের আশ্চর্য ইতিহাস দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ারফোর্সের যুদ্ধবিমান চালকদের সামনে এক অদ্ভুত কিন্তু অত্যন্ত বিপজ্জনক সমস্যা উপস্থিত হয়েছিল। যেমনই বিমান উঁচুতে পৌঁছাত, বাতাসের চাপ দ্রুত কমতে থাকত এবং তাদের ফাউন্টেন পেন হঠাৎ লিক করতে শুরু করত, অথবা ওড়ার সময় হাওয়াতেই কালি ছড়িয়ে পড়ত। মানচিত্রে সঠিক দাগ দেওয়া, দিকনির্দেশ লেখা—এইসব অত্যন্ত জরুরি কাজ হঠাৎ অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। সেনাবাহিনীর এমন একটি পেনের জরুরি প্রয়োজন ছিল, যা লিক না করে এবং বাতাসের চাপের তোয়াক্কা না করে যেকোনো উচ্চতায় নির্ভরযোগ্যভাবে লিখতে পারে। ​এর সমাধান এলো এমন এক ব্যক্তির কাছ থেকে, যিনি নিজে প্রাণ বাঁচিয়ে ইউরোপ থেকে পালিয়ে এসেছিলেন। লাসলো বিরো নামের এই হাঙ্গেরির সাংবাদিক ইহুদি ছিলেন এবং যখন ইউরোপে নাৎসি শাসন ও ইহুদি-বিরোধী আইনের ছায়া ঘনিয়ে আসতে লাগল, তখন তিনি তাঁর ভাইয়ের সাথে আর্জেন্টিনা পালিয়ে যান। সেখানেই তিনি এমন একটি পেন তৈরি করেন, যার মুখে একটি ছোট ঘূর্ণায়মান বল বা মার্বেল লাগানো ছিল; যা ঘন ও দ্রুত শুকিয়ে যাওয়া কালিকে কাগজের ওপর সমভাবে ছড়িয়ে দিত—কোনো লিক না করে, বাতাস...

শৈশবের স্মৃতি

ছবি
  প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেই সোনালী দিনগুলো: একদল সহপাঠীর একসাথে ফ্রেমবন্দী কিছু স্মৃতি। ​চলো অতিতে সময় পেছনে ফেলে আসার মতো কোনো শক্ত রশি আমাদের হাতে থাকে না। নদী যেমন তার উৎসভূমিকে ভুলে সামনের সমুদ্রে ধাবিত হয়, মানুষও তেমনি বয়সের ধারালো স্রোতে ভেসে গিয়ে একদিন কোনো অপরিচিত শহরের চার দেয়ালে থিতু হয়। কিন্তু রাতের কোলাহল যখন স্তব্ধ হয়ে আসে, যখন গাজীপুরের মাওনার কারখানার সাইরেন কিংবা যান্ত্রিক গুঞ্জন থেমে চারপাশ নিথর হয়ে পড়ে, তখন স্মৃতির আলপথ ধরে মন ছুটে যায় বহুদূরে। ​পিছনে ফিরে যাওয়ার এই তীব্র ব্যাকুলতা, অতীতের চেনা মাটিকে স্পর্শ করার এই যে অবুঝ তৃষ্ণা—একে হয়তো এক শব্দে বলা যায়: Go Back। ​পেছনে ফিরে যাওয়ার এই যাত্রায় কোনো টিকিট লাগে না, বাস কিংবা ট্রেনের সময়সূচির ওপর নির্ভর করতে হয় না। শুধু চোখ দুটি বুজলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার সেই ছোট্ট সবুজ গ্রাম—তামাই। যে গ্রামে ধুলোবালি মেখে আমার শৈশব ডানা মেলেছিল, যেখানে প্রতিটি ধানের শীষে, প্রতিটি গলিতে এবং ক্ষয়ে যাওয়া মেঠো পথে লেখা আছে আমার বেড়ে ওঠার গল্প। ​আমি আজ যেখানেই থাকি না কেন, আমার হৃদয়ের একটা বিশাল অংশ চিরকা...

জগৎশেঠ: বাংলার ধনকুবের থেকে ব্রিটিশদের পেনশনভোগী!

ছবি
 ১৭৫৭ সাল, পলাশীর প্রান্তর। ইতিহাস আপনাকে শিখিয়েছে এক বিশ্বাসঘাতকের নাম—মির জাফর। কিন্তু মির জাফর তো ছিল একটা পুতুলমাত্র। আসল খেলাটা ছিল টাকার! ​একটু লজিক্যালি ভেবে দেখুন, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিতে রবার্ট ক্লাইভ শুরুটা করেছিল একজন সামান্য কেরানি হিসেবে। কিন্তু ১৭৫৭ সালের পলাশীর মাঠে তিনি কোম্পানির সেনাপতি। কোম্পানির হয়ে যারা যুদ্ধ করতেছে, তারা কোনো দেশের পেশাদার সেনাবাহিনী ছিল না—একটা কোম্পানির ভাড়াটে যোদ্ধার দল! ​তবে রবার্ট ক্লাইভের সবচেয়ে বড় অস্ত্র এসব ভাড়াটে যোদ্ধা, কামান বা বন্দুক ছিল না; তার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অস্ত্র ছিল ‘ঘুষ’! ​মির জাফর, রায়দুর্লভ, ইয়ার লতিফ—নবাবের ইনার সার্কেল আগেই বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এত টাকা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কোথায় পেল? ব্রিটিশ সরকারের কাছে? মোটেই না! এই বিশাল ফান্ডিং এসেছিল বাংলার মাটি থেকেই! এমন এক পরিবারের কাছ থেকে, যাদের তৎকালীন সম্পদের পরিমাণ ছিল পুরো ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের মোট মূলধনের চেয়েও বেশি! যাদের কাছ থেকে ধার করত খোদ নবাবরা, এমনকি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিও তাদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করত! আরও পড়ুন: গুগলের আসল ইতিহাস ​তারা...