পোস্টগুলি

জুন, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

সক্রেটিসের বিচার ও মৃত্যুর পেছনের দর্শন (The Apology)

ছবি
​সক্রেটিসের একটা অসাধারণ উক্তি হচ্ছে "No evil can happen to a good man, either in life or after death." অর্থাৎ একটা ভালো মানুষের সাথে এই জীবনে অথবা তার মৃত্যুর পরে কখনোই খারাপ কিছু হওয়া সম্ভব না। কিন্তু আমরা তো অনেক সময় দেখি অনেক ভালো মানুষের সাথে অনেক খারাপ কিছুও হয়। তাহলে সক্রেটিসের এই কথাটার কি দীপার কোনো ফিলোসফিক্যাল মিনিং আছে? ​কেমন হয় যদি আমি আপনাকে বলি সক্রেটিসের কথার সেই ডীপার ফিলোসফিক্যাল মিনিংটাই আসলে এই বিখ্যাত পেইন্টিংটার মধ্যে লুকিয়ে আছে? কিন্তু অসম্ভব এই পাওয়ারফুল কথাটার মানে বুঝতে হলে আমাদেরকে মানব সভ্যতার ইতিহাসে ঘটে যাওয়া একটা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সম্পর্কে জানতে হবে। সময়টা খ্রিস্টপূর্ব ৩৯৯ সাল। ডেমোক্রেসি বা গণতন্ত্রের জন্মভূমি গ্রিসের রাজধানী এথেন্স শহরে সেদিন একটা বিশেষ দিন। কারণ এথেন্সের লোকজন সেদিন তাদের গ্রেটেস্ট ফিলোসফার সক্রেটিসের বিচার করতে যাচ্ছে। ​৫০০ জন বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত এই আদালতে আজকে রায় দেওয়া হবে সক্রেটিস কি দোষী নাকি নির্দোষ। চারিদিকে উৎসুক জনতার ভিড়, আর সেই সাধারণ জনগণের মাঝে এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে সক্রেটিসের সবথেকে পছন্দের ছাত...

অ্যাগনোডিস থেকে আধুনিক নারী চিকিৎসক: এক অনন্ত যাত্রা

ছবি
প্রাচীন গ্রিসে নারীদের শিক্ষা ও চিকিৎসা শাস্ত্র প্রাচীন গ্রিসের একটি সময়ে, যখন নারীদের জন্য জ্ঞানের দরজা বন্ধ ছিল, তখন জন্ম নিয়েছিলেন এক অসাধারণ নারী, তাঁর নাম অ্যাগনোডিস। খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০ সালের কথা এটি। ছোটবেলা থেকেই তাঁর মনে একটি স্বপ্ন জ্বলজ্বল করত—ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু সে সময়ে গ্রিসে নারীদের জন্য চিকিৎসাশাস্ত্র পড়া নিষিদ্ধ ছিল। ​তবুও অ্যাগনোডিস হাল ছাড়েননি। তিনি সাহসের এক অভূতপূর্ব পথ বেছে নিলেন। চুল কেটে, পুরুষের বেশধরে আলেকজান্দ্রিয়া মেডিকেল স্কুলে ভর্তি হয়ে পড়লেন। শিক্ষা শেষ করে যখন তিনি এথেন্সের রাস্তায় ফিরে এলেন, তখন একদিন এক হৃদয়বিদারক ঘটনা তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিল। আরও পড়ুন: বিশ্বসেরাদের সংগ্রাম. ​রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে তিনি শুনতে পেলেন এক নারীর আর্তনাদ। প্রসব যন্ত্রণায় কাতর সেই নারী প্রচণ্ড ব্যথায় ছটফট করছিলেন, কিন্তু তিনি কিছুতেই কোনো পুরুষের সাহায্য নিতে রাজি ছিলেন না। অ্যাগনোডিস এগিয়ে গেলেন, সাহায্য করতে চাইলেন। কিন্তু সেই নারী তাঁকে দেখে ভয় পেয়ে পিছিয়ে গেলেন, কারণ তিনি ভেবেছিলেন অ্যাগনোডিস একজন পুরুষ। তখন অ্যাগনোডিসকে নিজের জামাকাপড় খুলে প্রম...

হার নিশ্চিত জেনেও যিনি লড়াই থামাননি! | কিলিয়ান এমবাপ্পের অবিশ্বাস্য গল্প

ছবি
  ​গল্পটা শুরু হয়েছিল প্যারিসের একটি ছোট্ট শহর থেকে। যার রুমের দেয়াল জুড়ে ছিল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পোস্টার। কিন্তু সে শুধু ভক্ত হতে চায়নি, সে চেয়েছিল একদিন দুনিয়া তাকিয়েও ঐ একই উচ্চতায় দেখুক। অনেকেই তাকে ফুটবলের পরবর্তী পেলে বলে ডাকতেন, কেউ বলতেন আধুনিক ফুটবলের দ্রুততম মানব। ​তিনি এমন একজন মানুষ যে তার পরিচয় গড়ে তুলেছেন তার অর্জনের মাধ্যমে। ২০১৮ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে ফুটবল বিশ্বের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট, ফিফা বিশ্বকাপ জয় কিংবা ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে হ্যাট্রিক। তার এমন অর্জন বিশ্বকে বুঝিয়ে দিয়েছিল যে বয়স কেবল একটি সংখ্যা মাত্র। ​বন্ধুরা, বলছিলাম এক হার না মানা যোদ্ধার কথা—যার নাম কিলিয়ান এমবাপ্পে। মেসি-রোনালদোর যুগ শেষ হওয়ার পর যারা ভেবেছিল ফুটবল তার সৌন্দর্য হারাবে, তারা এখন তাকিয়ে আছে এই জাদুকরের দিকে, যাকে ইতিহাস মনে রাখবে 'দ্য আনস্টপেবল' হিসেবে। ​তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, যে কীভাবে একজন সাধারণ ছেলে নিজের স্বপ্ন আর পরিশ্রমকে পুঁজি করে পৌঁছে গেল সফলতার সর্বোচ্চ শিখরে? 'জাহিদ নোটসের'-এর আজকের আর্টিকেলটিতে আমরা তুলে ধরব ফুটবল বিশ্বের সুপারস্টার এমবাপ্পে...

টাকা সম্পর্কে কিছু না বলা সত্য - টাকা কীভাবে কাজ করে"

ছবি
​টাকা, এমন এক জিনিস যা ভিখারি থেকে শুরু করে বিলিয়নেয়ার পর্যন্ত, প্রত্যেকেই পেতে চায়। এটি কেবল কাগজের টুকরো নয়, বরং নিজের মধ্যেই এটি একটি নেশা। টাকা এমন একটি ভাষা, যা পিএইচডি করা ক্লার্ক থেকে শুরু করে নিরক্ষর এমএলএ (MLA) পর্যন্ত সবাই বোঝে। এই টাকাই তো জঙ্গলবাসী মানুষকে আকাশের মেঘ ছোঁয়া অট্টালিকা থেকে শুরু করে বাতাসের চেয়েও দ্রুত গতির গাড়িতে এনে বসিয়েছে। টাকা—এমন একটি কাগজের টুকরো যার নিজের কোনো যোগ্যতা বা মূল্য নেই, কিন্তু এটি আপনাকে অন্য জিনিসের দাম বা মূল্য জানিয়ে দেয়। ​এখন প্রশ্ন হলো, টাকার মধ্যে আসলে এত ক্ষমতা এলো কোথা থেকে? চলুন একটু বিস্তারিতভাবে বুঝে নেওয়া যাক। ​আজ থেকে হাজার বছর আগে মানুষ লেনদেনের জন্য 'বার্টার সিস্টেম' (পণ্য বিনিময় প্রথা) ব্যবহার করতো। যেখানে একটি জিনিস কেনার জন্য আপনাকে অন্য একটি জিনিস দিতে হতো। অর্থাৎ, কারো কাছে যদি চাল থাকে এবং তার চিনির প্রয়োজন হয়, তবে তাকে এমন একজন মানুষ খুঁজতে হতো যে চিনি বিক্রি করতে চায় এবং একই সাথে তার চালের প্রয়োজন রয়েছে। ​এমন সব সমস্যার কারণে মানুষ অন্য কিছু ভাবলো এবং শুরু হলো 'কমোডিটি' (পণ্যভিত্তিক মুদ্রা)-র।...

ভেলভেট ওয়ার্ম: প্রকৃতির এক অদ্ভুত ও রহস্যময় প্রাণী! | Velvet Worm Facts

ছবি
ডাইনোসরেরও আগে পৃথিবীতে ছিল যে প্রাণী, আজও সে শিকার ধরে আঠালো জালের ফাঁদে! ভেলভেট ওয়ার্ম—প্রকৃতির এক জীবন্ত বিস্ময়। 🌿✨ ​"অবিশ্বাস্য এই প্রাণীটি মুখ থেকে জাল ছুঁড়ে শিকারকে বন্দী করে ফেলে। আর বিপদের সময় নিজের শরীরের রক্ত বের করে শত্রুর দিকে ছুঁড়ে মারে। শুনতে যেন কোনো এলিয়েন প্রাণীর গল্প মনে হচ্ছে, কিন্তু এটা সত্যি। আর এই রহস্যময় প্রাণীর নাম ভেলভেট ওয়ার্ম। দেখতে সাধারণ কৃমির মতো হলেও এর ক্ষমতাগুলো এতটাই অদ্ভুত যে, বিজ্ঞানীরাও একে পৃথিবীর জীবন্ত রহস্য বলে মনে করেন। ​ভেলভেট ওয়ার্ম পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন প্রাণীগুলোর একটি। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এদের পূর্বপুরুষ প্রায় ৫০০ মিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীতে বাস করত। অর্থাৎ, ডাইনোসরদের জন্মের অনেক আগে। এদের শরীর নরম ও মখমলের মতো হওয়ায় নাম রাখা হয়েছে ভেলভেট ওয়ার্ম। সাধারণত এরা বনের ভেজা পরিবেশে, গাছের গুঁড়ির নিচে বা পাথরের ফাঁকে লুকিয়ে থাকে। দিনের বেলা খুব কম বের হয়, কারণ সূর্যের আলো এদের শরীর শুকিয়ে দিতে পারে। কিন্তু রাত নামলেই শুরু হয় এদের আসল ক্রিয়াকলাপ। ​ভেলভেট ওয়ার্মের সবচেয়ে বিখ্যাত ক্ষমতা হলো এর আঠালো জাল ছোঁড়ার দক্ষতা।...

ফুকুশিমা দাইইচি পরমাণু দুর্ঘটনা

ছবি
  ফুকুশিমা দাইইচি পরমাণু দুর্ঘটনার অংশিক চিত্র।  ​অধ্যায় এক: যখন প্রকৃতি আঘাত হানে ​১১ই মার্চ ২০১১। স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৪৬ মিনিট। জাপানের তোহোকু অঞ্চলের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে সমুদ্রের তলদেশে ঘটে গেল এক দানবীয় আলোড়ন। রিখটার স্কেলে ৯ মাত্রার সেই ভূমিকম্প ছিল জাপানের ইতিহাসে রেকর্ডকৃত সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। ​এই প্রচণ্ড ভূমিকম্পের ফলে জাপানের মূল ভূখণ্ড প্রায় ২.৪ মিটার পূর্বে সরে যায় এবং পৃথিবীর অক্ষ প্রায় ১০ থেকে ২৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত পরিবর্তিত হয়। কিন্তু তা ছিল প্রকৃতির ভয়াবহতার শুরু মাত্র। ভূমিকম্পের প্রায় ৪০ থেকে ৫০ মিনিট পর উপকূলের দিকে ধেয়ে আসে প্রকাণ্ড এক জলপ্রাচীর—সুনামি। কোথাও কোথাও যার উচ্চতা ছিল চার থেকে পাঁচ তলা ভবনের সমান, প্রায় ১৪ থেকে ১৫ মিটার। ​এই সর্বগ্রাসী জলোচ্ছ্বাস জাপানের পূর্ব উপকূল বরাবর শত শত কিলোমিটার এলাকাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে। আর এই ধ্বংসযজ্ঞের পথেই দাঁড়িয়ে ছিল ফুকুশিমা দাইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, যা মুহূর্তের মধ্যে পরিণত হতে চলেছিল মানব ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ এক পারমাণবিক দুঃস্বপ্নে। ...

উইলিয়াম কুপারের লেখা 'ডার্ক সাইকোলজি অ্যান্ড ম্যানিপুলেশন'।

ছবি
 7 টি গোপন ডার্ক সাইকোলজিকাল ট্রিকস প্রতারণা সবসময় কথায় হয় না, কখনো কখনো সেটা হয় মানুষের মন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে। 🎭 ​ভাবুন তো, আপনার সামনে এমন একজন মানুষ দাঁড়িয়ে আছে যাকে আপনি চেনেন না। কিন্তু সে শুধু পাঁচ সেকেন্ডের ভেতরে আপনার মস্তিষ্ক, আপনার চিন্তা, এমনকি আপনার সিদ্ধান্তও নিয়ন্ত্রণ করে ফেলল। ভয় লাগছে না? এইটাই হলো ডার্ক সাইকোলজির খেলা। ​ডার্ক সাইকোলজি মানে এমন সব মানসিক কৌশল, যা ব্যবহার করে মানুষকে নিয়ন্ত্রণ, প্রভাবিত বা নিজের ইচ্ছেমতো চালানো যায়। হয়তো আপনি ভাবছেন আমার সঙ্গে এটা সম্ভব না, কিন্তু বিশ্বাস করুন, প্রতিদিন অজান্তেই আমরা এই কৌশলের শিকার হচ্ছি। কখনো বিজ্ঞাপনে, কখনো সম্পর্কে, কখনো বা অফিসে কারো সঙ্গে কথা বলার সময়। ​এই আর্টিকেলে আমরা শিখব সেই রহস্যময় টেকনিকগুলো, যেগুলো জানলে আপনি নিজেও মানুষের মনের ভেতরে ঢুকে যেতে পারবেন। কথার মাধ্যমে, দৃষ্টির মাধ্যমে, এমনকি নীরবতার মাধ্যমেও কীভাবে কাউকে নিজের নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, তা আজই জানতে পারবেন। ​ডার্ক সাইকোলজি ১: রিভার্স সাইকোলজি (উল্টো মনোবিজ্ঞান) ​"তুমি এটা কখনোই পারবে না।" এই বাক্যটা শুনে আপনার ভেতরে কি হঠাৎ একটা জেদ চ...