নিকলি হাওড়। এ যেন প্রকৃতির এক অদ্ভুত খেয়ালের সৃষ্টি। বর্ষায় পাহাড়ি ঢল আর অঝোর বৃষ্টি যখন বিস্তীর্ণ জনপদকে ডুবিয়ে দেয়, তখন চোখের সামনে ভেসে ওঠে বিশাল এক জলের রাজ্য। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর জীববৈচিত্র্যের অপার ভাণ্ডার এই হাওড়গুলোর কথা আসলেই আমাদের মনে পড়ে টাঙ্গুয়ার হাওড় কিংবা হাকালুকি হাওড়ের কথা। তবে এইসব হাওড়ের মতোই পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছে কিশোরগঞ্জের বুক চিরে থাকা এই নিকলি হাওড়।
নিকলি, মিঠামইন আর অষ্টগ্রামে ছড়িয়ে থাকা এই সুবিশাল হাওড় অঞ্চল বর্ষাকালে পরিণত হয় এক অথৈ সাগরে। আর শীতে সেই একই জায়গা যেন সেজে ওঠে সবুজ ধানক্ষেতের এক স্নিগ্ধ চাদরে। আর তাই তো শহরের যান্ত্রিক কোলাহল, ধূলোবালি আর ক্লান্তিকর রুটিন থেকে একটু মুক্তি পেতে আমরা অনেকেই খুঁজে বেড়াই এমন একটা জায়গা যেখানে মন জুড়িয়ে যাবে নিমেষেই।
আর কম খরচে মাত্র একদিনের মধ্যে ঢাকার খুব কাছে এমন এক জাদুকরী ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিতে চাইলে সবার আগে যে নাম উঠে আসে তা হলো নিকলি হাওড়।
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা আপনাদের নিয়ে যাব কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক ও নান্দনিক নিকলি হাওড়ে। দেখাবো কীভাবে নামমাত্র খরচে, মাত্র ১৭০০ টাকা বাজেট নিয়ে একদিনেই ঘুরে আসতে পারবেন নিকলি হাওড়, ছাতির চর এবং মিঠামইন ও অষ্টগ্রামের সেই বিখ্যাত রোড।
যাঁরা একদিনের একটি নিখুঁত ট্যুর প্ল্যান খুঁজছেন, তাঁদের জন্য আর্টিকেলটা অত্যন্ত হেল্পফুল হতে চলেছে।
তো চলুন, আল্লাহর নাম নিয়ে শুরু করা যাক আমাদের আজকের হাওড় অভিযান।
আমাদের এবারের নিকলি অভিযানের শুরুটা হয়েছিল রাজধানী ঢাকার গোলাপবাগ থেকে। আপনি দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে নিকলি আসতে চাইলে আপনাকে প্রথমেই আসতে হবে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায়।
ঢাকার গোলাপবাগ কিংবা গুলিস্তান থেকে অনন্যা সুপার ও কিশোরগঞ্জ ডিলাক্স বাস পেয়ে যাবেন। আর মহাখালী থেকে জলসিঁড়ি অথবা উজানভাটি বাসে চড়ে আপনি খুব সহজেই সরাসরি কটিয়াদী চলে আসতে পারেন। প্রতিদিন ভোর সাড়ে ৫টা থেকে কিছুক্ষণ পরপরই এসব রুটে বাস ছেড়ে যায়। আমরা অবশ্য একটু আরামের কথা চিন্তা করে বেছে নিয়েছিলাম কিশোরগঞ্জ ডিলাক্সের একটি এসি বাস, যার জন্য আমাদের ভাড়া গুনতে হয়েছিল ৪৫০ টাকা করে।
এসি বাস নেওয়ার পেছনে প্রধান কারণ একটাই, ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জের রাস্তায় যেহেতু প্রচণ্ড জ্যাম, ধূলারবালি আর কিছু কিছু জায়গায় ভাঙাচোরা রাস্তার ধকল থাকবে, তাই এই জার্নিটা সামলাতে এসি বাসই আমাদের কাছে সবচেয়ে আরামদায়ক মনে হয়েছে। আপনারা চাইলে নন-এসি বাসে করেও যেতে পারেন, সেক্ষেত্রে ভাড়া পড়বে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকার মতো।
আর আপনাদের মধ্যে যারা ট্রেনে যেতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, তাঁদের জন্য বলে রাখি, সকাল ৭টার ১১ সিন্ধুর ট্রেনে চড়ে আপনি নেমে যেতে পারবেন মানিকখালী অথবা গোছীহাটা স্টেশনে। ট্রেনের টিকিটের মূল্য পড়বে জনপ্রতি ১২৫ থেকে ২৫০ টাকার মতো।
তবে একটা কথা খুব ভালো করে মনে রাখবেন—দিনে গিয়ে দিনেই যদি আবার ফেরত আসতে চান, তবে অবশ্যই সকাল ৭টার আগে বাসে অথবা ট্রেনে রওনা দিতে হবে; না হলে হাতে একদমই সময় কুলাবে না।
আমরাও সকাল ৭টায় গোলাপবাগ থেকে বাসে উঠে পড়ি। বাস চলতে শুরু করে ব্যস্ত ঢাকা শহর পেছনে ফেলে অজানায় এক যাত্রার উদ্দেশ্যে।
অবশেষে ১০৪ কিলোমিটারের দীর্ঘ জার্নি শেষে বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে আমরা এসে নামি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে। কটিয়াদী বাস স্ট্যান্ডে নেমেই আমাদের পরের গন্তব্য ছিল নিকলির বেড়িবাঁধ ঘাট, যেখান থেকেই মূলত হাওড়ের বুকে ভেসে বেড়ানো নৌকাগুলো ছেড়ে যায়।
কটিয়াদী থেকে নিকলির দূরত্ব প্রায় ২২ কিলোমিটার। আর এখান থেকে যাওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো সিএনজি। বাস স্ট্যান্ডের পাশেই আপনি সারিবদ্ধ সিএনজি পেয়ে যাবেন। আপনি যদি লোকাল সিএনজিতে যান তাহলে ভাড়া পড়বে জনপ্রতি ৭০ টাকার মতো, আর যদি নিজেদের মতো করে একটা সিএনজি পুরোটাই রিজার্ভ করে নিতে চান তাহলে ভাড়া গুনতে হবে ৫০০ টাকার আশেপাশে। যেহেতু আমরা সরাসরি ঘাট পর্যন্ত যেতে চেয়েছিলাম আর সময়টাও বাঁচাতে চেয়েছিলাম, তাই আমরা একটা সিএনজি পুরোটাই রিজার্ভ করে নেই ৫০০ টাকায়। আমরা টোটাল ৫ জন হওয়ার কারণে জনপ্রতি ভাড়া পড়েছিল মাত্র ১০০ টাকা করে।
সিএনজিতে চড়ে বসতেই আমাদের যাত্রা শুরু হয়। দুই পাশে সবুজ ধানক্ষেত, ছোট ছোট গ্রাম, মাঝে মাঝে পুকুর আর তালগাছের সারি—সব মিলিয়ে গ্রামবাংলার এক অপূর্ব সুন্দর দৃশ্য চোখে ধরা দেয়। যতই এগোতে থাকি, ততই যেন বাতাসে একটা ভেজা ভেজা গন্ধ পাওয়া যেতে থাকে। হাওড়ের কাছাকাছি আসার একটা আলাদা রোমাঞ্চকর অনুভূতি হতে থাকে মনে মনে।
প্রায় এক ঘণ্টার এই সিএনজি জার্নি শেষে দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে আমরা এসে পৌঁছাই নিকলির সেই বিখ্যাত বেড়িবাঁধ ঘাটে। ঘাটে নামতেই চোখে পড়ে সারি সারি রঙিন ট্রলার আর নৌকা। ঘাটজুড়ে মানুষের তীব্র ব্যস্ততা আর দরদাম করার হাঁকডাক।
এখানে নৌকা ভাড়া করার সময় আপনাদের একটু সতর্ক থাকতে হবে। কারণ অনেকেই পর্যটক দেখে দাম একটু বাড়িয়েই চান, তাই একটু সময় নিয়ে দরদাম করে নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
আমরা এখান থেকে বেশ কিছুটা দামাদামি করে একটি বড় ট্রলার ভাড়া করি ২৫০০ টাকায়, একেবারে পুরো দিনের জন্য। কথা হয়েছে এভাবে যে, এই ট্রলারই আমাদের সারাদিন ঘুরিয়ে দেখাবে ছাতির চর আর মিঠামইন জিরো পয়েন্ট।
একটি বড় ট্রলারে খুব সহজেই ১৫ জনের মতো মানুষ অনায়াসে বসতে পারে। তাই আপনারা যদি ২ থেকে ৪ জনের ছোট গ্রুপ নিয়ে আসেন, তাহলে ঘাটে থাকা অন্য কোনো গ্রুপের সাথে মিলে একসাথে একটা বড় নৌকা ভাড়া করে নিলে আপনাদের খরচটা কমে আসবে।
আল্লাহর নাম নিয়ে আমরা ট্রলারে উঠে বসি। ইঞ্জিন চালু হতেই আমাদের ট্রলার ছুটে চলে বিশাল জলরাশির বুক চিরে। গন্তব্য হাওড়ের রানী খ্যাত ছাতির চর।
দুপুর ১টা ১০ মিনিটে হাওড়ের বুক চিরে আমাদের মূল যাত্রা শুরু হয়। আর চারপাশের বিশালতা উপভোগ করতে করতে মাত্র ৩৫ মিনিটের মধ্যেই—অর্থাৎ দুপুর পৌনে ২টা নাগাদ—আমরা পৌঁছে যাই আমাদের প্রথম গন্তব্য ছাতির চরে।
ছাতির চরে পৌঁছাতেই দেরি না করে আমরা সবাই এক আনন্দে ঝাঁপিয়ে পড়ি পানিতে। এই জায়গাটিকে অনেকেই তুলনা করেন সিলেটের সেই বিখ্যাত রাতারগুলের সাথে। আর সত্যিই বলতে, মিলটাও কিন্তু একেবারেই কম নয়।
পুরো একটা গ্রাম যেন ডুবে আছে পানির মাঝে। চারপাশে শুধু থৈ থৈ জল আর মাঝে মাঝে বড় বড় গাছের মাথা উঁকি দিচ্ছে পানির ওপর দিয়ে। মাশাল্লাহ, প্রকৃতির এই রূপ সত্যিই মুগ্ধ করার মতো।
এখানে পানির মধ্যে ভাসমান অবস্থাতেই কিছু চমৎকার দোকান পাওয়া যায়। ছোট ছোট নৌকায় করে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ঘুরে ঘুরে বিক্রি করেন তাজা পেয়ারা, আমড়া, কলা; আর আপনি চাইলে আপনার সামনেই বানিয়ে দেবে মুখরোচক ঝালমুড়ি।
সত্যি বলতে, নিকলি হাওড়ে এসে যদি ছাতির চরের এই পানিতে গা না ভেজান, তাহলে পুরো ভ্রমণটাই যেন অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। এই জায়গাটা তাই আমাদের কাছে মাস্ট-ভিজিট একটা স্পট, যা একদমই মিস দেওয়া যাবে না।
ছাতির চরের শীতল পানিতে গোসল সেরে আমরা আবারও উঠে পড়ি ট্রলারে। ছাতির চর থেকে মিঠামইন যেতে স্রোতের বিপরীতে যাওয়ার কারণে সময় লাগতে পারে ২ থেকে আড়াই ঘণ্টার মতো। তাই এখানে আর বেশি সময় নষ্ট না করে আমরা রওনা দিয়ে দিই আমাদের পরবর্তী গন্তব্যের দিকে।
দুপুর ২টো ৩৫ মিনিটে ছাতির চর থেকে আমাদের মিঠামইনের যাত্রা শুরু হয়। যাওয়ার পথে দুই পাশে হাওড়ের দৃশ্য অসাধারণ লাগছিল। দূরে দূরে ভাসমান গ্রাম, মাঝেমধ্যে জেলেদের ছোট ছোট নৌকা আর দিগন্ত বিস্তৃত অসীম জলরাশি—এই দৃশ্য দেখতে দেখতেই কেটে যায় পুরোটা পথ।
বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে আমরা পৌঁছে যাই মিঠামইন ঘাটে। এখানেই মূলত সব পর্যটকবাহী নৌকা এসে থামে।
আপনাদের বলে রাখা ভালো, এই মিঠামইন, অষ্টগ্রাম আর ইটনাকে জুড়ে দিয়েছে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি অবিশ্বাস্য অল-ওয়েদার সড়ক, যেটি এখন হাওড় অঞ্চলের অন্যতম জনপ্রিয় একটি আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত।
মিঠামইন ঘাটে পৌঁছাতে পৌঁছাতেই ততক্ষণে বেলা গড়িয়ে গেছে অনেকটাই। আর সারাদিনের ঘোরাঘুরিতে পেটেও ক্ষুধা জানান দিচ্ছিল বেশ জোরেশোরে। তাই আমরা ঘাটে নেমেই ঢুকে পড়ি কাছের একটি রেস্টুরেন্টে, যার নাম ছিল 'দাদা-নাতি রেস্তোরাঁ'।
জনপ্রতি ২৫০ টাকায় আমরা হাওড়ের তাজা বোয়াল মাছ দিয়ে দুপুরের খাবার সেরে নিই। তবে সত্যি বলতে, এখানকার খাবারের মান আমাদের কাছে খুব একটা ভালো লাগেনি; দামের তুলনায় স্বাদটা মোটেও সন্তোষজনক ছিল না।
তাই আপনাদের ছোট্ট একটা পরামর্শ দিয়ে রাখি—মিঠামইনে এসে খাবার খাওয়ার প্ল্যান না করে বরং নিকলি ঘাট থেকেই দুপুরের খাবারটা সেরে নেওয়া অনেক বেশি বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
খাওয়া-দাওয়া শেষ করে আমরা ৩০০ টাকা দিয়ে একটি অটো রিজার্ভ করে নিই মিঠামইন জিরো পয়েন্ট আর তার আশেপাশের এলাকা ঘুরে দেখার জন্য। অটোতে চড়ে বসতেই চোখে পড়ে রাস্তার দুই পাশের দারুণ অসাধারণ দৃশ্য।
নিকলি হাওড় ভ্রমণের খরচ
| খরচের খাত | জনপ্রতি খরচ |
|---|---|
| ঢাকা–কটিয়াদী বাস | ৪৫০ টাকা |
| কটিয়াদী–নিকলি সিএনজি | ১০০ টাকা |
| নৌকা ভাড়া | ৫০০ টাকা |
| দুপুরের খাবার | ২৫০ টাকা |
| মিঠামইন অটো | ৬০ টাকা |
| ফিরতি বাস | ৪৫০ টাকা |
| সর্বমোট | ১,৮১০ টাকা |
নোট: এটি আপনার দেওয়া খরচের ভিত্তিতে তৈরি একটি আনুমানিক হিসাব। প্রকাশের আগে বর্তমান ভাড়া যাচাই করে নিন।
মাত্র ১০ মিনিটের এই সুন্দর অটো জার্নি শেষে আমরা পৌঁছে যাই মিঠামইন জিরো পয়েন্টে। বিকেলবেলায় এখানে স্থানীয় মানুষজনের বেশ ভালোই সমাগম দেখা যায়। এখানকার নির্মল বাতাসে অনেকেই আসেন পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে একটু সুন্দর সময় কাটাতে।
এই পয়েন্টটি আসলে তিনটি উপজেলার একটি মনোরম সংযোগস্থল, যেখান থেকে তিন দিকে তিনটি পিচঢালা রাস্তা চলে গেছে। আমরা সময়ের অভাবে এখান থেকে অষ্টগ্রাম পর্যন্ত ঘুরে দেখতে পারিনি, যেটা নিয়ে সত্যি বলতে আমাদের মনে একটা বড় আফসোসই থেকে গেছে। তবে পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, অষ্টগ্রামের সৌন্দর্য নাকি কোনো অংশে কম নয়।
তাই আপনারা যারা এই ট্যুরে আসবেন, তারা অবশ্যই চেষ্টা করবেন একটু সকাল সকাল বাসা থেকে বের হয়ে হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে আসতে। তাহলে মিঠামইনের পাশাপাশি অষ্টগ্রামটাও খুব সুন্দর করে ঘুরে দেখে যেতে পারবেন; আমাদের মতো আফসোস নিয়ে ফিরতে হবে না।
জিরো পয়েন্টের আশেপাশে কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করে আর ছবি তোলার পর হঠাৎ খেয়াল হলো আমাদের হাতে সময় একদমই কম। কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার শেষ বাস ছাড়ে রাত ৯টায়, তাই খুব দ্রুত নিকলি ঘাটে ফিরে আবার কটিয়াদীর উদ্দেশ্যে রওনা দিতে হবে।
তাই আমরা তড়িঘড়ি করে জিরো পয়েন্ট থেকে অটোতে উঠে আবারও ফিরে আসি মিঠামইন ঘাটে। আর প্রায় বিকেল সোয়া ৫টার দিকে আমাদের ফিরতি ট্রলারে উঠে বসি।
ফেরার পথে যেহেতু স্রোত আমাদের সম্পূর্ণ অনুকূলে ছিল, তাই আসার তুলনায় ফেরার সময়টা লাগে অনেক কম। ঘণ্টাখানিকের মধ্যেই আমরা নিকলি ঘাটের কাছাকাছি চলে আসি।
আর ফেরার এই পথেই হাওড়ের বুকে আকাশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে অসাধারণ সূর্যাস্তের রঙ। কমলা আর লালচে আভায় রঙিন হয়ে ওঠে পুরো হাওড়, পানির ওপর প্রতিফলিত হতে থাকে সেই মায়াবী আলো—যেন আকাশ আর পানি একসাথে মিশে একাকার হয়ে গেছে। সুবহানাল্লাহ!
এমন একটা ঐশ্বরিক দৃশ্যের জন্যই হয়তো শহরের মানুষ বারবার ছুটে আসে এই হাওড়ের কাছে।
দেখা হবে খুব শীঘ্রই নতুন কোনো ব্লগে, নতুন কোনো সুন্দর গন্তব্যে। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আর হ্যাঁ, হাওড় অঞ্চলের পরিবেশ ও প্রকৃতি অবশ্যই পরিষ্কার রাখবেন। হ্যাপি ট্রাভেলিং!


