আচ্ছা, আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন, একসময় আমরা বাটন ফোনে স্নেক গেম খেলেই যেন পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতিটা পেতাম? তারপর ধীরে ধীরে ওটা আর ভালো লাগতো না। আমরা মজা পেতে শুরু করি টেম্পল রানের মতো এক্সাইটেড সব গেম। তারপর ক্ল্যাশ অফ ক্ল্যান্সের মতো অনলাইন গেম, আর এখন চলে ফ্রি ফায়ার, পাবজি। একই জিনিস মুভির ক্ষেত্রেও। একসময় মান্না বা শাকিব খানের মুভি দেখলেই মন ভরে যেত, তারপর শুরু হলো দেবজিতের কলকাতার সিনেমা। তারপর ওটার থেকেও বেশি মজা পেতে হিন্দি মুভি।
এরপর সাউথ, কোরিয়ান, আর এখন হলিউড ছাড়া অনেকের কিছুই ভালো লাগে না। আবার ধরুন, এই যেমন সিগারেট শুরু হয় দিনে একটা দিয়ে, কিছুদিন পর দুইটা, তারপর চারটা, শেষে গিয়ে কারো কারো ক্ষেত্রে হয়ে যায় দিনে ১০টা। আবার কারো ক্ষেত্রে প্রমোশন হয়ে যায় আরো বড় নেশা। অথচ দেখুন, যদি আমরা ঠিক করি কাল থেকে প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটবো, তখন দেখবেন কয়েকদিন পর ৩০ মিনিট হাঁটা ৬০ মিনিটের দৌড়ে প্রমোশন না হয়ে একদিন নিঃশব্দে বন্ধ হয়ে যাবে।
একটা সার্ভেতে দেখা গেছে, নতুন বছরের শুরুতে জিমের সাবস্ক্রিপশন বেড়ে যায় ১২.৫%। কিন্তু মাত্র ৫ মাসের মধ্যেই তার ৮০% মানুষ জিম ছেড়ে দেয়। পড়াশোনার ক্ষেত্রেও তাই। নিয়ম করে দুই ঘণ্টা পড়া শুরু করেন, দেখবেন কিছুদিন পর তা চার ঘণ্টা হওয়ার বদলে আপনি কাল পড়বো বলে পড়াই বন্ধ করে দিয়েছেন। কিন্তু এমন কেন? কিছু কাজের ক্ষেত্রে আমাদের ব্রেন নিজে থেকে লেভেল বাড়াতে বাধ্য করে, আবার কিছু কাজের ক্ষেত্রে উল্টো ছেড়ে দিতে বাধ্য করে। কেন আমরা ভালো কাজে আগ্রহ পাই না, অথচ খারাপ কাজে আগ্রহের সীমা থাকে না, এর পেছনে একটা দারুণ রহস্য আছে।
সেটা বোঝার জন্য স্ক্রিনের এই ফটোটা দেখুন। এটার নাম সেন্টেনিয়াল বাল্ব। এখন ভাবছেন, এটা আবার কি? ব্রেনের আলোচনায় হঠাৎ বাল্বের লোক কোথা থেকে? অ্যাকচুয়ালি, এটা একটা স্পেশাল বাল্ব যেটা ১৯০১ সাল থেকে আজ পর্যন্ত জ্বলছে। হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন। হিসাব করলে দেখবেন, ১২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই বাল্ব একটানা জ্বলছে আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফায়ার ডিপার্টমেন্টে।
এখন আপনি যদি এই বিষয়টা নিয়ে একটু গভীরভাবে ভাবেন, তাহলে আপনার মাথায় একটা খুব স্বাভাবিক প্রশ্ন আসবে— ভাই, যদি ১৯০১ সালের একটা বাল্ব আজ পর্যন্ত জ্বলতে পারে, তাহলে আজকের দিনে এত আধুনিক টেকনোলজি থাকার পরও আমাদের বাসার বাল্বগুলো কেন মাত্র হাজার-১২০০ ঘণ্টার মধ্যেই ফিউজ হয়ে যায়? কেন কোম্পানিগুলোকে বাল্বের সাথে ওয়ারেন্টি কার্ড দিতে হয়? কেননা ১৯০১ সালেই যদি এত শক্তিশালী বাল্ব বানানো সম্ভব হয়, তবে আজ ২০২৬-এ এসে তো সেই টেকনোলজি আরো আপডেট হয়ে আরো শক্তিশালী বাল্ব আমাদের হাতে আসার কথা, তাই না? রহস্যটা এখানেই। মন দিয়ে শুনুন, একটা নয়, দুটো পর্দাফাঁস হবে।
প্রথমত, যদি বাল্ব আজীবন জ্বলে, তাহলে বাল্বের ব্যবসাটাই বন্ধ হয়ে যাবে। মানুষ স্বপ্নের বাড়ি বানানোর মতো জীবনে একবারই বাল্ব কিনবে, তারপর প্রজন্মের পর প্রজন্ম একই বাল্ব ব্যবহার করবে। দ্বিতীয়বার আর বাজারে যাওয়ার দরকার হবে না। তাই কোম্পানিগুলো জেনে-বুঝেই এমন প্রোডাক্ট তৈরি করে যেন সেটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই নষ্ট হয়, আর নিজেদের সুনাম বাঁচাতে সাথে দেয় গ্যারান্টি বা ওয়ারেন্টি কার্ড, যাতে মানুষ কোম্পানির দোষ না দেয়।
এখন এই একই বিষয়টা একবার হিউম্যান ব্রেনের ক্ষেত্রে ভাবুন। হিউম্যান ব্রেন যদি ভালো কাজে একই রকম মজা পেতে শুরু করে যেমনটা সে খারাপ কাজে পায়, তাহলে পৃথিবীতে প্রায় সবাই সফল হয়ে যাবে। কেউ ভুল পথে পা বাড়াবে না, কেউ অলস হবে না, কেউ হাল ছেড়ে দেবে না। আর তখন কি হবে জানেন? এই লাইটের ব্যবসার মতোই এই প্রকৃতির ব্যবসা বা সিস্টেমটাও বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ যদি সবাই পরীক্ষায় পাস করে, তাহলে পরীক্ষা নেওয়ার প্রয়োজনটাই বা কি? আমি জানি, এখন আপনার মনে হচ্ছে আমি একটু কঠিন কথা বলছি, কিন্তু ভাইজান, সত্যটা প্রায়ই একটু তেতোই হয়।
যাইহোক, এখন প্রশ্ন একটাই— আমাদের করণীয় কি? কি করলে আমাদের ব্রেন যেভাবে খারাপ কাজে মজা পায়, ঠিক সেইভাবেই ভালো কাজেও মজা পেতে শুরু করবে? কারণ একটা কথা তো পরিষ্কার, যদি এটা ঘটানো যায়, তাহলে সফল হওয়া, ধনী হওয়া, সম্পদশালী হওয়া— এই শব্দগুলো আর স্বপ্ন থাকবে না, এগুলো আমাদের কাছে পানির মতো সহজ হয়ে যাবে। আর জানলে অবাক হবেন, এই অসম্ভব ব্যাপারটি কিছুটা হলেও সম্ভব করার জন্য আপনার ভেতরে হাজারটা নয়, কেবলমাত্র একটা পরিবর্তন আনতে হবে। যে একটা পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছিল লাজলো পলগার।
এই মানুষটা কোনো বিজ্ঞানী, বিলিয়নিয়ার বা জন্মসূত্রে অসাধারণ প্রতিভাবান ছিলেন না। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি এমন একটা কাজ করেছিলেন, যেটা আজও পুরো পৃথিবীকে অবাক করে। ১৯৬০ সাল, এই মানুষটি হঠাৎ করে অদ্ভুত এক কাজ শুরু করেন। তিনি অসংখ্য মেয়েকে চিঠি লিখতে থাকেন। চিঠির ভেতরের কথাগুলো ছিল এমন— "আমি আপনাকে বিয়ে করতে চাই, কারণ আমি এমন সন্তান চাই যাকে আমি নিজ হাতে ট্রেনিং দেবো, যেন সে পৃথিবীর সবচেয়ে সফল মানুষ হয়। আর এই পুরো প্রক্রিয়াটাকে আমি পরে রিসার্চ হিসেবে পাবলিশ করবো। আপনি কি এই এক্সপেরিমেন্টকে সফল করার জন্য আমাকে বিয়ে করবেন?"
ভাবুন একবার, এমন চিঠি পেলে আপনি কি ভাবতেন? স্বাভাবিকভাবেই প্রায় প্রত্যেকটা মেয়েই 'না' বলে রিপ্লাই দিল, কেউ কেউ তো সরাসরি তাকে পাগল বলেও আখ্যা দিল। কিন্তু এই মানুষটা থামলেন না, না, একদমই না। তিনি চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকলেন এবং ভাগ্যক্রমে একটা তরুণী হাঙ্গেরিয়ান মেয়ে তার এই অদ্ভুত প্রস্তাবে রাজি হলেন, যার নাম ক্লারা। সময় গড়াতে লাগলো, ১৯৬৯ সালে ক্লারা জন্ম দিলেন তাদের প্রথম কন্যা সন্তান সুসানকে।
এবার লাজলোর আসল কাজ শুরু হলো। তিনি গভীরভাবে ভাবতে লাগলেন, কোন ফিল্ডটা বেছে নিলে তার মেয়েকে পৃথিবীর সবচেয়ে সেরাদের একজন বানানো যাবে। অনেক চিন্তা করে তিনি একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছালেন— ফিল্ডটা হবে চেস। কারণ চেস এমন একটা খেলা যেখানে জয় আর পরাজয় একদম পরিষ্কার। কে জিতলো, কে হারলো— এ নিয়ে কোনো তর্ক নেই। কিন্তু যদি তিনি আর্ট, সাহিত্য অথবা নোবেলের মতো কোনো ফিল্ড বেছে নিতেন, তাহলে সাফল্যটা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যেত, কারণ সেগুলো চেসের মতো এতটা নির্ভুল নয়।
এই সিদ্ধান্তের পর লাজলো নিজেই চেস খেলা শুরু করলেন, কারণ অন্য কাউকে দিয়ে নয়, তিনি নিজ হাতে তার মেয়েকে ট্রেনিং দিতে চেয়েছিলেন। সুসানকে তিনি স্কুলে পাঠাননি, তার পড়াশোনা শুরু হয় ঘরের ভেতরেই, আর চার বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই সুসানের চেস ট্রেনিং শুরু হয়ে যায়। সময়ের সাথে সাথে সুসান এই খেলাটা উপভোগ করতে শুরু করে, ফলাফল পাঁচ বছরে পা দেওয়ার আগেই সে শত শত ঘণ্টার প্র্যাকটিস শেষ করে ফেলে।
কিছুদিন পর লাজলো সুসানকে একটি লোকাল চেস কম্পিটিশনে নামিয়ে দেন, যে কম্পিটিশনে সুসানের প্রতিপক্ষরা ছিল তার চেয়ে দ্বিগুণ বয়সী মেয়েরা। কিন্তু তারপরও একটার পর একটা ম্যাচ জিততে থাকে ছোট্ট সুসান, ফাইনাল স্কোর দাঁড়ায় ১০-০। পুরো হল স্তব্ধ, সবাই ভাবতে শুরু করে— এই মেয়েটার নিশ্চয়ই জন্মই হয়েছে চেস খেলার জন্য। কিন্তু আসল সত্যটা শুধু একজন মানুষই জানতেন, লাজলো। তিনি জানতেন, এটা কোনো জন্মগত প্রতিভা নয়, এটা ছিল পরিকল্পিত প্র্যাকটিসের ফল।
১৯৭৪ সালে ক্লারা তাদের দ্বিতীয় কন্যা সন্তানের জন্ম দেন, নাম রাখা হয় সোফিয়া। এর ঠিক দুই বছর পর, ১৯৭৬ সালে জন্ম নেন তৃতীয় মেয়ে জুডিত। সোফিয়া আর জুডিত ছোটবেলা থেকেই দেখতো তাদের বড় বোন সুসান কিভাবে প্রতিদিন বাবার কাছে দাবা শিখছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ওরাও এই খেলাটা খেলতে চাইতো। কিন্তু লাজলো খুব পরিষ্কার একটা নিয়ম বানিয়েছিলেন— পাঁচ বছর হওয়ার আগে কোনো ট্রেনিং নয়। তাই যখন দুই বোন পাঁচ বছর পূর্ণ করলো, তখন থেকেই তাদের জীবনে যোগ হলো কেবল একটাই শব্দ— দাবা, দাবা আর দাবা।
সময়ের সাথে সাথে এই তিন বোন যখন টিনএজে পা রাখে, ততক্ষণে তারা প্রত্যেকেই হাজার হাজার ঘণ্টার ডেডিকেটেড প্র্যাকটিস শেষ করে ফেলেছে। ফলাফল, মাত্র ১২ বছর বয়সেই সুসান আন্ডার-সিক্সটিন ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়ন হয়ে যায়। এরপর মাত্র দুই বছরের মধ্যেই সে হয়ে ওঠে বিশ্বের টপ-রেটেড ফিমেল চেস প্লেয়ার, আর ১৯৯১ সালে ইতিহাসের প্রথম নারী হিসেবে সে অর্জন করে গ্র্যান্ডমাস্টার টাইটেল, যেটা দাবা জগতের সর্বোচ্চ সম্মান।
একই গল্প যেন পুনরায় লেখা হয় দ্বিতীয় বোন সোফিয়ার ক্ষেত্রেও। সে জেতে আন্ডার-ফোরটিন চ্যাম্পিয়নশিপ, চেস অলিম্পিয়াড এবং একের পর এক প্রেসটিজিয়াস টুর্নামেন্টের গোল্ড মেডেল। কিন্তু সবাই চমকে যায় তখন, যখন মাত্র ১৪ বছর বয়সেই সে স্যাক অফ রোম টুর্নামেন্টে একজন টপ গ্র্যান্ডমাস্টারকে হারিয়ে দেয় এবং টানা আটটা ম্যাচ জিতে নেয়।
তবে সবচাইতে বড় বিস্ময়টা আসে সবার ছোট বোন জুডিতের হাত ধরে। সে ইতিহাসে পুরুষ ও নারী দুটো ক্যাটাগরিতেই সবচেয়ে কম বয়সে গ্র্যান্ডমাস্টার হয়। এমনকি সে টানা ১০ বছর ধরে বিশ্বের নাম্বার ওয়ান চেস প্লেয়ারের জায়গাটা ধরে রাখে, যেভাবে বিল গেটস টানা ১৩ বছর বিশ্বের শীর্ষ ধনীর জায়গাটা ধরে রেখেছিলেন।
এরপর যখন পলগার সিস্টার্সের এই পুরো গল্পটা জনসম্মুখে আসে— যে কিভাবে তাদের বাবা লাজলো এই ফিল্ডে ডেডিকেটেড প্র্যাকটিস করিয়ে তিনজন সাধারণ শিশুকে অবিশ্বাস্যভাবে সফল বানিয়েছেন, তখন মানুষ একটা সত্য মেনে নিতে বাধ্য হয়— ডেডিকেটেড প্র্যাকটিস থাকলে যেকোনো বর্ন ট্যালেন্টকেও হারানো সম্ভব। আর যারা এভাবে একটা নির্দিষ্ট ফিল্ডে মাস্টারি অর্জন করে, তাদেরকে বলা হয় শেপড লার্নার।
তাই আপনি যদি এই ধরনের শেপড লার্নার হতে পারেন, তবে আপনি সাফল্যের যেকোনো উচ্চতায় পৌঁছাতে পারবেন। কারণ শেপড লার্নারদের কাছে ম্যাটার করে না সে যা করছে তা ভালো লাগছে না খারাপ, সে শুধু জানে এটা করতেই হবে। আর এই কাজে তাকে সাহায্য করে তার চারপাশের ফ্রেন্ডলি পরিবেশ, যেটা লাজলো তার তিন মেয়ের জন্য তৈরি করেছিল।
কিন্তু আমি জানি, আমরা এমন পরিবেশ পাওয়ার মতো ভাগ্যবান নই, কারণ আমাদের মাঝে অনেকেরই ফ্যামিলি প্রবলেম রয়েছে, টাকার সমস্যা রয়েছে, কেউ ঋণে ডুবে আছে, কেউ বা দুই বছর আগের ব্রেকআপ পেইন এখনো বয়ে বেড়াচ্ছে। তাহলে প্রশ্ন হলো— আমাদের করণীয় কি? কি করলে আমরা যেকোনো ফিল্ডেই সফল হতে পারবো? একটাই উপায়।
আপনার নিশ্চয়ই 'গেম অফ থ্রোনস'-এর সেই ফেমাস ডায়লগটা মনে আছে, যেখানে মাস্টার এমন জন স্নো-কে বলেছিলেন,
"Kill the boy, Jon Snow. And let the man be born."
এই কথার অর্থটা বোঝার জন্য চলুন আমরা আমাদের প্রিয় কার্টুন ডোরেমনের দিকে তাকাই। ডোরেমনের নোবিতা এমন একটা ক্যারেক্টার ছিল, যে ডোরেমনের গ্যাজেট ছাড়া একটা কাজও করতে পারতো না। কিন্তু একদিন কি হয়, নোবিতা প্রতিদিনের মতো কাঁদতে কাঁদতে ডোরেমনের কাছে আসে, সাহায্য চায়। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যে নোবিতা রিয়ালাইজ করে, ডোরেমন কোনো কথারই উত্তর দিচ্ছে না। সে ভয় পেয়ে যায় আর ডোরানির সাথে কন্টাক্ট করে। ডোরামি বলে, ডোরেমনের ব্যাটারি শেষ হয়ে গেছে, কারণ ডোরেমন ছিল ফিউচার থেকে আসা একটা রোবট। এটা শুনে নোবিতা বলে, কোনো বিষয় না, আমি ফিউচারে গিয়ে এই ব্যাটারিটা নিয়ে আসবো। কিন্তু ডোরামি বলে, ফিউচারের গভর্মেন্ট ফিউচারে যাওয়ার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
এটা শুনে নোবিতা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। সে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডোরেমনের সামনে একা একাই কথা বলতে থাকে, কাঁদতে থাকে। ঐ সময় নোবিতার কাছে মাত্র দুইটা রাস্তা ছিল— হয় সে সারাজীবনের জন্য ডোরেমনকে হারিয়ে ফেলবে, অথবা নিজেই সেই ব্যাটারি তৈরি করবে। এন্ড গেস হোয়াট হি চোজ! সে নিজেই ব্যাটারি বানানোর সিদ্ধান্ত নেয়। সে ঠিক করে, যাই হয়ে যাক ডোরেমনকে আমি ফিরিয়ে আনবোই। ঐদিন তার একটা ডিসিশন থেকেই 'বয়'-এর মৃত্যু হয়, 'ম্যান'-এর জন্ম হয়।
এরপর নোবিতা পুরোপুরি বদলে যায়। লেখাপড়াতে মনোযোগী হয়, পুরো ইউনিভার্সিটিতে টপ করে, আর সে এতটাই পরিবর্তন হয়ে যায় যে, যে শিযুকার সাথে এক মুহূর্ত কথা বলার জন্য সে পাগল হয়ে থাকতো, এখন সেই শিযুকার উপস্থিতিও আর তাকে প্রভাবিত করে না। ফলস্বরূপ, একদিন সে ব্যাটারি বানিয়ে ফেলে এবং ডোরেমনকে ফিরিয়ে আনে।
ঠিক যেভাবে জন স্নো-ও বদলে গিয়েছিল মাস্টার এমনের বলা ঐ কথার পর। একজন সাধারণ ভীরু, অন্যের সিদ্ধান্তের বাইরে চলতে না পারা ছেলেটাই অসংখ্য যুদ্ধের নেতৃত্ব দেয়; সশস্ত্র বাহিনীর সামনে কোনো প্রকার মৃত্যুভয় ছাড়া একাই দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকে। কারণ সে তার পুরোনো ভার্সনকে ধ্বংস করে নিজের সেরা ভার্সনে ট্রান্সফর্ম হয়েছিল।
তাই বলতে পারেন আমাদের প্রশ্নটাই ভুল। প্রাকৃতিক নিয়মকে ছেড়ছাড় করা যায় না। আপনি নিষিদ্ধ কাজগুলোতে যেমন ভালো লাগার অনুভূতি পাবেন, ভালো কাজগুলোতে তা কখনোই পাবেন না। কিন্তু হ্যাঁ, আপনি নিজেকে এমনভাবে পরিবর্তন করতে পারেন যেন প্রকৃতির এই নিয়ম আপনার জন্য লঘু হয়ে যায়, এবং সফলতা, প্রতিপত্তি ও টাকা— সবকিছুই আপনার কদম স্পর্শ করে।
যাইহোক, আর্টিকেলটা হয়তো একটু মোটিভেশনাল টাইপের হয়ে গেল, যদিও আমি মোটিভেশন খুব একটা পছন্দ করি না।
