![]() |
| টাইম মেশিন – এইচ. জি. ওয়েলস |
লেখক পরিচিতি
বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর জগতে যাঁরা পথিকৃৎ হিসেবে স্বীকৃত, তাঁদের তালিকার শীর্ষেই থাকবেন এইচ. জি. ওয়েলস (H. G. Wells)। “The Time Machine”, “The Invisible Man”, “The War of the Worlds”–এমন আরও অসংখ্য অসাধারণ সাই-ফাই রচনার জনক তিনি। আধুনিক সায়েন্স ফিকশনের ধারণা, গঠন ও বৈজ্ঞানিক ভাবনার ভিত্তি তৈরি হয়েছে মূলত তাঁর হাত ধরেই।
লেখকের জন্ম ও শৈশব
• পূর্ণ নাম: হার্বার্ট জর্জ ওয়েলস (Herbert George Wells)
• জন্ম: ২১ সেপ্টেম্বর ১৮৬৬, কেন্ট, ইংল্যান্ড
• বাবার চাকরি ও মায়ের গৃহপরিচারিকার কাজ মিলিয়ে খুব সাধারণ পরিবারে তাঁর বেড়ে ওঠা।
• ছোটবেলায় দুর্ঘটনায় পায়ের হাড় ভেঙে যাওয়ায় দীর্ঘদিন বিছানায় ছিলেন—আর সেই সময়ই তিনি বইয়ের প্রতি অদ্ভুত প্রেম অনুভব করেন। পরবর্তীতে এই বই-পড়ার অভ্যাসই তাঁকে লেখালেখির পথে নিয়ে আসে।
শিক্ষা ও কর্মজীবন
ওয়েলস প্রথমে শিক্ষকতার কাজ দিয়ে পেশাগত জীবন শুরু করেন। পরে বিজ্ঞান নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং জীববিদ্যা (Biology) বিষয়ে পড়াশোনা করেন।
তাঁর গুরু ছিলেন বিখ্যাত জীববিজ্ঞানী থমাস হেনরি হাক্সলি (T. H. Huxley)—যার প্রভাব পরবর্তীতে তাঁর লেখায় স্পষ্ট দেখা যায়।
বিজ্ঞানচিন্তা, সমাজচিন্তা, মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ—এসব বিষয়কে কেন্দ্র করেই তিনি তাঁর সাহিত্য তৈরি করেন।
সাহিত্যজীবন ও গুরুত্বপূর্ণ রচনা
এইচ. জি. ওয়েলসের প্রথম উপন্যাস “The Time Machine” (১৮৯৫) প্রকাশের পরই তিনি দুনিয়াজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। এরপর একে একে প্রকাশিত হয়—
- The Island of Doctor Moreau
- The Invisible Man
- The War of the Worlds
- The First Men in the Moon
- The Shape of Things to Come
তাঁর প্রতিটি রচনায় দেখা যায় শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক ভিত্তি, কল্পনাশক্তি এবং মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর দার্শনিক প্রশ্ন।
পুরস্কার ও সম্মাননা
যদিও তাঁর সময়ের তুলনায় আধুনিক সাই-ফাই ধারণা অতিপ্রগতিশীল ছিল, তবুও তিনি জীবদ্দশায় পেয়েছেন অসংখ্য সম্মান ও মর্যাদা।
- ১৯৪৫ সালে তাঁকে Nobel Prize in Literature–এর জন্য মনোনীত করা হয়েছিল।
- তাঁর লেখা বহুবার চলচ্চিত্র, রেডিও, থিয়েটার ও টেলিভিশনে রূপান্তরিত হয়েছে।
- বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর “Father of Modern Science Fiction” উপাধি তিনি জুল ভার্নের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন।
মৃত্যু
• মৃত্যু: ১৩ আগস্ট ১৯৪৬, লন্ডন
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি লেখালেখি চালিয়ে যান এবং সমাজ-সভ্যতার ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করতেন।
টাইম মেশিন – এইচ. জি. ওয়েলস (Time Machine by H. G. Wells)
“The Time Machine” শুধু একটি বিজ্ঞান কল্পকাহিনী নয়—এটি ভবিষ্যৎ মানবসভ্যতার দার্শনিক বিশ্লেষণ, সময় ভ্রমণের প্রথম সাহিত্যিক ধারণা এবং সমাজবৈষম্যের তীক্ষ্ণ প্রতিচ্ছবি। ১৮৯৫ সালে লেখা হলেও আজও বইটি সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
বইটি সম্পর্কে সংক্ষেপে
উপন্যাসের প্রধান চরিত্র একজন বিজ্ঞানী—যাকে আমরা ‘Time Traveller’ নামে চিনি। তিনি এমন একটি যন্ত্র তৈরি করেন যা তাঁকে ভবিষ্যতের হাজার হাজার বছর পরের পৃথিবীতে নিয়ে যায়। সেখানে তিনি দুটি ভিন্ন মানবগোষ্ঠী—Eloi এবং Morlock–এর সঙ্গে পরিচিত হন। ভবিষ্যৎ পৃথিবীর সভ্যতা, বৈষম্য, ভয় এবং মানবজাতির পরিণতি তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়।
এই গল্প শুধু সময় ভ্রমণ নয়—এটি মানবজাতির ভাগ্য কোথায় গড়াচ্ছে তার এক শীতল কিন্তু বাস্তবসম্মত চিত্র।
কারা এই বইটি পড়বেন?
বিজ্ঞান কল্পকাহিনীপ্রেমী
যারা ভিন্নধর্মী সাই-ফাই, ভবিষ্যৎ কল্পনা এবং প্রযুক্তিভিত্তিক গল্প ভালোবাসেন—তাদের জন্য এটি মাস্টারপিস।
দর্শন ও সমাজব্যবস্থা নিয়ে আগ্রহী পাঠক
বইটি ভবিষ্যৎ সমাজের শ্রেণিবিভাজন, মানব আচরণ, প্রযুক্তি-নির্ভরতা এবং সভ্যতার পতনের দার্শনিক বিশ্লেষণ তুলে ধরে।
শিক্ষার্থী ও গবেষক
সময় ভ্রমণ ধারণা, সমাজবিজ্ঞান, প্রযুক্তির প্রভাব—এসব বিষয়ে যাদের পড়াশোনা রয়েছে, তাদের জন্য এটি রেফারেন্স হিসেবে উপযোগী।
যারা ছোট কিন্তু গভীর গল্প খুঁজছেন
এই উপন্যাসটি বড় নয়, কিন্তু ভাবনাচিন্তার গভীরতা অত্যন্ত শক্তিশালী।
এই বই থেকে কী শেখা যায়?
১. সময় ভ্রমণের কল্পবিজ্ঞান
ওয়েলস প্রথমবারের মতো সময় ভ্রমণকে বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে ব্যাখ্যা করেন—যা পরবর্তীতে আধুনিক সাই-ফাইয়ের ভিত্তি তৈরি করেছে।
২. প্রযুক্তি ও সভ্যতার ভবিষ্যৎ
সভ্যতা উন্নত হলেও মানবিক দুর্বলতা এবং সামাজিক বৈষম্য ভবিষ্যতে কী রূপ নিতে পারে—তার ভয়ঙ্কর ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
৩. শ্রেণিবিভাজনের পরিণতি
Eloi ও Morlock সমাজের দুটি চরম অবস্থানকে দেখায়—
- একদিকে দুর্বল, ভোগে অভ্যস্ত শ্রেণি
- অন্যদিকে পরিশ্রমী কিন্তু অন্ধকারে থাকা শক্তিশালী শ্রেণি
এটি পাঠককে ভাবায়—আজকের সমাজও কি একই পথে হাঁটছে?
৪. মানবজাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা
শেষদিকে যে ধ্বংসপ্রাপ্ত পৃথিবীর চিত্র Time Traveller দেখে—তা মানব সভ্যতার অস্তিত্বের ওপর এক গভীর প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়।
কেন এই বই লেখা হয়েছিল?
১. শিল্পবিপ্লবের সমাজবৈষম্য তুলে ধরতে
ওয়েলস তাঁর সময়ে দেখেছিলেন—ধনী ও গরিবের ব্যবধান দ্রুত বাড়ছে। তিনি ভবিষ্যতে এ ব্যবধান কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে পারে—তারই কল্পনার রূপ দিয়েছেন।
২. মানব সভ্যতার দিকনির্দেশনা নিয়ে প্রশ্ন তোলার জন্য
তিনি সতর্ক করেছেন—যদি মানবজাতি ভুল পথে অগ্রসর হয়, প্রযুক্তি আর আরামের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভর করে, তবে শেষ পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ।
৩. বিজ্ঞানসম্মত কল্পনা দিয়ে সাহিত্যকে নতুন পথে নেওয়ার জন্য
“Time Machine”–এর মাধ্যমে প্রথমবার সময়কে “চতুর্থ মাত্রা” হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। এতে সাহিত্য ও বিজ্ঞানের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়।
টাইম মেশিন – এইচ. জি. ওয়েলস (Time Machine by H. G. Wells)
এইচ. জি. ওয়েলসের “The Time Machine” শুধু একটি কল্পবিজ্ঞান উপন্যাস নয়—এটি মানবসভ্যতার আয়না, ভবিষ্যতের সতর্কবার্তা এবং মানুষের অহংকারকে প্রশ্ন করার এক অনন্য সাহিত্য।
ওয়েলস যেভাবে সময় ভ্রমণের ধারণাকে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন, তা তাঁকে "Father of Modern Science Fiction" উপাধি এনে দিয়েছে। আজ সময় ভ্রমণ নিয়ে যে অসংখ্য উপন্যাস, সিনেমা ও বিজ্ঞানচর্চা আমরা দেখি—তার সূচনা হয়েছিল এই বইয়ের হাত ধরেই।
বইটি কেন আজও এত গুরুত্বপূর্ণ?
সময়ভ্রমণের প্রথম সাহিত্যিক ভিত্তি
আজকের টাইম-ট্রাভেল গল্পগুলো মূলত ওয়েলসের ধারণাকে বিস্তৃত করেছে।
মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর ভাবনা
Eloi ও Morlock–এর ভবিষ্যৎ সমাজ আসলে আমাদের বর্তমান সমাজব্যবস্থার চরম রূপ—এমনটাই ভাবতে বাধ্য করে।
প্রযুক্তি–সমাজ–সভ্যতার সংযোগ
ওয়েলস দেখিয়েছেন, প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, যদি মানবিকতা হারিয়ে যায়—তবে সভ্যতাও ধ্বংসের মুখোমুখি হয়।
ছোট বই, কিন্তু গভীর বার্তা
মাত্র একটি ছোট উপন্যাসে তিনি ভবিষ্যৎ, সমাজ, বিজ্ঞান, মানব মনস্তত্ত্ব—সবকিছু মিশিয়েছেন নিখুঁতভাবে।
পাঠকের জন্য শেষ কথা
যারা সাই-ফাই ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি অবশ্যপাঠ্য।
যারা দর্শন পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি চিন্তার খোরাক।
যারা মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে কৌতূহলী, তাদের জন্য এটি গবেষণার উৎস।
বইটি আপনাকে শুধু ভবিষ্যতের ভয়ানক দৃশ্যই দেখায় না—এটি আপনাকে আজকের সমাজকেও নতুনভাবে দেখতে শেখায়।
সময়, সভ্যতা এবং মানুষের বিকাশ কতটা নাজুক—তা বুঝতে এই বই যথেষ্ট।
📘 আপনার প্রিয় বইটি এখন ডাউনলোড করুন
বইয়ের নাম: The Time Machine – H.G. Wells
"The Time Machine" হলো সাই-ফাই সাহিত্যের ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয় একটি ক্লাসিক বই। ভবিষ্যতের রহস্য, টাইম-ট্রাভেল, সভ্যতার বিবর্তন—সব মিলিয়ে এ বইটি পাঠকদের এক অন্য জগতে নিয়ে যায়। এখানে পাচ্ছেন বইটির একটি ডাউনলোডযোগ্য সংস্করণ।
আপনি যা পাবেন:
- PDF ভার্সন
- স্মার্টফোন-ফ্রেন্ডলি রিডিং
- হাই-রেজোলিউশন কভার
