এআই কি মানুষের মিথ্যা ধরতে পারে? প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত ও বাস্তবতা

এআই কি মানুষের মিথ্যা ধরতে পারে? প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত ও বাস্তবতা


​মানুষের মনস্তত্ত্ব আর প্রযুক্তির মেলবন্ধন এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যা কয়েক বছর আগেও কল্পনা করা অসম্ভব ছিল। আমি গত কয়েক বছরে এআই (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যে বিবর্তন দেখেছি, তাতে একটি প্রশ্ন বারবার সামনে আসছে— এআই কি মানুষের মিথ্যা ধরতে সক্ষম?

​বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং করপোরেট ইন্টেলিজেন্সের ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষিতে এই বিষয়টি এখন আর কেবল সায়েন্স ফিকশন নয়, বরং বাস্তব আলোচনার দাবি রাখে।

​এআই কীভাবে মিথ্যা শনাক্ত করে? (Expert Insights)

​প্রথাগত 'লাই ডিটেক্টর' বা পলিগ্রাফ টেস্ট মূলত মানুষের হার্টবিট বা রক্তচাপের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। কিন্তু এআই আরও এক ধাপ এগিয়ে। এটি মূলত তিনটি স্তরে কাজ করে:

  1. মাইক্রো-এক্সপ্রেশন অ্যানালাইসিস: মানুষ যখন মিথ্যা বলে, তখন তার মুখে এক সেকেন্ডের ভগ্নাংশ সময়ের জন্য কিছু পরিবর্তন আসে (যেমন চোখের মণির নড়াচড়া বা ঠোঁটের কাঁপুনি)। এআই ক্যামেরা এই সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলো ধরতে পারে।
  2. ভয়েস স্ট্রেস অ্যানালাইসিস: কণ্ঠস্বরের কম্পন এবং পিচ পরিবর্তনের মাধ্যমে এআই বুঝতে পারে বক্তা কি স্বাভাবিক নাকি চাপে আছেন।
  3. এনএলপি (Natural Language Processing): মিথ্যাবাদীরা সাধারণত বাক্য গঠনে একটু ভিন্নতা আনে। তারা সরাসরি উত্তর এড়িয়ে যায় বা অতিরিক্ত তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। চ্যাটজিপিটি বা গুগল জেমিনির মতো শক্তিশালী মডেলগুলো টেক্সট প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করে মিথ্যার ইঙ্গিত পেতে পারে।

​বাংলাদেশে এর প্রাসঙ্গিকতা ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

​আমাদের দেশে বর্তমানে ব্যাংকিং সেক্টর, ই-কমার্স ফ্রড ডিটেকশন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এআই-এর ব্যবহার বাড়ছে। বিশেষ করে FinTech কোম্পানিগুলো লোন দেওয়ার ক্ষেত্রে গ্রাহকের তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ে এআই চালিত ভেরিফিকেশন সিস্টেম ব্যবহার শুরু করেছে। এটি বাংলাদেশের ডিজিটাল ইকোনমিকে আরও নিরাপদ করছে।

​এআই কি ১০০% নির্ভুল?

বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী— না। এআই একটি শক্তিশালী টুল, কিন্তু এটি অজেয় নয়। এর কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে:

  • বায়াসনেস (Biasness): যদি ডেটাসেটে ভুল থাকে, তবে এআই ভুল সিদ্ধান্ত দিতে পারে।
  • সাংস্কৃতিক ভিন্নতা: একজন বাঙালির কথা বলার ধরন আর একজন ইউরোপীয়র ধরন এক নয়। স্থানীয় প্রেক্ষাপট না বুঝলে এআই ভুল করতে পারে।
প্রো টিপ: এআই-কে বিচারক হিসেবে নয়, বরং একজন দক্ষ সহকারী হিসেবে দেখা উচিত। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সবসময় মানুষের বিচারবুদ্ধির মাধ্যমেই আসা প্রয়োজন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন